
আলোচনায় থাকে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। একদিকে বাংলা ছবির কম ব্যবসা, সিনেমা হল বন্ধ, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের অশান্তি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা চলছে। গোটা ইন্ডাস্ট্রি 'এক'। একথা বারবার বলা সত্ত্বেও, দেব বনাম স্বরূপ বিশ্বাসের তর্জা এখনও তুঙ্গে। স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক থেকে শুরু করে, টলিউডের টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প, কিংবা ইন্ডাস্ট্রির অঘোষিত 'ব্যান' কালচার নিয়ে দু'জনের ঠান্ডা লড়াই বারবার প্রকাশ্যে আসে।
টলিউডের স্ট্রাইকের দিন, ফেডারেশনকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন দেব। পরিচালক গিল্ডের তরফে প্রস্তব আসে, তারা ফেডারেশনের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে রাজি আছে। এরই মধ্যে দেব বড় ঘোষণা করেন। টলিউডের মেগাস্টা,র প্রযোজক রূপে সফল। এবার তিনি বসবেন পরিচালকের চেয়ারে। ঘোষণা হয়, দেব- শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের পুজোর ছবি 'দেশু৭'-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে।
তাহলে কি সত্যিই 'ব্যান' উঠে যাচ্ছে অনির্বাণের উপর থেকে? কবে থেকে কাজে ফিরছেন তিনি? এসব প্রশ্ন রাখা হয়েছিল অনির্বাণের কাছে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, "ইন্ডাস্ট্রিতে আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশনের মতো যে সমস্ত সংস্থা রয়েছে নিয়মিত তারা এই বিষয়ে আলোচনা করছে। এই ধরনের বৈঠকে আমি একদিনও উপস্থিত থাকি না। তাই আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় আদৌ এই ব্যান কালচার নিষ্পত্তি হবে কিনা বা কেমনভাবে হবে! সেটা সংগঠনের সদস্যরাই ভাল বলতে পারবেন। আমি শুধু এটুকু জানি যে, 'দেশু ৭'-এ আমি অভিনয় করছি। চেষ্টা করব আরও ভাল অভিনয় করার, যাতে দর্শকের ভাল লাগে।"
দেবের সঙ্গে 'আরশি নগর' থেকে যাত্রা শুরু হয় অনির্বাণের। এরপর 'গোলোন্দাজ', 'রঘু ডাকাত'-এ কাজ করেছেন একসঙ্গে। এবার 'দেশু ৭'-র অপেক্ষায় সকলে। এই ছবি প্রসঙ্গে, অভিনেতা বলেন, "দেব এবং তাঁর ক্রিয়েটিভ টিমের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। চমৎকার কোনও চরিত্রে অভিনয়ের জন্যেই আমাকে ডাকা হয়েছে। সব ঘোষণার পালা শেষ, এবার কাজের পালা। সেই কাজ কবে শুরু হবে, তার জন্য আমিও মুখিয়ে রয়েছি।"
প্রসঙ্গত, 'দেশু৭'-র নাম এখনও ঠিক হয়নি। তবে এই ছবিতে 'ধূমকেতু'-র পর ফের দেব-শুভশ্রীকে জুটি হিসাবে দেখা যাবে। পুজোর মরশুমে এই জুটির ফিরে আসা বক্স অফিসেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। পুরনো হিট জুটির কামব্যাক, দেবের পরিচালনায় নতুন অধ্যায়, এবং বিতর্কের আবহে অনির্বাণের প্রত্যাবর্তন। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর পুজোয় এই ছবি যে অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে, তা এখনই স্পষ্ট।