
সামনে এল পরিচালক অনীক দত্তর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। সেই অনুযায়ী, শরীরে একাধিক আঘাতের ও ঘষা খাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। মাথায় ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত রয়েছে৷ তাঁর মস্তিষ্কেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে।
এসএসকেএম হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় 'ভূতের ভবিষ্যতের' পরিচালকের। তার প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, মৃত ব্যক্তির মাথার খুলি ভেঙে গিয়েছে। শরীরের প্রায় সব পাঁজরের হাড়, পেলভিক বোন এবং বাঁ হাতের হাড়েও ভাঙনের প্রমাণ মিলেছে। মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ফুসফুস, লিভার, কিডনি এবং হৃদযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে সাবডিউরাল হেমারেজ বা রক্তক্ষরণের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক ঘষা লাগার দাগ এবং আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আগামিকাল, বৃহস্পতিবার অনীক দত্তর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে৷ আজ রাতে তাঁর দেহ থাকবে পিস ওয়ার্ল্ডে৷ এদিন রাতে হাসপাতাল থেকে পরিচালকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে৷ পরিচালকের মেয়ে আসার পর হবে শেষকৃত্য। তার আগে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে রবীন্দ্রসদনে৷
বুধবার দুপুর ১টা ১৭ মিনিট নাগাদ গড়িয়াহাট থানায় খবর আসে, হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার একটি বহুতলের ছাদ থেকে এক ব্যক্তি নিচে পড়ে গিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে সেখানে পৌঁছে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পারেন, গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরে মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। তিনি অনীক দত্ত (৬৬)। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার ডোভার লেন এলাকায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ ছাদের পূর্ব দিকের প্যারাপেট দেওয়ালের উপর স্যান্ডেল উদ্ধার করে। ঠিক যে জায়গার নীচে দেহ পড়েছিল, তার উপরের অংশ থেকেই স্যান্ডেলগুলি পাওয়া যায়। এছাড়াও ছাদের মেঝেতে ‘Cinematography Art’ নামে একটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। সেটি খুলে একটি সাদা খাম এবং হাতে লেখা একটি নোট উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে সেটিই সুইসাইড নোট।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই নোটে অনীক দত্ত তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি। তবে কী কারণে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।