Advertisement

Bengali Serial Chirosakha Kone Dekha Alo: বন্ধ হবে লীনার সব বাংলা মেগা! কোনটাতে কী ট্র্যাক চলছে, কীভাবে সমাপ্তি?

Bengali Serial Update: বন্ধ হয়ে যেতে পারে একাধিক মেগা সিরিয়াল। শেষ হয়েছে 'ভোলেবাবা পার করেগা'। আপাতত বন্ধ আছে 'চিরসখা' ও 'কনে দেখা আলো'-র শ্যুটিং। এই দুই মেগার ভবিষ্যৎ কী, সত্যিই শেষ হবে কিনা এই নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে সকলের মনে।

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বাংলা সিরিয়াল লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বাংলা সিরিয়াল
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 09 Apr 2026,
  • अपडेटेड 6:46 PM IST

শিরোনামে বাংলা সিনে দুনিয়া। বন্ধ হয়ে যেতে পারে একাধিক মেগা সিরিয়াল। শেষ হয়েছে 'ভোলেবাবা পার করেগা'। আপাতত বন্ধ আছে 'চিরসখা' ও 'কনে দেখা আলো'-র শ্যুটিং। এই দুই মেগার ভবিষ্যৎ কী, সত্যিই শেষ হবে কিনা এই নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে সকলের মনে। দুই ধারাবাহিকের কিছু শিল্পী প্রশ্ন তুলেছেন, কোন দোষে তাঁদের কাজ হারাতে হল? যার জেরে বুধবার, টেকনিসিয়ান্স স্টুডিওতে এসব ধারাবাহিকের শিল্পী- কলাকুশলীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টায় রয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। যার ফলে, কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন সকলে। যেসব বাংলা মেগার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, সেগুলোর গল্প এখন কোন দিকে এগোচ্ছে, কীভাবে হঠাৎ ইতি টানা সম্ভব, তা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন।    

তোলপাড় টলিউড          

গত ২৯ মার্চ, রবিবারের পর থেকে তোলপাড় টলিউড। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে এখনও শোকস্তব্ধ সকলে। শোকের ছায়া বাংলা বিনোদন জগতে। এই মৃত্যু ঘিরে রয়েছে নানা ধোঁয়াশা। ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সকলেই তুলছেন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। সেই সঙ্গে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন প্রায় সকলেই। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ৭ এপ্রিল থেকে নিজেদের সুরক্ষার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল টলিপাড়া। মঙ্গলবার, টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় দিনভর দফায় দফায় বৈঠক হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তরা। 

 

টলিপাড়ার সিদ্ধান্ত 

টলিপাড়ার বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছেন তাঁরা।  ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স বা ওই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে কোনও কাজ আপাতত করবেন না শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা। ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কড়া করতে, আগামী পনেরো থেকে তিরিশ দিনের মধ্যে তৈরি করা হবে আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি)। এছাড়া শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য তৈরি হবে বীমা। যত দিন না সেই বীমা তৈরি হচ্ছে, তত দিন ঝুঁকি নিয়ে এমন কোনও জায়গায় শ্যুটিং করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সর্বভারতীয় স্তরেও যাতে ওই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কেউ কাজ না করেন, সেই আবেদনও করা হয়। সংবাদমাধ্যমকে প্রসেনজিৎ জানান, "রাহুলের মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিচার’ চেয়ে অজস্র প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। কথা নয়, আমরা কাজের মাধ্যমে উত্তর দিলাম। আপাতত বাংলায় তাঁর কাজ বন্ধ হল। আগামী দিনে আর কী করতে চলেছে আর্টিস্ট ফোরাম, তার জন্য সবাই আর কয়েকটি দিন অপেক্ষা করুন।" 

Advertisement

 

'ভোলেবাবা পার করেগা' 

'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকে শ্যুট করার সময়ই সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চিত ছিল এই মেগার ভবিষ্যৎ। ফের নতুন মোড়কে শুরু হয়েছিল 'ভোলে বাবা পার করেগা'। তবে, সোমবার রাতে জানা যায়, হঠাৎই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় চ্যানেল। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এই ধারাবাহিক চালানো অত্যন্ত 'অমানবিক'। মনে করা হচ্ছে,সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম কটাক্ষ এবং অভিনেতাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখেই তড়িঘড়ি সোমবার এই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চ্যানেল। তবে শেষ হওয়ার আগে চলছিল, উজান (রাহুল) ও ক্যুইনের (শ্বেতা মিশ্র) মধুচন্দ্রিমার ট্র্যাক শুরু হচ্ছিল। এমনকী, তালসারিতে সেই দৃশ্যেরই শ্যুটিং হয়েছিল। 

'চিরসখা' 

শোনা যাচ্ছে রবিবারই শেষ সম্প্রচার হবে 'চিরসখা'-র পর্ব। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে রাত ১০টায়, 'চিরসখা'-র স্লটে সম্প্রচারিত হবে নতুন মেগা 'সংসার সংকীর্তন'। এই সময় সম্প্রচারিত হত। 'চিরসখা'-র ট্র্যাকে চলছে, মিঠি, কৃষানুর বাড়িতে ফিরেছে এবং দু'জনের বৌভাত ভাল মতো সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে পরিবারে খুশির হাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বর্ষামা হতে চলেছে। এই নিয়ে বুব্লাই ছাড়াও কমলীনি, সৌজন্য হহ সকলে দারুণ খুশি। বর্ষা চরিত্রটা এখানে ধূসর। তবে বর্ষার মধ্যেও সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার দেখার, যদি সত্যিই রবিবার 'চিরসখা'-র শেষ পর্ব হয়, তাহলে কীভাবে শেষ হয়।  

     

 
'কনে দেখা আলো'

তিন মেগার মধ্যে সবচেয়ে মন খারাপ 'কনে দেখা আলো'-র দর্শকদের।এই মেগাতে লাজু ও অনুভবের জুটির দারুণ পছন্দ করছে দর্শক। এমনকী, ভালোবেসে, অনুগামীরা এই জুটির নাম রেখেছে 'অনুবন্তী'। তাদের দাবি, কখনও দু'জনের প্রেমটাই পুরোটা দেখানো হল না, এত তাড়াতাড়ি কীভাবে শেষ হবে। এদিকে গল্প অনুযায়ী, তীব্র জ্বর থাকা সত্ত্বেও আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হারাতে চায়নি লাজু। সুদেব তাকে পরীক্ষা দিয়ে নিয়ে আসলেও, চার ঘণ্টা অপেক্ষা না করে গ্রামে ফিরে যায়। এদিকে, পরীক্ষা দিয়েই আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে লাজু। তার চিকিৎসা চলে মেডিকেল কলেজেই। অনুভব এসে তাকে জোর করে বাড়ি নিয়ে যায়। ফের মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে বনলতার। এরকম টানটান ট্র্যাক চলার সময় কীভাবে এই গল্পের ইতি হয় হঠাৎ করে, তা জানার অপেক্ষায় সকলে। 

 

 
'কনে দেখা আলো' বন্ধ আটকানো সম্ভব? 

মঙ্গলবার রাতে আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে বিবৃতিতেও পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, 'লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যে যে প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত আছে ও থাকবে সেই সমস্ত ধারাবাহিক (ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স-র 'চিরসখা' ও অর্গানিক স্টুডিওস প্রাইভেট লিমিটেট-র 'কনে দেখা আলো') কোনও শিল্পী ও কলাকুশলী অংশ নেবেন না। অর্গানিক স্টুডিওস প্রাইভেট লিমিটেট, লীনার ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার। লীনাই এই মেগার গল্প ও চিত্রনাট্য লেখিকা। ফলে 'চিরসখা'-র পাশাপাশি, 'কনে দেখা আলো'-র ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 'কনে দেখা আলো' কবে- কীভাবে শেষ হবে বা এর ভবিষ্যৎ কী তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকটি চলার সম্ভবনা রয়েছে। যদি,  লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায় সরে দাঁড়ান এই মেগা সিরিয়াল থেকে। যার অর্থ, এই মেগার গল্প, চিত্রনাট্য লেখার দায়ভার যদি অন্য় কেউ নেয়, অথবা প্রযোজনা সংস্থাকেই যদি বদলে দেয় জি বাংলা। জানা যাচ্ছে, অতীতে এরকম বেশ কিছু উদাহরণ আছে, যেখানে প্রযোজনার রাশ নিজের হাতেই তুলে নিয়েছে চ্য়ানেল। ইতিমধ্যেই লাজু- অনুভাবদের গল্প শেষ হতে পারে শুনে মন খারাপ অনুগামীদের। এবার দেখার, শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Advertisement

 

    

জাতীয় স্তরের ধারাবাহিক

বাংলার পাশাপাশি, জাতীয় স্তরেও একাধিক মেগা সিরিয়াল চলে লীনা, শৈবালের প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে। জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক 'শ্রীময়ী'-র হিন্দি সংস্করণ 'অনুপমা' দারুণ জনপ্রিয়। সেখানে ইন্দ্রাণী হালদারের জায়গায়, নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করছেন  বাঙালি অভিনেত্রী রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে যোগ দিয়েছেন আরও এক বঙ্গ তনয়া অদ্রিজা রায়। এছাড়াও লীনা-শৈবালদের ঝুলিতে রয়েছে 'ঝনক', 'কভি কভি ইত্তেফাক সে'-র মতো মেগা। বাংলার পাশাপাশি লীনা- শৈবালের হিন্দি ধারাবাহিকেও প্রভাব পড়বে কিনা, তা সময়ই বলবে। 


 

Read more!
Advertisement
Advertisement