
সমস্ত ধারাবাহিকগুলোই চেষ্টা করছে বিশেষ কিছু পর্ব, গল্পের নয়া মোড়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করার। রেটিং চার্টে প্রতি সপ্তাহে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে প্রথম সারির বাংলা চ্যানেলগুলির মধ্যে। টিআরপি চার্টেও প্রতি সপ্তাহে বদল আসছে। বলা চলে একে অপরকে জোরদার টক্কর দিচ্ছে মেগাগুলি। ফলস্বরূপ ধারাবাহিক সম্প্রচারের সময় নিয়ে নানা পরীক্ষা করছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। আসছে একাধিক নতুন মেগা। অন্যদিকে শেষ হচ্ছে বেশ কয়েকটি সিরিয়াল।
২০২৬-র শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি নতুন ধারাবাহিক শুরু হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এবার সে তালিকায় নাম জুড়তে চলেছে আরও এক মেগার। স্টার জলসাতে আসছে 'বাবলি সুন্দরী'। প্রোমো সামনে আসার পর থেকেই নেটমাধ্যমে দর্শকদের মনে দারুণ কৌতূহল চোখে পড়ার মতো। কারণ, ধারবাহিকের গল্প এবং নায়িকা। এই ধারাবাহিকের গল্প সমাজের প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় এবং এক মেয়ের নিজস্বতায় অটল থাকার অদম্য ইচ্ছেকে উদযাপন করে।
'বাবলি সুন্দরী'-তে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে হানি বাফনাকে। অভিনেতা এবার জুটি বাঁধবে নবাগতা স্নেহা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সাহানা দত্তের প্রযোজনা সংস্থা মিসিং স্ক্রুয়ের ব্যানারে আসছে এই মেগাটি। ২০ মে থেকে সন্ধ্যা ৬টায় সময় দেখা যাবে এই ধারাবাহিক। নির্মাতাদের কথায়, বাবলির মতো চরিত্র এর আগে বাংলা মূলধারার টেলিভিশনে আগে কখনও দেখা যায়নি। এই প্রথম একটি নারীকেন্দ্রিক 'স্ট্যান্ড-আপ কমেডি ফিকশন'-র সাক্ষী হবেন বাংলার ছোট পর্দার দর্শক।
এমন এক পৃথিবীত, যেখানে বিউটি ফিল্টার, নিখুঁত সৌন্দর্য এবং অবাস্তব সব মানদণ্ড দ্বারা চালিত, সেখানে কেউ যদি সবার সঙ্গে মিশে না গিয়ে , নিজের মতো করে আলাদা হয়ে ওঠার পথ বেছে নেয়, তাহলে কী ঘটে? গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাবলি- এমন এক মেয়ে, যাকে কখনও প্রচলিত অর্থে সুন্দরী হিসেবে গণ্য করা হয়নি এবং সে নিজেও কখনও নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার ভান করেনি। গায়ের রং শ্যামলা, সামনে উঁচু দাঁত, স্পষ্টবাদী স্বভাব এবং কিছুটা অগোছালো আচরণের কারণে বাবলি প্রতিনিয়ত বিদ্রূপের শিকার হয়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে উপহাস ও অপমানের। কিন্তু তার এই হীনমন্যতার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ প্রতিভা—জীবনকে গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করার এবং নিজের বেদনাকে হাস্যরসে রূপান্তর করার এক অনন্য ক্ষমতা। অন্যরা যা দিয়ে তাকে লজ্জিত করতে চায়, বাবলি ঠিক সেই বিষয়গুলোকেই নিজের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত করে।
এর ঠিক বিপরীত মেরুতে রয়েছে বিনায়ক- এমন একজন, যে সৌন্দর্য ও নিখুঁত সৌন্দর্যের প্রতি আচ্ছন্ন। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল হয়ে সে সুন্দরী মধুরাকে বিয়ে করে। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সে মধুরাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলে। সেই ঘটনার পর থেকে বিনায়ক জীবন থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়ে, ভাগ্যের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছে। তার মা সুবর্ণা, ছেলের এই মানসিক বিপর্যয়ে শোক- দুশ্চিন্তায় বিহ্বল হয়ে স্বপ্ন দেখে, একদিন হয়তো অন্য কোনও অসাধারণ সুন্দরী নারী তার ছেলের জীবনে আসবে এবং তাকে আবারও সুখের জগতে ফিরিয়ে আনবে।
পাড়ার 'মাচা'র প্রেক্ষাপটে রচিত 'বাবলি সুন্দরী' এমন এক গল্প, যেখানে কমেডি বা হাস্যরস হয়ে ওঠে টিকে থাকার এবং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার অন্যতম মাধ্যম। জীবনের নিত্যদিনের সংগ্রাম ও মানসিক ক্ষত থেকে শুরু করে মঞ্চের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়া এবং দর্শকদের তুমুল করতালির মুহূর্তগুলো পর্যন্ত- বাবলির এই পথচলা কেবল একজন পারফর্মার বা শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প নয়; বরং বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি আচ্ছন্ন এই সমাজে নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য গল্প।
প্রসঙ্গত, টলিপাড়ার অত্যন্ত চেনা মুখ হানি বাফনা। অন্যদিকে স্নেহা এতদিন পরিচিত ছিলেন নৃত্যশিল্পী হিসাবে। নাচের রিয়্যালিটি শো-তে তাঁকে দেখা গিয়েছে এর আগে। 'ডান্স বাংলা ডান্স' সিজন ১২-র প্রতিযোগী ছিলেন স্নেহা। এছাড়া 'ডান্স ডান্স জুনিয়র'-এও তাঁকে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে রয়েছে নাচের নানা ভিডিও। এর আগেও নাচের রিয়্যালিটি শো থেকে উঠে এসে, বাংলা ধারাবাহিকের মাধ্যমে সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছেন একাধিক শিল্পী। এবার দেখার স্নেহা দর্শকের মনে কতটা পৌঁছতে পারেন।