
শিরোনামে ইমন চক্রবর্তী। ট্রোলিংয়ে জেরে বিরক্ত হয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে লাইভে এসে গায়িকা ঘোষণা করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আর থাকবেন না তিনি। পরে তাঁর টিমের তরফ থেকে জানানো হয়, নিজের পেজে কোনও ব্যক্তিগত পোস্ট করবেন না তিনি। শুধুমাত্র কাজের মাধ্যম হিসাবেই তাঁর পেজ ব্যবহার হবে। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও বারবার কটাক্ষের শিকার হয়েছেন ইমন। একদিকে নেটিজেনরা যেমন তাঁকে এক হাত নিয়েছেন, গালমন্দ করেছেন, সেরকমই গায়িকাও ছাড়েননি নিজের সাফাই দিতে।
বর্তমানে নেটিজেনদের সমালোচনার শীর্ষে থাকেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং সদ্য বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। রিয়্যালিটি শো 'সারেগামাপা' থেকে শুরু করে রক্তদান, সব কিছুতেই ট্রোলিংয়ের শিকার তিনি। এর আগেও রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার ধরন থেকে শাঁখা-পলা না পরা, কোনও কিছুই বাদ যায়নি ট্রোলিংয়ের তালিকা থেকে।
তারকা হয়েও মুখের ব্রণ এড়ানোর জন্য ত্বকের যত্ন কেন নেন না? এরকম নানা প্রশ্নের পাশাপাশি নেটাগরিকদের থেকে নানা বিদ্রুপ- উপদেশ ইত্যাদি প্রায়শই শুনতে হয় গায়িকাকে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজেই বহুবার জানান, এর জেরে মনে গভীর ক্ষত রয়েছে তাঁর ।
ত্রাণ, রক্তদানের প্রচার
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে, সেসময় ইমনের টিম পৌঁছেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে। সেই খবর জানাতে গিয়েই নেটাগরিকদের একাংশের কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন তিনি। আবার রক্তদান করেও, সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতেই একই ঘটনা ঘটে। নিন্দুকরা বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর থেকে বেশি নিজের প্রচারের স্বার্থে গায়িকা এসব করছেন।
‘সারেগামাপা’ বিতর্ক
গানের রিয়্যায়েলিটি শো 'সারেগামাপা' সিজন ১৯-এ বিজয়ী হন অর্কদীপ মিশ্র। সেসময় শোয়ে তাঁর মেন্টর ছিলেন ইমন। অর্কদীপ বিজয়ী হওয়ার পরে, প্রচুর কটাক্ষ শুনতে হয় ইমনকে। টাকা দিয়ে নিজের দলের প্রতিযোগীকে জিতিয়েছেন, এমন অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। গুরু-শিষ্যের এক মঞ্চে 'পারফর্ম' ভাল চোখে দেখেননি দর্শক। শোনা যায়, সেই সময় এই ঘটনার জেরে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ইমন মনোবিদের কাছে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন ।
জিন্স পরে শ্যামাসঙ্গীত
গত বছর কালীপুজোর আগের সন্ধ্যায়, বেহালার একটি পুজো মণ্ডপ উদ্বোধনে গিয়েছিলেন ইমন। তাঁর পরনে ছিল ডেনিম ও সাদা শর্ট কুর্তা। সেখানেই হঠাৎ উপস্থিত সকলের আবদারে 'শ্যামা মা কি আমার কালো রে...' শ্যামাসঙ্গীত গেয়েছেন শিল্পী। আর এটাতেই বেজায় চটেছিল নিন্দুকরা। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায়, দেবী কালীর ছবি শেয়ার করে দীর্ঘ পোস্ট করে ক্ষোভ উগড়ে দেন শিল্পী।
প্রেম, বিয়ে
প্রেম, সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বারবারই চর্চায় এসেছেন ইমন। নীলাঞ্জন ঘোষের সঙ্গে বিয়ের আগে, বয়সে ছোট শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন ইমন। এমনকী গুঞ্জন, তাঁরা দীর্ঘদিন সহবাস করেছেন। গায়িকার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তার আগেও বহু সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। এমনকী এক প্রেমিকের সঙ্গে নাকি তাঁর বিয়েও হয়েছিল। যদিও এই নিয়ে কোনও দিনও মুখ খোলেননি শিল্পী।
উন্নয়নের পাঁচালি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ
সম্প্রতি দুটি বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসেন ইমন। রাজ্য সরকারের জন্য 'উন্নয়নের পাঁচালি' গেয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ভরেছে তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্যে। নেটিজেনরা দাবি করে, শাসক ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হয়ে উন্নয়নের পাঁচালি গেয়েছেন ভোটের টিকিট পেতে।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী
ইমনকে নিয়ে চর্চা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নাকি প্রার্থী হবেন ইমন। তাঁর কাছে নাকি ইতিমধ্যেই প্রস্তাব গিয়েছে। এমনকী গুঞ্জন, উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকেই নাকি ভোটে লড়বেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহের তিনি। একথা প্রায় সকলেরই জানা। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজোয় স্বামী নীলাঞ্জন ঘোষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মন্দির উদ্বোধনেও গিয়েছেন কিছুদিন আগে। তাহলে কি এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে পা রাখছেন?
সংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নের মনখোলা উত্তর দেন গায়িকা। ইমন বলেন, "দিদির বাড়িতে আমি কালীপুজোর দিনও গিয়েছিলাম। তিনি যে আমাদের কী যত্ন করেছেন, সেটা আমাদের কাছে অকল্পনীয়। ওঁর ঘরে আমরা গিয়েছি, ওঁর বেডরুম আমাকে দেখিয়েছে। ওঁর মা কোন ঘরে থাকতেন সবটা দেখিয়েছেন। নিজে হাতে করে খাবার এনে দিয়েছেন। আমাকে দুটো শাড়ি দিয়েছেন। আমার গান দিদি ভীষণ পছন্দ করেন। সব সময় সেকথা বলেন। আমার মনে হয় যে উনি আমার গানের গুনমুগ্ধ শ্রোতা, আমার অন্যান্য শ্রোতাদের মতোই। আর সেই ভালোবাসাটা যেন সব সময় পাই। আমার কাছে যদি কখনও প্রস্তাব আসে, তাহলে আমি নিশ্চয়ই সেটা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলব, আলোচনা করব, ভাববো, দেখব। কিন্তু এখন কিচ্ছু আসেনি।"
বঙ্গবিভূষণ সম্মান
এবছর আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের দিন, রাজ্য সরকার বঙ্গ সম্মানে সম্মানিত করেন একগুচ্ছ শিল্পীকে। বঙ্গবিভূষণ সম্মান পান ইমন চক্রবর্তীও। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই, শিল্পীর দিকে ধেয়ে আসে কটাক্ষ। নিন্দুকরা দাবি করেন, নিজের যোগ্যতায় নয় উল্টে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার জেরেই এই সম্মান দেওয়া হয় 'পাঁচালি গায়িকা' ইমনকে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি কেন?
বৃহস্পতিবার ছিল ইমন চক্রবর্তীর মায়ের মৃত্যু দিন ছিল। মাকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন শিল্পী। আর সেই পোস্টেই তাঁকে কটাক্ষ করা শুরু করেন নেটিজেনরা। এক নিন্দুক মন্তব্য করেন, 'আপনার মা জানে, চটি চেটে পাঁচালি গেয়ে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছেন'? আর এই মন্তব্য দেখেই বেজায় চটেছেন শিল্পী। ঘোষণা করেন, আর ব্যক্তিগত পোস্ট করবেন না সমাজমাধ্যমে।