
পথটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সেটাই প্রমাণ করতে এবার এগিয়ে এলেন সুচেতনা ভট্টাচার্য। সুচেতনার আরও একটি পরিচয় হল তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কন্যা। সুচেতনা নিজের মনের ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করতে চলেছেন। নিজেকে ইতিমধ্যেই সুচেতন বলে পরিচয় দিয়েছেন বুদ্ধ-কন্যা। আর তারপর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-ট্রোল। বুদ্ধ-কন্যার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই যেমন সাধুবাদ জানিয়েছেন তেমনি অনেকেই সমালোচনাও করেছেন। তবে সুচেতনা ওরফে সুচেতন কিন্তু একা নন। সমাজে আজও প্রতিপদে হেনস্থা হতে হয় রূপান্তরকামী, সমকামী শ্রেণীর মানুষদের। তবে বুদ্ধ-কন্যার পাশে আছেন টলিউডের অন্যতম অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।
জনপ্রিয় অভিনেতা হলেও আজও কোথাও যেন সুজয় প্রসাদের দিকেও সমাজের অন্য রকম দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে। তাঁর সাজ-পোশার, কথা বলার ধরন আজও সেভাবে মেনে নিতে পারেনি এই সমাজ। আইনি স্বীকৃতি পেলেও আজও সমাজের কাছে মেলেনি গ্রহণযোগ্যতা। এক সাক্ষাৎকারে বেলাশেষ অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন যে তাঁর মধ্যে নারী-পুরুষ দুই সত্ত্বাই রয়েছে। তিনি তাঁর মতো করে জীবনকে দেখেন এবং সেভাবেই বাঁচেন। সুচেতনা ভট্টাচার্যের লিঙ্গ পরিবর্তন করা নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তা মোটেই সমর্থন করেন না সুজয় প্রসাদ।
bangla.aajtak.in-কে সুজয় প্রসাদ অকপটে বলেন, 'আমার একটা কথাই বলার আছে যে এটা তো ওঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আমি কিছু বলার জায়গায় নেই। সুচেতনা কীভাবে জীবন যাপন করবে, ও কীভাবে জীবনকে দেখবে, ও কীভাবে ওঁর অস্তিস্তকে দেখে, এটা তো ওঁর ব্যক্তিগত একটা সিদ্ধান্ত। হ্যাঁ, এটা আমার মনে হয় যে আরও কিছু মানুষ অনুপ্রাণিত হবে। তবে যেহেতু সুচেতনা ভট্টাচার্যের একটি রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে, তার জন্যই বেশি করে ওঁকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।' সুজয় প্রসাদ আরও বলেন যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মেয়ে বলেই সুচেতনাকে নিয়ে এত আলোচনা, কথা হচ্ছে। তবে সুচেতনা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ওঁর এই সাহস অনেককে এই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
প্রসঙ্গত, বছর দুই আগে শহরের এক অভিজাত ক্লাবে রীতিমতো হেনস্থা করা হয়েছিল সুজয় প্রসাদকে। আসলে এই ধরণের হোমোফোবিয়া কালও ছিল, আজও আছে, চিরকাল থাকবে। সহজে কারও ভিতর থেকে হোমোফোবিয়া যায় না। অবশ্যই এটা নির্ভর করে আপনার মানসিকতার পর। ট্রান্সজেন্ডার এবং সমকামীরাও যে মানুষ তা আমাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই বিশ্বাস করি না। আর যে কারণে কেউ যদি তাঁর সেক্স চেঞ্জ করতে চান, তখনই ওঠে একাধিক সমালোচনা, ফিসফাস।
প্রসঙ্গত, ‘প্রাইড মান্থে’ শহরের একটি ‘এলজিবিটিকিউ’ কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন বুদ্ধদেব-কন্যা৷। সেখানেই এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তারপরেই প্রকাশ্যে আসে এই খবর। সেখানেই নিজেকে সুচেতন বলে পরিচয় দিয়েছেন সেখানে। সুচেতনার পাশে দাঁড়িয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তীও। তিনি সুচেতনার উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন যে এটা খুবই সাহসী পদক্ষেপ।