
'নমস্কার, কেমন আছেন সবাই...', সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভ্যর্থনার সঙ্গে কমবেশি সকলেই পরিচিত। বিশ্বজুড়ে প্রায় সব প্রবাসী বাঙালিদের কাছে মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর 'প্রবাসে ঘরকন্না' দারুণ জনপ্রিয়। বিদেশে তাঁর দিন যাপনের ভিডিও দেখতে এবং তার সঙ্গে সেখানকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করে সকলের ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছিলেন মহুয়া। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর একটি ভ্লগিং নিয়ে নেটপাড়ায় চর্চা তুঙ্গে। শাশুড়ির মৃত্যুর ভ্লগ বানিয়ে বিতর্কে মহুয়া। পরিবারের এমন দুঃখের সময়েও তিনি কেন এরকম ভিডিও বানালেন, নেট দুনিয়ায় প্রশ্নের মুখে এই ইনফ্লুয়েন্সার।
করোনা কালে মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের শুরু করা এই ভ্লগিং-এর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। প্রবাসে ঘরকন্না নামের এই চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার ও ফলোয়ার্স সংখ্যা নেহাত কম নয়। মহুয়া মূলতঃ তাঁর দৈনন্দিন জীবনের সাতকাহন তুলে ধরেন নিজের পেজে। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রবাসে ঘরকন্নার চ্যানেলে এরকম ভিডিও দেখে সকলেই বেশ হতচকিত। কয়েকদিন আগেই মহুয়ার শাশুড়ি প্রয়াত হন। সেই খবর পেয়ে পরিবারকে নিয়ে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন।
তবে সেই শোকের সময়ও তিনি নিজের ক্যামেরা বন্ধ করেননি। ভ্লগ তৈরি করেছেন। সেই ভিডিওর হেডলাইন, হঠাৎ করে দেশে ফেরা...মা আর নেই। এই ভিডিওর থাম্ব দেখে অনেকেই মনে করতে পারেন যে মহুয়ার নিজের মা প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু আসলে তা নয়, মহুয়ার শাশুড়ি মারা গিয়েছেন। প্রবাসে ঘরকন্নার ইউটিউব চ্যানেল থেকে দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। যার একটার ভিউ ১.৫ মিলিয়ন আর একটার ভিউ ১ মিলিয়ন। ভিডিও দুটিতে মহুয়ার দেশে ফেরা থেকে শুরু করে শাশুড়ির দেহ দেখানো, এমনকি শেষকৃত্যের ভিডিও দেখান মহুয়া।
আর এই ধরনের ভিডিও দেখে মেজাজ হারিয়েছেন নেটপাড়ার একাংশ। তাঁদের সকলেরই প্রশ্ন এই ধরনের ভিডিও করার খুব কি দরকার ছিল মহুয়ার? নেটিজেনদের একাংশ রীতিমতো তুলোধনা করেছেন মহুয়াকে। কমেন্টে কেউ লিখেছেন, 'টাকা কামাতে মারা যাওয়া মানুষকেও ছাড়বে না।' কেউ লিখেছেন, 'চারজনের জন্য জরুরি বিমানের টিকিট কেনার জন্য তহবিল সংগ্রহের চমৎকার উপায়, মানুষ হিসেবে আপনারা লজ্জাজনক।' কেউ লিখেছেন, 'মানিকবাবুর (মহুয়ার স্বামী) মুখে হালকা হাসি বুঝিয়ে দিচ্ছে বুকের মধ্যে কি হচ্ছে।' সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো কাটাছেঁড়া চলছে ‘প্রিয়’ প্রবাসে ঘরকন্নাকে নিয়ে।
যদিও মহুয়া ভ্লগের শুরুতেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিছেন, ভাল মুহূর্ত যদি হয়, খারাপ মুহূর্তটাও তিনি তাঁর প্রবাসে ঘরকন্না পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করে নিলেন। তাঁর পরিবারের অনুরোধেই তিনি এই ভিডিও বানাচ্ছেন। মহুয়ার কথায়, তিনি এই ভিডিও থেকে রোজগার করবেন না। তাই ভিডিওটির মনিটাইজেশন বন্ধ করে রাখবেন। যদিও তা যে খুব একটা ভাল চোখে দেখল না নেটপাড়ার একাংশ, তা বর্তমানে স্পষ্ট। ভাইরাল হচ্ছে স্ক্রিনশট, ছড়িয়ে পড়ছে নানান কটূক্তি। তবে অনেকেই মহুয়াকে সমর্থন করে তাঁর পাশেও দাঁড়িয়েছেন।