
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির রং বদলাতে শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই EIMPA সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে চেয়ার ছাড়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন বিজেপি সমর্থিত একদল প্রযোজক। এই নিয়ে টলিপাড়ার কাজিয়া কিন্তু তুঙ্গে। আর এরই মধ্যে শোনা গেল, আর্টিস্টস ফোরামে পদত্যাগপত্র দিলেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। অভিনেতা আর্টিস্ট ফোরামে সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। ইতিমধ্যেই ফোরামের পক্ষ থেকে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে দিগন্তের ইস্তফা গ্রহণ করেছে সংগঠন। যদিও তাঁকে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
সংবাদমাধ্যমকে দিগন্ত বাগচী তাঁর ইস্তফা দেওয়া নিয়ে জানিয়েছেন যে এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর মনে হচ্ছে না এই মুহূর্তে ফোরামের কার্যকরী সদস্য হিসাবে থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অভিনেতা এও বলেছেন যে তাঁর নামে কিছু কথা রটানো হয়েছে যে তিনি নাকি ৭ মে-এর পর আর্টিস্ট ফোরাম ভেঙে দেবেন, যেটা একেবারেই মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। দিগন্ত এই ফোরামে সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, প্রতি মাসের দ্বিতীয় রবিবার সংগঠনের সাধারণ বৈঠক বসে। ১০ মে, রবিবারও সেই বৈঠক বসেছিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক, কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, ভরত কল, সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, সহ-সম্পাদক চন্দন সেন, রানা মিত্র, যুগ্ম সম্পাদক দেবদূত ঘোষ, আবীর চট্টোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়-সহ সদস্যরা। নানা বিষয়ের পাশাপাশি এ দিন দিগন্তের ইস্তফার প্রসঙ্গটিও ওঠে। এর পর সেটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
আর্টিস্টস ফোরামের কমিটি গঠন হওয়ার পর এই প্রথম কোনও ব্যক্তি রেজিগনেশন দিলেন। সংবাদমাধ্যমকে দিগন্ত বাগচী জানিয়েছেন যে তিনি ফেব্রুয়ারিতেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাকিরা বলেন অপেক্ষা করতে। এবার তাঁর রেজিগনেশন গৃহীত হয়েছে। শনিবার রাতেই অভিনেতা তাঁর ইস্তফাপত্র মেল করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় অভিনেতাকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে ‘দিদি ঘনিষ্ঠ’ হিসাবেই পরিচিত।
দিগন্ত সরে যাওয়ার পর সেই পদে কে আসবেন, তা এখনও জানানো হয়নি। এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি, আর্টিস্টস ফোরামের তরফে। ১০মে আর্টিস্টস ফোরামের একটি বৈঠক ছিল। সেখানে দিগন্ত বাগচীর রেজিগনেশনের বিষয়টা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।