
টলিপাড়ার প্রথম সারির নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম রুক্মিণী মৈত্র। তাঁর টোল পড়া মিষ্টি হাসিতেই সবাই কুপোকাৎ। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে একটু একটু করে পা জমাচ্ছেন নায়িকা। গত বছর পরিচালক রামকমল মুখোপাধ্যায়ের 'বিনোদিনী: একটি নটীর উপাখ্যানে' নাম চরিত্রে অভিনয় করে রুক্মিণী তাঁর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। সেই সঙ্গে দীর্ঘ ১৪১ বছর পর ‘বঞ্চিত’ বিনোদিনীর নামে ‘স্টার থিয়েটার’-এর নামকরণ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নিজের নামও বদলে ফেললেন রুক্মিণী।
নায়িকার সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোতে চোখ রাখলেই দেখা যাবে এখন আর তিনি রুক্মিণী মৈত্র নন। আসলে ইংরাজিতে মৈত্র পদবী থেকে একটি অক্ষর সরিয়ে ফেলেছেন রুক্মিণী! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। Maitra থেকে এখন শুধু Maitr। শেষের A টিকে বাদ দিয়ে ফেলেছেন দেব-প্রেয়সী। তবে এখানে রুক্মিণী তাঁর পুরো নাম বদলাননি, শুধু পদবীতে বদল এনেছে। এটা যে কেরিয়ারের স্বার্থেই করেছেন, তা বলাই বাহুল্য।
বর্তমানে অনেক তারকাই সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউমারোলজি মেনে নিজের নামে অতিরিক্ত বর্ণ যোগ করেন কিংবা নাম থেকে কোনও বর্ণ বাদ দেন। বলিউড তারকাদের মধ্যে এই চল বহু আগে থেকেই রয়েছে। এখন তা টলিউড তারকাদের মধ্য়েও দেখা যাচ্ছে। সংখ্যাতত্ত্ব মেনে নাম বদল করলে তা কেরিয়ারের ওপর বড় প্রভাব পড়ে বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই অনেক তারকা নিজের নামে আমূল পরিবর্তন আনেন। আচমকা নাম বদলের কারণ প্রসঙ্গে অবশ্য কিছু ব্যাখ্যা দেননি রুক্মিণী। তবে পেশাগতভাবে যে নিজের পরিচয় যে বদলে ফেললেন তা তো দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট।
প্রসঙ্গত, এর আগেও টলিউডের অনেক তাবড় তাবড় তারকারা নিজেদের নাম বদলে ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অরুণ কুমার থেকে উত্তম কুমার, দীপক অধিকারী থেকে দেব, জীতেন্দ্র থেকে জিৎ সহ কুমার শানু, কিশোর কুমার, বাপি লাহিড়ী, বাবুল সুপ্রিয়, শান এঁরা সকলেই তাঁদের আসল নাম বদলে এই নামেই পরিচিতি পেয়েছেন। আর সেই নাম বদলানোর নেপথ্যে কারণ এক ও অভিন্ন, কেরিয়ারে উন্নতি। রুক্মিণী কারও পরামর্শে নামবদল করলেন নাকি সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্ত সেটা এখনও অজানা।বর্তমানে ব্র্যান্ডের কাজ ও শ্যুটিংয়ের জন্য ঘন ঘন মুম্বই যাতায়াত করছেন রুক্মিণী। একইসঙ্গে সিনেমা এবং বিজ্ঞাপনের কাজ সামলাতে রুক্মিণী যে সিদ্ধাহস্ত সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না।