
শিরোনামে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আয়োজিত বিশেষ বৈঠকে অভিনেতা- পরিচালকের করা মন্তব্যের পর থেকেই চরম কটাক্ষের মুখে পড়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে 'গোঁদের উপর বিষফোঁড়া'-র মতো, তাঁর করা ২০২১ সালের একটি পোস্ট এবং যার জেরে থানায় অভিযোগ দায়ের, সব মিলিয়ে বিপাকে তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় 'পাল্টিবাজ', 'সুবিধাভোগী' থেকে শুরু করে আরও নানা রকম তকমা দেওয়া হয়েছে পরমব্রতকে। এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের সাফাই দিলেন অভিনেতা।
২০২৫ সালে ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার চর্চার এসেছেন পরমব্রত। এরপর, এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়ে অভিনেতা- পরিচালক জানান, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা তাঁর হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল। শুধু তাই নয়, ফেডারেশনের সঙ্গে আর কোনওরকম আইনি জটিলতায় যেতে চান না বলেও জানান তিনি। এরপর থেকে রাজ্যের প্রাক্তন শাসন দলের ঘনিষ্ঠ বলেই জানা যায় তাঁকে। গত বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চেও দেখা মেলে তাঁর। এবছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করেন পরমব্রত।
টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠকে পরমব্রত স্পষ্ট জানান, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে টলিউডে অলিখিতভাবে 'ব্যান' হয়েছিলেন তিনি। ফলে কোনও কাজ পাচ্ছিলেন না। আর সেসময়ই পরম ও তাঁর স্ত্রী পিয়ার সন্তানের জন্ম হয়। তাঁর কথায়, "সেদিন আমার সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদগারের জন্য এখানে আসিনি। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগও পেশ করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের যেহেতু বাড়ির লোক ভাবি, সেইজন্য ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম। ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়।" পরমব্রতর করা মন্তব্য, 'সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম', নিয়েই সব মহলে আরও চর্চা বাড়ে।
সংবাদমাধ্যমকে এই প্রসঙ্গে পরমব্রত বলেন, "আমায় পাল্টিবাজ বলার বা আমার সমালোচনা করারই কথা। আমি যদি সাধারণ মানুষের জায়গায় থাকতাম, যিনি ভিতরের ব্যাপারটা জানেন না, তার তো মনে হওয়ারই কথা, এ তো লাস্ট দু'দিন প্রচারে গিয়েছে। এ কেন হঠাৎ করে...তার কারণটা হচ্ছে, মানুষ খুব সহজ এবং সঙ্গত কারণেই ফেডারেশন বলব না, ফেডারেশন যিনি এতদিন সভাপতি ছিলেন সেই স্বরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর দাদা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তৃণমূল -কংগ্রেস এই পুরো ব্যাপারটাকে এক করে দেখতেন। বা এখনও তাই দেখেন। আমি যদি একজন সাধারণ পাঠক বা দর্শক হই, আমি তো অত ডিটেলে ঢুকব না। আমি তো জানব যে, প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অরূপ বিশ্বাস, তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। আমি এতদিন তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করলাম সামনে থেকে। সামনের সারিতে থেকে। তারপর সুর নরম করলাম।"
তিনি যোগ করেন, "তারপর আমাকে, যদিও মাত্র দু'দিন, আমার অনেক সহকর্মীরা আমার থেকে অনেক বেশীদিন প্রচারে গিয়েছেন। তাঁদেরকে দেখলাম চার তারিখ রাত্রি থেকেই ভীষণভাবে নতুন সরকারকে আগমন করছেন। সেটা তাঁরা করুন। তাতে আমার কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু তাঁরা অনেক বেশি সংখ্যায় এবং নানা রকমের সমীকরণে তাঁরা প্রচারে গিয়েছেন। তাঁদের জাজ করছি না আমি। তাঁদের ওপরেও নিশ্চয়ই কোনও চাপ ছিল বা অন্য কোনও কারণ ছিল। আমিও গিয়েছি সামান্য কয়েকটা প্রচারে। এবার এই পুরো জিনিসটার সঙ্গে যেই মুহূর্তে আমাকে ৪ঠা মে-এর জিজ্ঞেস করা হল, যে আপনার কী প্রত্যাশা নতুন সরকারের থেকে। তখন, যখন আমি ফেডারেশন বা প্রাক্তন সভাপতি কী কী করতেন দাদাগিরি ইত্যাদির প্রসঙ্গ তুললাম তখন একটা সাধারণ দর্শকের মনে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক যে একি, এটা বলছে কেন। সেটা হয়তো কিছুটা কোনও ইন্টারভিউ বা আগামীতে যখন হবে তখন হয়তো এই কথাগুলির মধ্যে দিয়ে সেই স্টান্সটা স্পষ্ট হবে।"
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ সেন নামে এক আইনজীবী। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই দু'জন যে মন্তব্য করেছিলেন, তা আসলে নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসে মদত দেওয়া ছা়ড়া আর কিছু নয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ মে বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ পরমব্রত সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।' এর কিছুক্ষণ পর স্বস্তিকা সেই পোস্টের উত্তরে লেখেন, 'হা হা হা হোক হোকস'। অভিযোগকারীর দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার মতো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ধরনের মন্তব্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তরফে হিংসা উস্কে দেওয়ার সামিল।