
ধারবাহিকের ট্যাগলাইন ছিল 'সুখে-দুখে মিষ্টি মুখে মিঠাই'। তা সত্ত্বেও উচ্ছেবাবু ও তার তুফানমেইলের রিয়েল লাইফের রসায়ন মোটেও ভাল ছিল না। আড়ি- ভাব লেগেই থাকত 'সিঠাই'-র। সেই সময় জল্পনা ছড়ায় বন্ধু- কলিগ ছাড়াও আরও 'বিশেষ সম্পর্ক' রয়েছে তাঁদের। যদিও এই জল্পনাকে কখনও শিলমোহর দেননি সৌমিতৃষা কুণ্ডু বা আদৃত রায়। ধারাবাহিক শেষের দিকে দু'জনের মধ্যে তিক্ততা আরও বাড়ে। তবে স্টুডিও পাড়ায় আলোচনা হয়, পর্দার দিদিয়া- কৌশাম্বী চক্রবর্তীর সঙ্গে আদৃত কাছাকাছি আসায় নাকি তাঁর সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে মিঠাইরানির সঙ্গে।
আদৃত- কৌশাম্বীর বিয়েতেও নেমন্তন্ন ছিল না সৌমিতৃষার। এরপর টিম 'মিঠাই' বহুবার রিইউনিয়ন করলেও, সৌমিতৃষাকে দেখা যায়নি। এদিকে জুটির ভক্তদের মন ভারাক্রান্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা প্রায়ই দাবি করেন, ফের একসঙ্গে জুটিকে পর্দায় দেখার। এদিকে নতুন ছবিতে কাজ শুরু করছেন আদৃত। বৃহস্পতিবার ছিল সেই ছবির শুভ মহুরৎ। সংবাদমাধ্যমের তরফে আদৃতকে ফের প্রশ্ন করা হয়, তাঁর সঙ্গে সৌমিতৃষার দূরত্ব নিয়ে। বহুদিন পরে, নায়িকাকে নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা।
আদৃত বলেন, "সৌমিতৃষার সঙ্গে আমার সেরকম কোনও ঝামেলা হয়নি। যদি ওরকম ঝামেলা হতো, তাহলে আমরা একটা সিরিয়াল ২.৫ বছর ধরে কি টানতে পারতাম? আমরা দু'জনেই পেশাদার এটা ঠিক। কিন্তু আমরা তো এখানে বন্ধু বানাতে আসেনি। রোজ সকালে আমরা কাজ করতেই আসি। আমার অনেক বন্ধু আছে। যাদের সঙ্গে আমি ঘুরতে যাই। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের সঙ্গে আমি ঘুরে বেরাই না। যারা গত ৩০-৩১ বছর ধরে আমার বন্ধু, আমি তাঁদের সঙ্গেই ঘুরি।"
অভিনেতা আরও বলেন, "ও খুব ভাল সহশিল্পী।'মিঠাই'-র মতো এরকম একটা শো-তে সৌমিতৃষার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। আর ও ভীষণ কেয়ারিং, আন্তরিক। একে -ওপরের পিছনে লাগতাম আমরা সব সময়ই। ও খুব ভাল। আমার কখনও কোনও সমস্যা ছিল না। তবে আমরা বন্ধুও ছিলাম না। এমন না যে আমরা রোজ হ্যাং আউট করি বা রিল, এসব কখনও করিনি। আমাদের দু'জনের পছন্দ আলাদা। আমরা ভিন্ন রকমের দু'জন মানুষ। ওঁকে এমন অনেক জায়গায় দেখা যায়, যেখানে আমি কখনও যাই না। আমাদের দু'জনেরই কিছু ভাল- কিছু খারাপ জিনিস আছে। তার মানে এটা নয় যে, কেউ কাউকে অসম্মান করি। এটা মানুষ নিজেদের মনে মনে তৈরি করেছে।"
সত্যিই প্রেম ছিল আদৃত- সৌমিতৃষার? এপ্রসঙ্গে আগে নায়িকা বলেছিলেন, "একটা জুটি যখন হিট হয়ে যায়, আমার আর আদৃতের জুটি শুধু নয়, যতগুলো সিরিয়ালের জুটি হিট হয়েছে যখন, তখনই চর্চা হয়েছে তাঁদের নিয়ে। আসলে সব সময় রোম্যান্টিক সিন দেখছে তো, ওটা নিয়ে 'মিঠাই'-র যারা দর্শক তাঁরা কল্পনা করে ফেলে যে এঁদের মধ্যে কিছু একটা আছে, এঁদের সম্পর্ক তাহলে ভেঙে গেল। আমি আড়াই বছর আগে থেকে বলে আসছি, আমরা দু'জন কলিগ এবং ভীষণ ভাল বন্ধু। এতই ভাল বন্ধু যে, আমাদের মধ্যে মারপিট- ঝগড়া, কথা বলা বন্ধ তো এই কিছুক্ষণ পরে কথা শুরু হয়ে গেল। এই ধরনের একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল।"
সেসময়, অভিনেত্রীর কথায়, "ও আমার থেকে অনেকটা বড়। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা তুই- তুকারির সম্পর্ক ছিল। ওই জিনিসটা আমাদের দু'জনের দিক থেকেই কোনও দিনও ভাল লাগার পর্যায় যায়নি এবং আমরা ওই জন্যে কাজটাও ভাল ভাবে করতে পেরেছি। মান-অভিমান আমাদের সবসময় ছিল। এবার সমস্যাটা হল, আগে বলতে পারতাম, এখন বলতে পারি। কারণ ওঁরা ওঁদের সম্পর্কটা সব সময় প্রাইভেট রেখেছে। সেজন্যে আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলতে পারতাম না। ওঁদের দু'জনের প্রেম যখন থেকে শুরু হয়েছে, লোকে অনেক পড়ে একটু একটু করে যখন জানতে পারে, তারা ভেবে নেয় এজন্যেই আমাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছে হয়তো। কিন্তু না! আদৃত আর সৌমিতৃষার মধ্যে তো প্রথম থেকেই ঝামেলা।"
ধারাবাহিক চলাকালীন যখন ঝামেলা- কথা বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে সৌমিতৃষাকে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি জানিয়েছিলেন, "যদি কথা বন্ধও থাকে, আপনাদের কি সিনে কোনও সমস্যা হচ্ছে? আমাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে, কাজের জীবন আছে। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। যদি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে কোনও সমস্যা হয়, আর সেটার প্রভাব কাজের জায়গায় না পড়ে, তাহলে কারও কোনও সমস্যা হওয়া উচিত না।"
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ বিরতির পরে অভিনয়ে ফিরছেন আদৃত। তাঁকে এবার দেখা যাবে নতুন ছবিতে। আশিস কুমার পরিচালিত এই ছবির নাম 'ফিরে এসো অনুরাধা'। এছবিতে এছাড়াও রয়েছেন, নীল ভট্টাচার্য, জন ভট্টাচার্য, অঙ্গনা রায়, বিশ্বনাথ বসুর মতো শিল্পীরা। অন্যদিকে, সৌমিতৃষা কুণ্ডুকে শেষ দেখা গিয়েছিল 'কালরাত্রি ২' ওয়েব সিরিজে।