
বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হন স্বরূপ বিশ্বাস। ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই, স্বরূপকে গ্রেফতার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। এক মেকআপ আর্টিস্টের মারাত্মক সব অভিযোগ ভিত্তিতে গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগ উঠছিল স্বরূপের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে শ্লীলতাহানি, অশালীন আচরণ, মারধর সহ আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-র 'ছোট বিশ্বাসের' বিরুদ্ধে। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে, লালবাজারের সেন্ট্রাল লক আপে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। শুক্রবার আদালতে তোলা হয়। স্বরূপ বিশ্বাসকে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মুখ খুলেছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। বিশেষত, ৪ মে, রাজ্যে পালাবদলের পরে, তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন অনেকেই। স্বরূপের গ্রেফতারের পর এবার তাঁকে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন দেব। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "গতকাল রাত থেকেই প্রচুর ফোন পেয়েছি। একটা কারণেই উত্তর দিতে চাইনি। কী বলব একজন হেরে যাওয়া মানুষকে নিয়ে! হেরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে লড়াই করব? এখন প্রচুর কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কী লাভ! যে যার কর্মের ফল ভুগবে। দেবের চরিত্র এমন নয় যে, কারও খারাপ সময়ে কিছু বলবে। যখন ওঁর ভাল সময় ছিল, তিনি সকলের খারাপ সময় এনে দিয়েছিলেন।"
দেব আরও বলেন, "আমি প্রথম বার বলছি কথাটা, আমাকেও সমাজমাধ্যমে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল! না হলে আমাকে আর কাজ করতে দেওয়া হবে না, এমনও বলা হয়েছিল। আমি আমার লড়াইটা লড়েছি। আজ তিনি তাঁর কর্মের ফল পেয়েছেন। আমার কাছেই ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ এসেছে ওঁর বিরুদ্ধে। আমাদেরও দোষ আছে অনেক। এখনও মনে আছে, আমি আর্টিস্ট ফোরামকে একটা মেল পাঠিয়েছিলাম যে, এত জন শিল্পীকে ব্যান করে রাখা হয়েছে। আর্টিস্ট ফোরামও কিন্তু তখন পদক্ষেপ করেনি। তারা কেন প্রশ্ন করল না স্বরূপ বিশ্বাসকে? আমরা যদি মাথা নিচু করি, আমাদের উপর দিয়ে তো হাঁটবেই কেউ না কেউ। যাঁরা মাথা উঁচু করে ছিলেন, তাঁদের আজ সম্মান বাড়ল। তাঁদের মুখে এখন হাসি, উল্লাস।"
দেব বলেন টলিউড অভিনেতাদের পাশাপাশি, বহু টেকনিশিয়ানকেও ব্যান করে রেখেছিলেন স্বরূপ। তিনি যোগ করেন, "আমি অনেক টেকনিশিয়ানের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি, ভাল দিন আসবে। তাঁদের অভিশাপও তো গায়ে লাগবে। আমি চাই না কেউ জেলে যাক। কিন্তু তিনি যা করেছেন, আজ তারই পরিণতি এটা। আমি চেষ্টা করেছি, আমার টেকনিশিয়ানেরা যাতে নির্ভয়ে থাকতে পারেন। যদি দল জিতত, স্বরূপকে আটকানো মুশকিল হয়ে যেত। আমিই ব্যান হয়ে যেতাম। আমি ডিসেম্বর থেকে লড়ছি। স্ক্রিনিং কমিটি হয়েছে, আমি ভোট দিইনি। আমার নামে অভিযোগ দিতে লালবাজারে পৌঁছে গিয়েছিলেন অনেকে। তার মুখও ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। ‘দেশু ৭’-র ঘোষণা করার পর আমাকে বলা হয়েছিল, আমি ছবি রিলিজ় করতে পারব না। কারণ, স্ক্রিনিং কমিটিতে আমি ভোট দিইনি। ১২ জন বলেছিলেন, পুজোয় দেবের ছবি রিলিজ় করতে পারবে না। আসলে ক্ষমতা আজ আছে, কাল নেই। ভালবাসা সব সময় থাকে। অন্যায় করলে প্রতিবাদ তো হবেই।"
দেবের জানান, আগে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিটে কাজ করার জন্য ফেডারেশনকে শুধু জানানো প্রয়োজন ছিল। অনুমতি নেওয়ার কোনও বিষয় ছিল না। কিন্তু স্বরূপ এসে অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। তবে 'বিশ্বাস ব্রাদার্সের উপর ক্ষোভ থাকলে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কোনও ক্ষোভ নেই দেবের। তিনি বলেন, "আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করি, প্রার্থনা করি ওঁর শরীর সুস্থ থাকুক।"
গত কয়েক বছর ধরে চর্চায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। একদিকে বাংলা ছবির কম ব্যবসা, সিনেমা হল বন্ধ, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের অশান্তি ইত্যাদি নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, সেসময় বারবার দেব বনাম স্বরূপ বিশ্বাসের তর্জা তুঙ্গে ছিল। স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক, ব্যান কালচার তোলা থেকে শুরু করে টলিউডের টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ঘিরে দু'জনের ঠান্ডা লড়াই প্রকাশ্যে আসে। চলতে থাকে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পর্ব। সংবাদমাধ্যমের সামনেই স্বরূপকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন টলিউড মেগাস্টার। এরপর, দেবও একহাত নেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি।