
রাজ্য-রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা নিয়ে নিজের মতো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন টলিপাড়ার অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। স্পষ্ট কথা বলতে একেবারেই পিছুপা হননা অভিনেতা। আর এর কারণে তাঁকে মাঝে মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার পারদ বেশ তুঙ্গে। কখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবার কখনও বা অমিত শাহ, রাজ্যে এঁদের ঘন ঘন জনসভা ইতিমধ্যেই রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে। শুধু তাই নয়, বাঙালি নস্টালজিয়াতে সুড়সুড়ি দিয়েছেন মোদীজি। বঙ্গসফরে এসে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহার করেন নরেন্দ্র মোদী। ভোরবেলাতে গঙ্গায় নৌকায় চড়ে শহর তিলোত্তমার রূপে মুগ্ধ মোদী। সেই ছবি শেয়ার করেছেন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গঙ্গায় নৌকাবিহার নিয়ে একের পর এক চর্চা। ট্রোল-মিম শেষ হচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক এইসব যখন চলছে, তখন মোদীর গঙ্গাভ্রমণ নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না ঋত্বিক। নিজের স্টাইলেই করলেন পোস্ট।
নৌকাবিহারে মোদীর লুকস বেশ নজরকাড়া। পরনে সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, চোখে সানগ্লাস আর গায়ে শাল। হাতে ডিএসএলআর ক্যামেরা। সরাসরি নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন ঋত্বিক। আসলে বঙ্গে এখন তীব্র গরম আর সেই গরমে মোদীজির শাল পরা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। অভিনেতা তাঁর পোস্টে লেখেন, 'সিনটা হচ্ছে-ঠাঠাপোড়া গরমে নদীতে নৌকায় বসে ক্যামেরা হাতে ছবি তুলছে গজেন্দ্র! কিন্তু কস্টিউম যিনি করেছেন তিনি এই তীব্র গরমে ওর গায়ে একটা শাল আর ফটোগ্রাফি করার সময়ে চোখে সানগ্লাস দিয়ে বুঝিয়েছেন প্র্যাক্টিকালি ড্রামা চলছে। তাই গুণীজনেরা বলেন শুধু অভিনেতা একা একটা সিন কে উতরে দিতে পারে না সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এমন কি দর্শকেরও।'
ঋত্বিকের এই ফিল্মি স্টাইলে করা পোস্টে উল্লেখ গজেন্দ্র যে আসলে কে তা বুঝতে কারোর বাকি নেই। তাঁর এই পোস্টে তিনি নরেন্দ্র মোদীকে অভিনেতা বানিয়েছেন। ঋত্বিকের এই পোস্ট সামনে আসতেই হইচই নেটপাড়ায়। একদিকে যেমন এই পোস্ট নেটিজেনের একাংশের ভাল লেগেছে তেমনি মোদীকে খোঁচা মারায় অভিনেতাকেও ট্রোলড হতে হয়েছে। ঋত্বিকের এই পোস্ট শেয়ার হয়েছে হু হু করে। আর এতে লাইক পড়েছে ৭ হাজারের বেশি।
শুক্রবারের সকালে গঙ্গায় নৌকাবিহারের পর প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব এক্স হ্যান্ডেলে সেসব প্রভাতী ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছিলেন। গঙ্গার সঙ্গে ভারতীয় সভ্যতা বিকাশের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের কথা মনে করিয়ে তিনি লেখেন, ‘প্রত্যেক বাঙালির কাছে গঙ্গা নদী বরাবর বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। বলা যায়, বাংলার আত্মার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এই নদী। তার পবিত্র জলধারায় সভ্যতার অন্তহীন কাহিনি লুকিয়ে রয়েছে। আজ সকালে কলকাতায় থাকাকালীন আমি কিছুটা সময় কাটালাম হুগলি নদীতে। মা গঙ্গাকে প্রণাম জানানোর সুযোগ পেলাম। একইসঙ্গে মাঝি এবং প্রাতভ্রমণকারীদের সঙ্গেও দেখা হল, শুভেচ্ছা বিনিময় হল। বিশেষ করে মাঝিদের কঠোর পরিশ্রম দেখে আমি মুগ্ধ। এই হুগলি নদী আমাকে বাংলা এবং বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।’ তবে মোদী এই গরমে কেন শাল পরেছেন, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে চলছে কাঁটাছেঁড়া।