
নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে অগ্নিগর্ভ বারুইপুর। পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে ১২ বছরের নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পুলিশ-প্রশাসন ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় আবারও রোষের আগুন জ্বলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির তারকারাও নিজেদের মতো করে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। এবার বারুইপুর কাণ্ডে একটু অন্যরকমভাবে প্রতিবাদী হলেন অভিনেত্রী পৌষমিতা গোস্বামী।
বাংলা টেলিভিশনের খুবই পরিচিত মুখ পৌষমিতা। ২০২৪ সালে স্বামীকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী। এবার নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে তিনি নিজের শৈশবের কিছু সংবেদনশীল মুহূর্তকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন। নিজের সেই শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে তিনি সেই সময় কী অনুভব করেছিলেন, সেটাই জানালেন তিনি। পৌষমিতার দীর্ঘ পোস্ট থেকে জানা গিয়েছে যে তিনি দশ বছর বয়সেই রজঃস্বলা হয়েছিলেন এবং মা-বাবার হাত ধরে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর প্রথমবার অপরিচিত পুরুষের স্পর্শে যৌন অস্বস্তি অনুভব করার আতঙ্ক যেন আরও একবার গ্রাস করল তাঁকে! পৌষমিতা জানিয়েছেন সেই ঘটনার পর অনেক কিছুই বদলে গিয়েছিল তাঁর দশ বছরের জীবনে।
পৌষমিতা জানিয়েছেন যে হয়তো বারুইপুরের ওই নাবালিকার ক্ষেত্রেও একই অনুভূতি। পৌষমিতা বলেন, একটা মেয়ের যখন পেলভিক বোনের মধ্যে থাকা যৌনাঙ্গের মূল্য বোঝার বোধশক্তিই তৈরি হয় না তখনই তাঁর শরীরের উপর অকথ্য অত্যাচার! বারুইপুরকাণ্ডের এই নৃশংসতার প্রেক্ষিতে আরও লেখেন, ‘সর্বশেষ, যখন মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম, এরপর থেকে প্রতি মাসের পাঁচটি নির্দিষ্ট দিনে আমি এই পিরিয়ড সাইকেলের মধ্যে দিয়ে যাব আমার মরে যেতে ইচ্ছে হয়েছিল। কারন, এই পুরো ঘটনাটার জন্যে আমার থেকে কেউ অনুমতি নেয়নি। সবটা হল আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে। অনুমতি, শরীর স্পর্শ, যৌনতা, কাম এগুলো সব আলাদা শব্দ হলেও, একটা ইকো সিস্টেমের মধ্যেই পরে। আমি যখন ১০ বছর বয়সে রজস্বলা হলাম আমার যৌন চাহিদাই তৈরি হয়নি। শরীরকে আলাদা করে চিনিই না। আমি জানিই না মেয়েদের পেলভিক বোনের মধ্যে থাকা যৌনাঙ্গের দাম সারাজীবন ধরে মেয়েদের বিভিন্নভাবে দিতে হয়।
পৌষমিতা আরও বলেন, যে মেয়েটি ১৩ বছর বয়সে কালে ধর্ষিতা হল সে কী নিজের শরীরটাকে নিজেই চিনে ওঠার সময় পেয়েছিল? হয়তো রজস্বলা হয়েছিল। কত প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলেছে ওইটুকু বয়সে। এই সময় বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার বয়স। শারিরীকভাবে, মানসিকভাবে। গনধর্ষন করে খুন। একটা পেলব শরীর যে সবে মুগ্ধতার ভাষা শিখছে। শরীর টের পাচ্ছে কিন্তু মন টের পাচ্ছে না। সেই শরীরটাকে ছিঁড়ে, খুবলে, টেনে হিঁচড়ে শেষ করে দিল কিছু ধর্ষক। তারা আমাদের মতোই কেউ, আমাদের আশেপাশেই গা ঢাকা দিয়ে থাকে। আমরা বুঝতেই পারি না। নাকি বুঝতে চাই না! পোস্ট শেষে রাজ্য সরকারের কাছে অভিনেত্রী বিশেষ দাবি জানিয়ে বলেছেন, ধর্ষকদের চিহ্নিত করে কন্যা সন্তানদের মায়েদের হাতে, আমাদের হাতে তুলে দিন রাজ্য সরকার। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট কাকে বলে সারা পৃথিবীকে নিদর্শন দিয়ে যাব। অনুরোধ আপনারা ধর্ষকদের ধরার পর জনতার থেকে লুকিয়ে শাস্তি দেবেন না। ময়দানে ধরে নিয়ে আসুন। আমরা টিকিট কেটে দেখতে যাবো ওদের একের পর এক অঙ্গহানি। কথা দিলাম। বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন ঋদ্ধি সেন, শ্রীলেখা মিত্র, সুদীপ্তা চক্রবর্তী সহ আরও অনেকেই।