Advertisement

TRP Of Bengali Television: TRP ডেটা নেই ৩ মাস ধরে, বাংলা টেলিভিশনে কী প্রভাব? টেলি তারকারা যা বলছেন...

প্রতি বৃহস্পতিবার মানেই যেন বাংলা টেলিভিশনের সিরিয়াল ও শোগুলোর রেজাল্ট আসার দিন। তারকা থেকে পরিচালক-প্রযোজকেরা সকলেই তীর্থের কাকের মতো এই দিনটার অপেক্ষায় থাকতেন। তবে বহুমাস ধরেই সেই TRP-এর দেখা নেই।

টিআরপি নিয়ে কী বলছেন তারকারা?টিআরপি নিয়ে কী বলছেন তারকারা?
মৌমিতা ভট্টাচার্য
  • কলকাতা,
  • 27 Oct 2026,
  • अपडेटेड 3:13 PM IST
  • টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট, যা TRP নামে পরিচিত, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সেটি বন্ধ।

টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট, যা TRP নামে পরিচিত, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সেটি বন্ধ। যদিও জুলাই মাসের শেষেই এই টিআরপি সংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, এখনও বাংলা টেলিভিশন টিআরপি থেকে অনেক দূরে। বেশ কয়েক মাস ধরেই আসছে না TRP। যার ফলে কোন সিরিয়াল ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, কোন নন-ফিকশন শো দর্শকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে, তা বুঝতে কেউই পাচ্ছেন না। TRP না আসার ফলে টেলি দুনিয়ার তারকারা স্বস্তিতে আছেন নাকি দুঃশ্চিন্তা আরও বেড়েছে? এই নিয়েই bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে কথা বললেন টেলিভিশন তারকারা। 

প্রতি বৃহস্পতিবার মানেই যেন বাংলা টেলিভিশনের সিরিয়াল ও শোগুলোর রেজাল্ট আসার দিন। তারকা থেকে পরিচালক-প্রযোজকেরা সকলেই তীর্থের কাকের মতো এই দিনটার অপেক্ষায় থাকতেন। তবে বহুমাস ধরেই সেই TRP-এর দেখা নেই। সুতরাং কোন সিরিয়াল কেমন ফল করেছে, তা বোঝার উপায় নেই। TRP আসছে না বলে প্রতি বৃহস্পতিবারের টেনশটা গায়েব নাকি চাপা অস্বস্তি রয়েছে? কী বলছেন অরিজিতা, আরাত্রিকা ও রণজয়?   

অরিজিতা মুখোপাধ্যায়
'নিম ফুলের মধু' সিরিয়ালে 'বাবুর মা' চরিত্রে অভিনয় করে একটা সময় ভাল টিআরপি টেনেছিল এই সিরিয়ালটি। এখন অরিজিতা মুখোপাধ্যায়কে দেখা যায় 'কুমকুম' সিরিয়ালে। TRP প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, 'টিআরপি যে নেই এতে দু'ধরনের ঘটনা ঘটছে। টিআরপি না আসার ফলে আমরা বুঝতে পারছি না, টেলিভিশনের দর্শকদের ফিডব্যাকের ওপরই তো নির্ভর করে এটা এবং টিআরপি কম এলে ভাল করার চেষ্টা আবার ভাল এলে আরও ভাল করার চেষ্টা, এগুলো আমরা সব সময়ই করি। আমাদের মধ্যে অনেকের যাঁদের অতীতে ধারাবাহিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, তাঁদের সিরিয়াল একটা সময় টপার থেকেছে, তাঁদের কাছে সব সময়ই টিআরপি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোথাও না কোথাও গিয়ে এই টিআরপি আসাটা প্রয়োজন আছে বলেও মনে করি। এটা তো একটা রেটিং, না হলে বোঝা যায় না দর্শক কতটা আমাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সেদিক থেকে মনে করি যে টিআরপি আসা ভীষণ প্রয়োজন। না হলে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভাল করার জায়গাটা, ধারাবাহিক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা বোঝা মুশকিল হয়। টিআরপি না আসার দরুণ কিছুই বুঝতে পারছি না, ফলে মনের মধ্য়ে দোটানা ভাব চলছে।' এরই সঙ্গে অভিনেত্রী এও বলেন, 'বৃহস্পতিবার করে একটা রেজাল্ট বেরোনোর টেনশন হত, সেই টেনশনটা এখন নেই। সেটা স্বস্তির বলতে পারবো না, কারণ আমি কোথাও না কোথাও গিয়ে রেটিং-এর আশা রাখি। টিআরপি আসছে না, এটা ব্যক্তিগতভাবে ভাল লাগে না। হ্যাঁ, স্বস্তিতে কাজ হচ্ছে, আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। এই মুহূর্তে বৃহস্পতিবার করে রেজাল্ট আসছে না, তবে চাই এটা আসুক। তাহলে নিজেদের খামতিটাও বোঝা যাবে। টিআরপি অবশ্যই দরকার। তবে কাজে ফাঁকি হচ্ছে না।'  

Advertisement

আরাত্রিকা মাইতি
'খেলনা বাড়ি', 'মিঠিঝোরা' আর এখন 'জোয়ার ভাঁটা'। আরাত্রিকার এই তিন সিরিয়ালই বেঙ্গল টপারে ছিল। 'জোয়ার ভাঁটা'র উজি টিআরপি নিয়ে বলেন, 'আমরা স্বস্তিতে নেই। কারণ শেষ যবে টিআরপি আসা বন্ধ হয়েছিল, সেই সপ্তাহেও জোয়ার ভাঁটা বেঙ্গল টপে ছিল। তারপরেই হুট করে টিআরপি আসা বন্ধ হল। আজকে আসছে না ঠিকই, কিন্তু যেদিন আসবে সব একসঙ্গে আসবে, এটুকু জানি আমি। কাজেই টিআরপি আসছে না মানে এটা বোঝা যাচ্ছে না যে কোন সিরিয়াল কেমন চলছে, কার কত রেটিং আছে।' আরাত্রিকার কথায়, 'রেটিং না আসার পরও কিন্তু অনেক সিরিয়াল বন্ধ হচ্ছে আবার নতুন সিরিয়াল শুরু হচ্ছে। তার মানে ভেতরে তো কিছু তো একটা আসছে, যার ভিত্তিতে এই পার্থক্যটা করা যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে স্বস্তিতে একেবারেই নেই। বৃহস্পতিবার করে সবাই যেমন অপেক্ষা করতো কার সিরিয়াল কোথায় দাঁড়িয়ে, সেটা এখন নেই। তবে যেদিন আসবে, সেদিন একসঙ্গে আসবে, তখনই বোঝা যাবে কোন সিরিয়ালে কে কতটা পারফর্ম করছে। একটা হল প্রতি সপ্তাহের চাপ আর একটা হল যেদিন আসবে সেদিন একবারে চাপটা পড়বে, বিষয়টা একই। এই মুহূর্তে প্রতি সপ্তাহের প্রতিযোগীতার চাপটা নেই।' 

রণজয় বিষ্ণু
'গুড্ডি', 'প্রতিজ্ঞা', 'কোন গোপনে মন ভেসেছে' সহ একাধিক সিরিয়ালের লিড চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণজয় বিষ্ণু। টিআরপি চার্টে তাঁর সিরিয়ালও ভাল নম্বরে ছিল একটা সময়ে। যদিও এই টিআরপি নিয়ে ভাবতে রাজি নয় 'প্রতিজ্ঞা'র নায়ক। তিনি বলেন, 'ব্যবসার কথা আলাদা। তবে আমার পয়েন্ট অফ ভিউ অন্যরকম ছিল প্রথমদিন থেকেই। আমি বহুদিন ধরে টিআরপি নিয়ে মাথা ঘামাই নি। যদি কোনও সময় আমাদের সিরিয়াল বেঙ্গল টপার হয়, তখন আমাকে বলা হবে দারুণ বিষয় আর ভগবান না করে যখন সেটা তলানিতে গিয়ে ঠেকে, তখনও দায়িত্ব আমার ওপরই বর্তাবে। তাই আমার মনে হয় আমাদের সকলেরই নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে, আমরা টাকা-পয়সা নিয়ে কাজ করি, আমাদের যতটা কাজ ঠিক ততটাই করব, এরপর আমাদের আর হাত নেই, এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা। সেই জন্য আমি কোনওদিনই টিআরপি নিয়ে মাথা ঘামাই না।' অভিনেতা আরও বলেন, 'টিআরপি কম হোক বা বেশি হোক, সেটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না, সেটা যাঁরা ব্যবসা বোঝে তাঁরা বুঝবে। প্রযোজকরা যদিও এই টিআরপির দিকেই তাকিয়ে থাকেন, কারণ ওটা তাঁদের কাছে মাপকাঠি। আমি প্রথম প্রথম এটা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করলেও, এখন বিষয়টা থিতিয়ে গেছে।'   

TRP কী?
টেলিভিশন দুনিয়ায় ধারাবাহিক ও রিয়্যালিটি শোগুলির জনপ্রিয়তা কতটা, তা জানার একমাত্র উপায় এই টিআরপি। কোন ধারাবাহিক দর্শকদের মন জয় করেছে, কোন সিরিয়াল পিছিয়ে গিয়েছে আর কোন চ্যানেল ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে, তা জানার জন্য প্রতি সপ্তাহে এই টিআরপির দিকেই সবাই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকে। প্রতি সপ্তাহেই টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট আসে। তাই এই তালিকা প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে গত কয়েক মাস ধরে অনিশ্চয়তায় রয়েছে টেলিভিশন শিল্পের বড় অংশ। জুলাই শেষে টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট (TRP) নিয়ে চলা আইনি জট কেটে যায়। সকলেই ভেবেছিল এবার হয়ত স্বাভাবিক হবে টিআরপি। কিন্তু গত কয়েক মাসেও দেখা নেই TRP-এর। 

Advertisement

কেন বন্ধ ছিল টিআরপি?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল 'ল্যান্ডিং পেজ ভিউয়ারশিপ'। অর্থাৎ, সেট-টপ বক্স চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই যে চ্যানেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্দায় ভেসে ওঠে, সেই চ্যানেলের দর্শকসংখ্যাও এতদিন টিআরপি গণনায় যুক্ত হতো। কেন্দ্রের নতুন নীতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় বা অনিচ্ছাকৃত ভিউয়ারশিপ আর টিআরপি হিসাবের অংশ হবে না। এবার থেকে শুধুমাত্র দর্শক নিজের ইচ্ছায় যে চ্যানেল নির্বাচন করে দেখবেন, সেটাই রেটিং নির্ধারণে বিবেচিত হবে। ফলে টিআরপি আরও স্বচ্ছ এবং প্রকৃত দর্শক পছন্দের প্রতিফলন ঘটাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে কেরল হাইকোর্ট 'টেলিভিশন রেটিং পলিসি, ২০২৬'-এর উপর জারি থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। যার ফলে মনে করা হচ্ছিল টিআরপি আবার স্বাভাবিকভাবে সামনে আসবে। কিন্তু এখন সেটা কবে আসে, কতটা দেরি লাগে, সেইদিকেই নজর।


 

Read more!
Advertisement
Advertisement