
আর্টিস্ট ফোরামের নতুন কমিটি গঠনের পরেই কোষাধ্যক্ষ বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় কথা দিয়েছিলেন, শিল্পীদের সুস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার কথা মাথায় রেখে বন্ধ হওয়া মেডিক্লেম চালু করবেন। তিন মাস যেতে না যেতেই কথা রাখলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে টলিউডে চালু হল 'উত্তম সুবিধা কার্ড'। বুধবার ফোরামের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল এই বিশেষ কার্ড।
উত্তম সুবিধা কার্ডের মাধ্যমে একগুচ্ছ বিশেষ সুবিধা পাবেন টলিউডের সদস্যরা। আর্টিস্ট ফোরাম এবার যুক্ত হল এক বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে। এই বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা এদিন উপস্থিত হন টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, সহ-সম্পাদক রানা মিত্র, কোষাধক্ষ বাসবদত্তা, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, কুশল চক্রবর্তী, লাবণী সরকার, দেবদূত ঘোষ, আবীর চট্টোপাধ্যায়-সহ কমিটির অন্যান্য পদাধিকারীরা। শহরে উপস্থিত না থাকার কারণে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগ দেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়, এদিন থেকে এই বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বিশেষ সুবিধা পেতে চলেছেন কমিটির সদস্যরা। উত্তম সুবিধা কার্ডের সাহায্যে শিল্পীরা ওষুধ কেনার সময় বিশেষ ছাড় পাবেন।কমিটির সদস্যরা কার্ড দেখালেই ওষুধে ছাড় পাবেন। এছাড়াও, এই সংস্থা বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে। উত্তমকুমারের ছবি দেওয়া এই কার্ড শিল্পীরা হাতে পাবেন, কয়েক দিনের মধ্যেই। যতদিন না হাতে এই কার্ড পাচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত আর্টিস্ট ফোরামের পরিচয়পত্র দেখিয়েই এই সুবিধা নিতে পারবেন সদস্যরা। একই সঙ্গে শিল্পীদের জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে ৩০ হাজারের একটি চেক তুলে দেওয়া হয় আর্টিস্ট ফোরামের হাতে।
প্রসঙ্গত, ওষুধে ছাড় পাওয়ার পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা অত্যন্ত জরুরি। আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কমিটিতে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের আগে শিল্পী-কলাকুশলীদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বানানো নিয়ে দেব বনাম স্বরূপ বিশ্বাসের কাজিয়া কারও আর অজানা না। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকার একটি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার আওতায় ছিলেন শিল্পী-কলাকুশলীরা। কিন্তু নতুন অর্থবর্ষ থেকে তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না এবং অনেকেরই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই বলে, চিন্তায় পড়েছিলেন। সেসময় দেবের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিলেন অনেকেই। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেন অভিনেতা-প্রযোজক তথা সাংসদ। শুরু হয় স্বাস্থ্যসাথীর ক্যাম্পও। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় সেই মুহূর্তে সব স্থগিত হয়ে যায়। এবার নতুন সরকার গঠনের পরে, টলিপাড়ার জন্য কী কী ব্যবস্থা হয়, সেটাই এখন দেখার।