
এক যুগের বেশি সময় ধরে ছোটপর্দার দর্শকদের প্রিয় গেম শো 'দিদি নম্বর ১'। এত দীর্ঘ সময় ধরে চললেও, দর্শক মনে একটুও ফিকে হয়নি জি বাংলার এই নন -ফিকশন শো। সাধারণ মানুষ তো বটেই, বিভিন্ন পর্বে তারকারা এসে নজর কাড়েন সকলের। নাচ -গান -আড্ডা -হুল্লোড়ে একদিকে যেমন জমজমাট পর্বের সাক্ষী থাকেন দর্শক, সেরকম রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দিদিরা শেয়ার করেন, তাদের জীবনযুদ্ধ ও সাফল্যের জার্নি। অন্যান্য সিজনের মতোই এবারও হিট শোয়ের সঞ্চালিকা রচনা বন্দোপাধ্যায়। প্রায়শই 'দিদি নম্বর ১'-এ থাকে নানা রকম চমক। খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে 'দিদি নম্বর ১'-র নতুন সিজন।
সম্প্রতি চ্যানেলের তরফ থেকে 'দিদি নম্বর ১'-র একটি নতুন প্রমো প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই জি বাংলার পর্দায় আসতে চলেছে 'দিদি নম্বর ১'-র সিজন ১০। এবার চার জন দিদি নয়, খেলা হবে ১০ জন দিদিকে নিয়ে। ১০ গুন মজা আর ১০ গুন পুরস্কার থাকবে এই নতুন সিজনে। এবার প্রশ্ন উঠছে, এবারও কি সঞ্চালনা করবেন রচনা? নাকি অন্য কাউকে দেখা যাবে এই ভূমিকায়? আসলে মাঝে, রাজনৈতিক প্রচারের কাজে যখন রচনা ব্যস্ত ছিলেন, তখন এই শো সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন রুবেল দাস ও শ্বেতা ভট্টাচার্য। সেজন্যই সকলের মনে প্রশ্ন জেগেছে। যদিও এখনই এবিষয়ে কিছু বিবৃতি আসেনি চ্যানেলের তরফে।
৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অন্ত হয়ে এরাজ্যে বিপুল জয় হয়েছে বিজেপি-র। আর তার পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে বড় বদল হয়েছে। রাজনীতিতে গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের হিড়িক গত কয়েক বছরের ট্রেন্ড। এত দিন যে তারকাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যেত বা মিছিলের সামনে সারিতে দেখা যেত, তাঁরা একে একে ছেড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাত। সেসব তৃণমূলপন্থী তারকাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভরেছে মিমে।
সেরকমই গত কয়েকদিন ধরে শিরোনামে রচনা বন্দোপাধ্যায়। তাঁর করা বেশ কিছু মন্তব্যের জেরে, নেটিজেনদের চরম কটাক্ষের মুখে পড়তে হচ্ছে অভিনেত্রীকে। নতুন সরকার সম্পর্কে সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী- সাংসদ। কেন তৃণমূল পরাজিত এবং বিজেপি জয়ী, এপ্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। রচনার কথায়,"সত্যি কথা বলতে এবারের ভোটটা হওয়ার পরে আমার সত্যি এটাই মনে হল, এবারের ভোটে এই যে অবিশ্বাস্য একটা ভোট হল...আমি কিন্তু সত্যি কথা বলছি, এটাতেও জানি না আমি ট্রোল হবো কিনা। ট্রোল ক্যুইন আমি, তাই এটাতেও ট্রোল হবো কিনা জানা নেই। আসলে, এই যে এত জায়গায় এত বিধায়ক ছিলেন, সবাই কিন্তু অর্ধেক সময় জানতে চান না কে বিধায়ক। সবাই পদ্ম ফুল চিহ্ন দেখেছেন বোতামটা টেপার আগে এবং যে চারটি মুখকে দেখে ভোট দিয়েছেন -প্রথম হচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আমাদের এখনকার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্য। এই চারজন ফেস ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের। এই চারজন মুখকে দেখেই ভোট হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, আমার মনে হয় না এত যারা দাঁড়িয়েছিলেন, এত লোকের নাম কেউ জানতেন। সবাই দেখেছেন কোথায় পদ্ম ফুল, মেরে দিয়েছেন।"
প্রসঙ্গত, 'দিদি নম্বর ১' বাংলার প্রত্যেক ঘরে ঘরে সকলের প্রিয়। অন্যান্য সিজনের মতোই এবারও হিট শোয়ের সঞ্চালিকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগের বেশিরভাগ সিজনের সঞ্চালিকা ছিলেন রচনা। প্রথম সিজনে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়। এছাড়া সিজন ৩ -এ জুন মালিয়া এবং সিজন ৫-এ দেবশ্রী রায়কেও সঞ্চালিকা হিসাবে দেখা গেছে। সিজন ৮- এ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা প্রয়াত হওয়ার পর, তিনি কয়েক দিনের বিরতি নেন। সেই সময় সুদীপা চট্টোপাধ্যায় এবং সৌরভ দাস সেই দায়িত্ব সামলেছেন কিছুদিন। তবে 'দিদি নম্বর ১' মানেই রচনাকে সবচেয়ে বেশি কাছের করে নিয়েছেন দর্শকেরা।