
বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হন স্বরূপ বিশ্বাস। ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই, স্বরূপকে গ্রেফতার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। এক মেকআপ আর্টিস্টের মারাত্মক সব অভিযোগ ভিত্তিতে গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগ উঠছিল স্বরূপের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে শ্লীলতাহানি, অশালীন আচরণ, মারধর সহ আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-র 'ছোট বিশ্বাসের' বিরুদ্ধে। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে, লালবাজারের সেন্ট্রাল লক আপে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। শুক্রবার সকালে আদালতে তোলা হতে পারে স্বরূপকে।
স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মুখ খুলেছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। বিশেষত, ৪ মে, রাজ্যে পালাবদলের পরে, তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন অনেকেই। বৃহস্পতিবার, স্বরূপের গ্রেফতারির খবর পেয়ে, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে টলিউড। এবার স্বরূপকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রাজনীতির রং লাগিয়ে গোটা বিনোদন জগৎটাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন স্বরূপ। একই সঙ্গে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়েও চাঁচাছোলা মন্তব্য করেন লকেট।
স্বরূপের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেত্রী বলেন, "রাজনীতি করে গোটা শিল্পটাকে উনি শেষ করে দিয়েছেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে আর কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই, সব শেষ। বহু শিল্পী এবং কলাকুশলী আজ কাজ হারিয়েছেন। ফেডারেশন থেকে শুরু করে সর্বত্র কেবল বিভাজনের বীজ বপন করেছেন উনি।"
এখানেই না থেমে স্বরূপের ঘনিষ্ঠদেরও কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন লকেট। তাঁর কথায়, "এত দিন যাঁরা ওঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরও গ্রেফতার করা উচিত। বিষয়টা কেবল স্বরূপ বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যাঁরা ওঁর চারপাশে ঘুরঘুর করতেন এবং ওঁকে সমর্থন জোগাতেন, তাঁদেরও ধরা হোক।" তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে লকেট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, স্বরূপ-ঘনিষ্ঠেরা এখন বিজেপির দিকে ঘেঁষার চেষ্টা করলেও পার পাবেন না। তাঁর মন্তব্য, "ওঁরা এখন বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করছেন, তাই তাঁদেরও গ্রেফতার হওয়া প্রয়োজন। যে ভাবে অসংখ্য শিল্পী ও কলাকুশলীর জীবন এবং কেরিয়ার ওঁরা ধ্বংস করেছেন, তাতে এই শাস্তি তাঁদের প্রাপ্য। আর ওঁর দাদার (অরূপ বিশ্বাস) সময়ও শেষ হয়ে এসেছে।"
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়েও এ দিন কড়া আক্রমণ শানান লকেট। রাজ্যে এখন কোনও ‘প্রকৃত বিরোধী’ নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, "এখানে প্রকৃত বিরোধী বলতে কেউ নেই। বিরোধী আসনে বসার মতো সাহসটুকুও এদের নেই। এরা কেবল নিজেদের বিধায়ক পদ এবং যে টাকা জমিয়েছে, তা বাঁচাতেই ব্যস্ত।"
তৃণমূলের অবলুপ্তি যে কেবল সময়ের অপেক্ষা, সে কথাও জোর দিয়ে বলেন বিজেপি নেত্রী। তাঁর কথায়, "তৃণমূল শেষ। আগামী দিনে এই দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। সাত জন, দশ জন বা আট জনকে নিয়ে ছোট ছোট দল তৈরি হবে। দেখবেন, মাত্র এক-দু'জন বিধায়ক নিয়েও নতুন দল তৈরি হচ্ছে। তৃণমূলের আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না, আর এই পশ্চিমবঙ্গে কোনও বিরোধী দলও অবশিষ্ট থাকবে না।"
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরে বারবার চর্চায় আসে স্টুডিওপাড়া। টলিউডের জট যেন কাটছিলই না। ফেডারেশন বনাম ছোট পর্দার প্রযোজকদের দ্বন্দ্ব, টেকনিশিয়নদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ, বকেয়া পারিশ্রমিক, কলাকুশলীদের অতিরিক্ত সময় কাজ করানো থেকে থ্রেট বা ব্যান কালচার ইত্যাদি নানা সমস্যা নিয়ে বারবার উত্তপ্ত হয় টলিপাড়া। আর এসব সমস্যার কারণ হিসাবে বারবার যে নামটা উঠে আসে, তা হল স্বরূপ বিশ্বাস।