
রাজনীতিতে আসার জন্য একরকমভাবে অভিনয় জীবনকে টাটা বাই বাই বলেছিলেন অভিনেত্রী তথা বরানগরের প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সময় বরানগরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক পদ পেয়েছিলেন সায়ন্তিকা। কিন্তু মাত্র দুবছর সেই সুখ কপালে জুটল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আদা জল খেয়ে প্রচারে নামলেও বিজেপির সজল ঘোষের কাছে হারতে হয় অভিনেত্রীকে। গত ৪ মে-এর পর অনেক সমীকরণই বদলে গিয়েছে। সায়ন্তিকা সহ তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের হার তাঁদের জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। রাজ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে তিনি আর রাজনীতিতে থাকবেন না। সেই পথেই এবার হাঁটলেন সায়ন্তিকাও। রাজনীতির ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে ফের বিনোদন জগতে ফিরতে ইচ্ছুক অভিনেত্রী। আর সেই প্রস্তুতি নিতেই দেখা গেল দেব-জিতের নায়িকাকে।
৪ মে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর পরই সায়ন্তিকা তাঁর ফেসবুকের কভার পেজের ছবি বদলে নেন। যেখানে এতদিন রাজনৈতিক ছবি দেখা গিয়েছিল, সেই ছবি সরিয়ে সায়ন্তিকা তাঁর মাচা শোয়ের একটি ছবি সেখানে দিয়েছেন। আর এই ছবি থেকে এটাই স্পষ্ট যে তিনি এখন তাঁর আগের জায়গাতেই ফিরতে চাইছেন। দু-একদিন আগে জ্বরে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখান থেকে সুস্থ হতেই জিমে ফিরলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সায়ন্তিকা জিম করার ছবি শেয়ার করেছেন। হ্যাশট্যাগ দিয়ে রিকভারি লিখেছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারেও সায়ন্তিকা জানিয়েছেন যে তিনি আবার অভিনয়ে ফিরতে চান। গত কয়েক বছর রাজনীতির ময়দানে কড়া রোদে ঘুরে বেরিয়েছেন। ফলে শরীরচর্চায় অনেকটাই ফাঁক পড়েছে। ওজনও বেড়েছে অভিনেত্রীর। রাজনীতিতে নামার পর সেভাবে আর শরীরের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়ে ওঠেনি। সায়ন্তিকা জানিয়েছেন যে তিনি এবার নিজের পুরনো জায়গায় ফিরতে চান। তাঁর কথায়, আমার যে পেশা অভিনয়, সেটাতেই মন দিতে চাই। তার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই, নিজের শারীরিক গঠন ঠিক করতে চাই। আবার নিজেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে চাই।’
সায়ন্তিকা রিয়্যালিটি শো নাচ ধুম মাচা লে-এর মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখেন। অভিনেত্রীর প্রথম সিনেমা টার্গেট। এরপর হ্যাংওভার, বিন্দাস, হিরোগিরি, পাওয়ার, কেলোর কীর্তি, অভিমান, উমা, ব্যোমকেশ পর্ব-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নকাব’ ছবিতে শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করেন। পরবর্তীকালে, ২০২৩ সালে একটি বাংলাদেশী ছবিতে অভিনয়ের জন্য আলোচনায় থাকলেও, প্রযোজকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কাজ শেষ না করেই ফিরে আসেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বাঁকুড়া থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে হেরে যান।