
হিন্দুদের বারো মাসে তের পার্বণ। এর মধ্যে চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে পুজো হয় দেবী অন্নপূর্ণার। বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্নপূর্ণার পুজো করলে গৃহে অন্নাভাব থাকে না। কাশীতে (বারাণসী, উত্তর প্রদেশ) অন্নপূর্ণার একটি মন্দির আছে। যেখানের, অন্নকূট উৎসব প্রসিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা পুজোর বিশেষ প্রচলন রয়েছে। এবছর অন্নপূর্ণা পুজো পড়েছে ২৬ মার্চ। বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অন্নপূর্ণা পুজোর আয়োজন হয়েছিল মল্লিক ও চক্রবর্তী বাড়িতে।
মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজোর কথা কে না জানে। এবার অন্নপূর্ণা পুজোর নানা মুহূর্ত শেয়ার করলেন কোয়েল মল্লিক। মন দিয়ে পুজোর কাজ করলেন নিজের হাতে। কমলা- পীচ মেশানো রঙের শাড়িতে এদিন সেজেছিলেন নায়িকা। সঙ্গে তাঁর পরনে ছিল বাদামী রঙা ব্লাউজ। অতিথির আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী দীপা মল্লিক।
অন্যদিকে রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতেও দেবী অন্নপূর্ণার পুজো হয়। এবছরও ধুমধাম করে আয়োজন হল। শুভশ্রী অত্যন্ত ঈশ্বরপ্রেমী। বারবার তাঁকে দেখা গেছে নিষ্ঠা করে পুজোর কাজে সামিল হতে। মাথায় ঘোমটা দিয়ে উলুধ্বনি দিতে দিতে পুজোর কাজ করতে দেখা গেল নায়িকাকে। তাঁর পরনে শিফনের জারদৌসি শাড়ি, হাতে শাঁখা- পলা, গা ভর্তি সোনার গয়না। এদিন এরকমই একটি দৃশ্য লেন্সবন্দি করলেন রাজ নিজে। রকমারি ফুল, প্রদীপে সেজে উঠেছে গোটা বাড়ি। উপস্থিত ছিলেন পরিবার ও বন্ধু- বান্ধবেরা।
হিন্দু ধর্ম মতে, মা অন্নপূর্ণা সন্তুষ্ট হলে গৃহে কখনও অন্নের অভাব ঘটে না। পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন স্থানে তাই ভক্তি ভরে দেবীর পুজো করা হয়। মা অন্নপূর্ণাকে অনেকে অন্নদা দেবী নামেও ডাকেন। দেবী অন্নপূর্ণার দুই হাতে অন্নপাত্র ও দর্বী থাকে, মাথায় থাকে নবচন্দ্র। এছাড়া একপাশে থাকে ভূমি এবং আর এক পাশে থাকে শ্রী। বিশ্বাস করা হয় যে, দেবীর নৃত্যপরায়ণ মহাদেব শিবকে দেখে সন্তুষ্ট হন।
এছাড়াও পুরাণে আছে, বিয়ের পর দেবাদিদেব শিব এবং পার্বতীর সংসারে এক সময়ে অন্নকষ্ট দেখা দেয়। সেই সময়ে তখন পার্বতীর থেকে তিরস্কৃত হয়ে মহাদেব ভিক্ষা করতে বেড়িয়ে পড়েন। কিন্তু পার্বতীর মায়ায় তিনি ভিক্ষা না পেয়ে, শেষে কৈলাশে ফিরে আসেন। ফিরে এসে পায়েস, পিঠে ইত্যাদি আহার করেন। এরপরই দেবী এই মহিমাবৃদ্ধির জন্য কাশীতে অন্নপূর্ণা দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়।
কৃষ্ণানন্দ রচিত তন্ত্রসার গ্রন্থ এবং দক্ষিণামূর্তি সংহিতা গ্রন্থে মা অন্নপূর্ণার পূজার উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়াও কাশীতে অন্নপূর্ণা পূজা ও অন্নকূট পালন করা হয়। প্রচলিত, কিংবদন্তি নদিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদার বাংলায় অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন করেন।