
৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অন্ত হয়ে এরাজ্যে বিপুল জয় হয়েছে বিজেপি-র। রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, এই প্রশ্ন এখন সকলের মনে। রাজনীতিতে গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের হিড়িক গত কয়েক বছরের ট্রেন্ড। এত দিন যে তারকাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যেত বা মিছিলের সামনে সারিতে দেখা যেত, সেসব তৃণমূলপন্থী তারকাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভরেছে মিমে। নেটিজেনরা কটাক্ষ করছে, 'এবার আবার কি তাঁরা পাল্টি খাবেন', এই প্রশ্ন তুলে।
সেরকমই গত কয়েকদিন ধরে শিরোনামে রূপাঞ্জনা মিত্র। সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কিছু পোস্টের জেরে, নেটিজেনদের চরম কটাক্ষের মুখে পড়তে হচ্ছে অভিনেত্রীকে। অভিনেত্রী, তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের সঙ্গেই ভিন্ন সময়ে থেকেছেন। তাঁকে 'সুবিধাভোগী', 'দলবদলু' বলে সম্বোধন করছেন নেটিজেনদের অনেকেই। এমনকি, রূপাঞ্জনাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ফের কি তিনি গেরুয়া শিবিরে ফিরতে চান তিনি?
নেটিজেনদের উপর বেজায় চটেছেন রূপাঞ্জনা। সংবাদমাধ্যমের কাছে একপ্রকার ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন কদর্য আক্রমণ করা হচ্ছে তাঁকে। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "আমি এককালে যে দল করতাম, তারাই ক্ষমতায় এসেছে। দলে যখন ছিলাম, তাদের সঙ্গে আমার নীতি ও আদর্শ মেলেনি। আমাদের অন্য ভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমার সন্তান আছে। আমার পরিবারও চায় না, আমি আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকি। যখন যা প্রতিবাদ করার ছিল, করেছিলাম।" তিনি আরও বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু স্বভাব ভাল লেগেছিল। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নানা সমস্যার শুরু হয়। তখন থেকেই সরকারি অনুষ্ঠানে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলাম। আমন্ত্রণ পেতাম, কিন্তু আমি যেতাম না।"
রূপাঞ্জনা অভিযোগ তোলেন ২০১৪ সালের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে নান রকম সমস্যা দেখতে পান তিনি। এমনকি, দিনের পর দিন পারিশ্রমিক পেতেন না। অভিনেত্রীর মন্তব্য, "আমি বুঝলাম, এ বার নিজেকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ২০১৪ থেকেই বিজেপি আমাকে চেয়েছিল। শেষপর্যন্ত আমি যোগ দিই। কিছুদিন পরে ইন্ডাস্ট্রির যে সব সমস্যা, তার কোনও সমাধানের পথ দেখছিলাম না। এরা আসলে এমন লোক চাইছিল, যারা শুধু রাজনীতিটাই করবে। ঘৃণার রাজনীতি করতে চাইছিল ওরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নাম করতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু ওঁর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। আমাকে তিনি কখনও অসম্মান করেননি।"
রূপাঞ্জনা জানান, ২০১৯ সালের পরে বিজেপি থেকে দূরত্ব বৃদ্ধির জন্য আমেরিকা চলে গিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি 'উগ্র রাজনীতির' সঙ্গে মেলাতে পারছিলেন না বলেই বেরিয়ে আসেন বলেই জানান। ২০২৫ সালে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে দেখা যায় রূপাঞ্জনাকে। নির্বাচনের আগে তাঁর সোশ্যাল পেজে ছিল প্রাক্তন শাসক দলের হয়ে প্রচার। তবে ৪ মে বেলা গড়াতেই, তাঁর পেজে দেখা যায় নতুন শাসক দলের হয়ে কথা বলতে। এরপরই তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয়। তবে বিজেপি-কে নিয়ে আশাবাদী রূপাঞ্জনা সংবাদমাধ্যমকে জানান, "বাংলার রাজনীতিতে আমি আর থাকছি না। দেখে নিয়েছি বঙ্গ রাজনীতি। আর নয়। মানুষের কাজ আমি এমনিতেই করি। সেটা চালিয়ে যাব।"