
বাংলা সিনেমার মুক্তি বা ফুটবল ক্লাব। কোনওটাতেই যেন রাজনৈতিক প্রভাব না থাকে। এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য (Samik Bhattacharya)। বললেন, 'কে ছবি বানাবে, কার ছবি নন্দনে আগে মুক্তি পাবে, সেটাও কি অন্য কেউ ঠিক করবে? শিল্পীর মর্যাদা শিল্পীরাই রক্ষা করতে পারেন।'
রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার একাংশ এবং ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। এহেন আবহে শমীকের এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখকে দেখা গিয়েছিল। ব্রিগেডের সেই অনুষ্ঠানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) এবং জিৎ (Jeet) গিয়েছিলেন। এছাড়াও যিশু সেনগুপ্ত, পায়েল সরকার, ঋষি কৌশিক, কৌশিক রায়-সহ আরও অনেকে ছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল আমলে সরকারি মঞ্চে টলিপাড়ার উপস্থিতি খুবই পরিচিত ছবি ছিল। ২১ জুলাইয়ের সভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যেত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। ফলে সরকার বদলের পর শিল্পীমহলের অবস্থান নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত বছর জয়ব্রত দাসের সিনেমা The Academy of Fine Arts-কে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল। ফেডারেশনের আপত্তিতে ছবির রিলিজ আটকে যায় ছবিটি। ফেডারেশনের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় নিয়ম মানা হয়নি। যদিও পরিচালক জয়ব্রতর দাবি ছিল, এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়ারা নিজেদের টাকায় ছবিটি তৈরি করেছেন।
তখন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas) অভিযোগ করেছিলেন যে, একটি বাণিজ্যিক ছবিকে ‘স্টুডেন্ট ফিল্ম’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যে কোনও বাণিজ্যিক ছবি মুক্তির আগে ফেডারেশনের অনুমতি প্রয়োজন।
অন্য দিকে জয়ব্রত জানান, ছবির বাজেট ছিল প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। অভিনেতা Rudranil Ghosh, সৌরভ দাস, Payel Sarkar, দর্শনা বণিক কেউই পারিশ্রমিক নেননি। এই ঘটনার পর থেকেই সিনেমার রিলিজে ফেডারেশন তথা ঘাসফুল শিবিরের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
ঠিক সেই কারণেই, শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলের একাংশ।