
প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসাবে নয়, বরং নাইট ক্লাবের শিল্পী হিসাবেই শুরু হয়েছিল কেরিয়ার। তবে বিশেষ ধরনের কণ্ঠ বা ভয়েস টেক্সচার প্রথম থেকেই তাঁর পরিচয় আলাদা করে দিয়েছে শ্রোতাদের কাছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের মন জয় করছেন তিনি। কথা হচ্ছে, অন্যতম পপ শিল্পী ঊষা উত্থুপকে নিয়ে। হঠাৎ শিরোনামে গায়িকা। তাঁর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। যার ফলে নিজেই সাফাই দিলেন শিল্পী।
ভারতের অন্যতম কিংবদন্তি গায়িকা ঊষা উত্থুপ হঠাৎ এক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। ঊষার একটি কনসার্টের ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভিডিওটিতে তাঁর জনপ্রিয় গান 'দিদি গো' গাইতে দেখা যাচ্ছে। অনেক নেটিজেন ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, ঊষা নাকি ২০২৬-র নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। এই বিতর্ক নিয়ে এবার মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঊষা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অনুগামী ও সঙ্গীতপ্রেমীদের উদ্দেশে একটি বার্তা শেয়ার করে ঊষা লিখেছেন, "ট্যুইটার (বর্তমানে X) এবং হোয়াটসঅ্যাপে একটি পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে আমার শুধু এটুকুই বলার আছে- দয়া করে আমাকে অকারণে এমন একটি বিতর্কের মধ্যে জড়াবেন না, যার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনও সম্পর্ক নেই।" শিল্পী ক্যাপশনে আরও লেখেন, "যে গানটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছ, সেই গানটি আমি গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে গেয়ে আসছি। আমি কখনওই কলকাতা ছেড়ে মুম্বইতে চলে যাইনি। আমি সব সময়ই কলকাতাতেই বসবাস করি।"
এই ঘোষণার পাশাপাশি ঊষা আরও জানিয়েছেন যে, আলোচিত এই গানটি একটি আরবি সুরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বাংলা গান, যা তিনি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গেয়ে আসছেন। শিল্পী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৭৬ সাল থেকেই তিনি কলকাতায় বসবাস করছেন এবং কাজ করছেন। তিনি এই শহরটিকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।
কেন ঊষার গান নিয়ে বিতর্ক?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঊষা উত্থুপের একটি কনসার্টের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটির এক জায়গায় গানের কথায় 'দিদি গো' শব্দবন্ধটি শোনা যায়। উল্লেখ্য, এই বাংলা গানটি যে আরবি সুরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সেই মূল আরবি গানটিই সম্প্রতি রণবীর সিংয়ের 'ধুরন্ধর ২' ছবিতে তাঁর এন্ট্রি বা প্রবেশের দৃশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ঊষার ভিডিওটি শেয়ার করে এক নেটিজেন লিখেছেন, "দিদি গো গানটি গেয়ে ঊষা উত্থুপ সম্ভবত 'দিদি'-কে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কটাক্ষ করেছেন, কারণ তিনি এক সময় বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। মনে রাখার মতো বিষয়, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে ঊষার বিভিন্ন শো বা অনুষ্ঠান থেকে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ নাকি জোরপূর্বক চাঁদা হিসেবে আদায় করা হতো। এই কারণেই তিনি কলকাতা ছেড়ে মুম্বইতে পাড়ি দিয়েছিলেন। আর এখন তিনি আবার ফিরে এসেছেন।" এই পোস্টটি এবং এ ধরনের আরও বেশ কিছু পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যার ফলে ঊষাকে বাধ্য হয়েই এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলতে হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালে ঊষা উত্থুপের যাত্রা শুরু হয়। বলিউডে গান গাওয়া আরও কিছুটা পরে।আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ঊষা বলেন, যখন আর ডি বর্মনের মতো মানুষেরা তাঁর কথা শুনেছিলেন, তখন বেশ অবাক হয়েছিলন। কারণ একজন মাদ্রাসি মেয়ে এভাবে গাইছেন, এটাই তাঁদের অবাক করেছিল। এছাড়া তাঁর বিশেষ ধরনের কণ্ঠও তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে। পরবর্তী ক্ষেত্রে অবশ্য বলি দুনিয়ায় নিজের জমি মজবুত করেন দক্ষিণী এই শিল্পী।