
জুলাই মাসের শেষের দিকেই টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট, যা TRP নামে পরিচিত, সেটার জটিলতা কেটে যাওয়ার খবর আগেই পাওয়া গিয়েছিল। গত একমাস ধরে এই টিআরপি বন্ধ ছিল। কিন্তু সেই জটিলতা কাটার বেশ কিছুদিন পরও ফেরেনি টিআরপি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলা টেলিভিশনের সিরিয়াল ও নন-ফিকশন শোগুলি ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে তা জানা যায়নি। একপ্রকার আশঙ্কায় দিন কাটছে ধারাবাহিকের কলা-কুশলীদের। আর এরই মাঝে শুরু হয়েছে কিছু নতুন সিরিয়াল, ফরম্যাট বদলেছে কিছু শোয়ের। কিন্তু এতকিছুর পরও টিআরপিতে সেই সিরিয়াল ও শো ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে তা জানার কোনও উপায় এখনও পর্যন্ত নেই। কিন্তু সমস্যা সমাধানের পরও কেন এখনও টিআরপি আসছে না?
TRP কী?
টেলিভিশন দুনিয়ায় ধারাবাহিক ও রিয়্যালিটি শোগুলির জনপ্রিয়তা কতটা, তা জানার একমাত্র উপায় এই টিআরপি। কোন ধারাবাহিক দর্শকদের মন জয় করেছে, কোন সিরিয়াল পিছিয়ে গিয়েছে আর কোন চ্যানেল ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে, তা জানার জন্য প্রতি সপ্তাহে এই টিআরপির দিকেই সবাই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকে। প্রতি সপ্তাহেই টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট আসে। তাই এই তালিকা প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে গত এক মাস ধরে অনিশ্চয়তায় ছিল টেলিভিশন শিল্পের বড় অংশ। জুলাই শেষে টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট (TRP) নিয়ে চলা আইনি জট কেটে যায়। সকলেই ভেবেছিল এবার হয়ত স্বাভাবিক হবে টিআরপি। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ কেটে গেলেও দেখা নেই TRP-এর।
২৭ অগাস্ট থেকে টিআরপি?
একটি অসমর্থিত সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে যে বিআরসি (BARC) রেটিং নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২৭ অগাস্ট বা তার কাছাকাছি কোনও দিন থেকে টিআরপি পুনরায় চালু হতে পারে। তবে এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে এখনও। জানা যাচ্ছে, যদি দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে ২৭ অগাস্টের মধ্যেই প্রথম রেটিংয়ের পরিসংখ্যান সামনে আসতে পারে। আর কোনও কারণে দেরি হলে টিআরপি আরও এক সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে পারে।
কেন বন্ধ ছিল টিআরপি?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল 'ল্যান্ডিং পেজ ভিউয়ারশিপ'। অর্থাৎ, সেট-টপ বক্স চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই যে চ্যানেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্দায় ভেসে ওঠে, সেই চ্যানেলের দর্শকসংখ্যাও এতদিন টিআরপি গণনায় যুক্ত হতো। কেন্দ্রের নতুন নীতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় বা অনিচ্ছাকৃত ভিউয়ারশিপ আর টিআরপি হিসাবের অংশ হবে না। এবার থেকে শুধুমাত্র দর্শক নিজের ইচ্ছায় যে চ্যানেল নির্বাচন করে দেখবেন, সেটাই রেটিং নির্ধারণে বিবেচিত হবে। ফলে টিআরপি আরও স্বচ্ছ এবং প্রকৃত দর্শক পছন্দের প্রতিফলন ঘটাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে কেরল হাইকোর্ট 'টেলিভিশন রেটিং পলিসি, ২০২৬'-এর উপর জারি থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। যার ফলে মনে করা হচ্ছিল টিআরপি আবার স্বাভাবিকভাবে সামনে আসবে। কিন্তু এখন সেটা কবে আসে, কতটা দেরি লাগে, সেইদিকেই নজর।