
সোমবার দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন সুখেন্দুশেখর রায়। সেইসঙ্গে হাওয়ায় খবর ভাসতে থাকে তৃণমূলের আরও এক রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পথেই হাটতে চলেছেন। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা চলতে থাকে, সুখেন্দুশেখরের পাশাপাশি কোয়েল মল্লিকও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন স্বয়ং কোয়েল। অভিনেত্রী সাংসদ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেননি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের তরফে কোয়েলকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে, রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল। সেই তালিকায়, রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ছাড়াও অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম ছিল। সেই ঘোষণা চমকে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। আচমকা নায়িকার রাজনীতিতে প্রবেশকে ভালো চোখে দেখেননি অনেকেই। কোয়েল অবশ্য় বলেছিলেন তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চান। সেই কারণেই ঘাসফুলে শিবিরে আসা।
এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ পদে শপথ নিতে যান কোয়েল মল্লিক। সেইসময় সঙ্গে ছিল তাঁর গোটা পরিবার। শপথের পরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, 'অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।'
তৃণমূলের হয়ে ভোটের প্রচারেও বেশ কয়েকবার সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছিল কোয়েল মল্লিককে। তবে তৃণমূল ভোটে হারতেই বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। দিকে দিকে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক থেকে কর্মীরা। শোনা যাচ্ছিল, চারিদিকে যেভাবে তৃণমূলের দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, সেই জটিল রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ির মধ্যে আর থাকতে চাইছেন না রঞ্জিত-কন্যা। কোনওরকম রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পপদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যদিও কোয়েল জানিয়েছেন তিনি তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।