
শিরোনামে মিমি চক্রবর্তী। বনগাঁয় অনুষ্ঠান করতে গিয়ে মঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালীন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন তিনি। নায়িকার অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার, গ্রেফতার করা হয় আয়োজক তনয় শাস্ত্রীকে। এর আগেও, বিভিন্ন সময় নানা ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হন মিমি। বিনোদন দুনিয়ার বাইরেও সারমেয়দের সঙ্গে হওয়া অন্যায় থেকে ইভটিজিংয়ের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী। এমনকী কোভিডের সময়কালে ভুয়ো ভ্যাকসিন ধরেছিলেন তিনি। সদ্য ঘটে যাওয়া হেনস্থা নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মিমি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিমি চক্রবর্তী বলেন, "আমার মনে হয় আমরা এমন একজন ব্যক্তিকে যথেষ্ট প্রচার দিয়েছি যিনি এর যোগ্য নন। আমার লড়াইটা সব সময় ছিল সত্য নিয়ে। আমার প্রতিবাদটা ছিল একজন নারীকে অসম্মান করার জন্যে। আমি নিজের ঢাক- ঢোল কোনও দিনও পেটাইনি, কোনও দিন পেটাবোও না। শুধু একটা জিনিস সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে, এক মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর অভিযুক্তকে আমি একা ধরেছিলাম। এক ট্যাক্সিচালক যখন অশালীন আচরণ করছিল, তাকে শুধুমাত্র পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিইনি, আলিপুর মেল জেলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেছিলাম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে, তার শাস্তি করিয়েছি, গোপন জবানবন্দি দিয়েছি।"
মিমি আরও বলেন, "আমায় যখন ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যখন আমি রাস্তায় প্রতিবাদ করছিলাম, তাকেও আমি শাস্তি করিয়েছি। এবার তো আবার আমার ওপরই আসছে ব্যাপারটা। অন্যের জন্য যদি করে থাকি, নিজের জন্য তো মুখ বন্দ করব না। এটা একটা পুরুষ শাসিত সমাজ। লোকে ভাবে মেয়েদের উপর যদি আমরা চিৎকার করি, আর আজকাল লোকে ভাবে সেলিব্রিটি মানেই খারাপ, সেলিব্রিটি মানেই সে পাবলিক প্ল্যাটফর্মে আছে এবং তাকে নিয়ে যা খুশি বলা যায়। যদি আমি কোনও ভুল করে থাকি, মাথা নিচু করে মেনে নেব, হাত জোড় করে ক্ষমা চাইব। আর যদি আমি ভুল না করে থাকি, আমি একটা কথা বলে থাকি, এর শেষ যদি আমি দেখতে চেয়েছিলাম, এটা শুধু তার শুরু।"
আরও পড়ুন: সুমনের পরিচালনায় উইন্ডোজ-র ছবি! 'ফ্যামিলিওয়ালা'-এ শিবপ্রসাদের সঙ্গী স্বস্তিকা, সুদীপ্তারা
নায়িকার কথায়, "মিথ্যে বারবার বললে সেটা টিআরপি হতে পারে, সত্যি হয়ে যায় না। আজ আমি নিজের জন্য দাঁড়াইনি। আমি একটা গ্রাম থেকে উঠে এসেছি। আমি প্রায় পনেরো বছর কাজ করছি। এটা আমার প্রথম অনুষ্ঠান না। ইন্ডাস্ট্রির একটা লোক, কোনও পরিচালক, কোনও আয়োজক এটা বলতে পারবে না, মিমি চক্রবর্তী কোথাও পাঁচ মিনিট দেরিতে এসেছে। আজ আমি আমার অপমান নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছি বলে, সেই জিনিসটা এমন একটা জায়গায় গেছে যে, আমি দেরিতে গিয়েছি। কারণ এটাই লোকে খাবে। লোকে এটাই জানে যে, তারকারা হয়তো দেরি করে। পুলিশ এই কেসটা দেখছে, বাকিটা আদালত দেখবে। সত্যের জয় সারা জীবন হয়েছে, হবেও। আমার আওয়াজ কেউ নিচে করতে পারেনি আজ অবধি, কেউ পারবে না। আমি ভয় পাই না। আমি শুধু আমার কর্মকে ভয় পাই। আর এক্ষেত্রে, আমার কর্ম এতটাই স্বচ্ছ, যে মাথা উঁচু করে আমি জিতব। ভগবানের নাম করে রুদ্রাক্ষ পরলেই ধার্মিক হওয়া যায় না। ধর্ম, কর্মের থেকে হয়। কর্ম, স্বচ্ছতা এবং সত্য দিয়ে হয়। বাকিটা আদালত বিবেচনা করুক, কোনটা সত্যি।"
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু মাস ধরেই আলোচনায় মিমি। গত পুজোয় মুক্তপ্রাপ্ত মিমির ছবি 'রক্তবীজ ২' বক্স অফিসে ভাল সাড়া ফেলেছে। এই ছবিতে তাঁর বিকিনি লুক রীতিমতো চর্চায় ছিল। তাঁর অভিনীত 'ডাইনি' সিরিজটিও বেশ প্রশংসিত। এছাড়াও বছরের শুরুতে মুক্তি পেয়েছে 'ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল' ছবিটি। এছাড়াও, তাঁর নাম জড়িয়েছিল বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে। অবৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপের প্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে টলিউড নায়িকাকে সমন পাঠায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। নির্দেশ মতো, ১৫ সেপ্টেম্বর, দিল্লিতে ইডির অফিসে হাজিরা দেন নায়িকা। এই মামলা এখনও চলছে।