
EIMPA (ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল, কিন্তু তার সমাধান কিছুতেই বেরোচ্ছিল না। রাজ্যে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে EIMPA নিয়ে একাধিক দুর্নীতি সামনে এসেছে। ইমপা অফিসে প্রাক্তন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের সঙ্গে বিরোধী হল মালিক ও প্রযোজকদের ঝামেলা-বচসার কথা অজানা একেবারেই নয়। কিছুদিন আগেই নন্দনে মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর সেখানেই বলা হয় যে ফেডারেশন ও ইমপায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এবার সেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হল। সম্প্রতি ফের নন্দনে মহাগুরুর উপস্থিতিতে বৈঠক হয় আর সেখানেই ঘোষণা করা হয় যে পুজোর পরেই EIMPA-তে নির্বাচন হবে।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং মিঠুন চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শান্তনু মোহন, পিয়া সেনগুপ্ত সহ ইমপার চার কমিটির সদস্যেরা। বৈঠকে ঠিক হয়েছে যে সরকারি তত্ত্বাবধানেই এই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ‘ইমপা’ যে চারটি বিভাগ নিয়ে তৈরি, অর্থাৎ প্রযোজক, পরিবেশক, প্রদর্শক এবং অ্যাসোসিয়েটদের উপস্থিতিতে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন মিঠুন চক্রবর্তী এবং শান্তনু মোহন। তাঁরা ভোটের দিন ধার্য করেন। এ দিন এ ছাড়া ‘ইমপা’র অন্য কোনও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়নি। এর আগের মিটিংয়ে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইমপার বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তার আগেই ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কমিটি তৈরি যাতে করা যায়, তারই ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকে ভোট নিয়ে একটা দ্বিমত তৈরি হয়। এক পক্ষর মত যাঁরা এই মুহূর্তে ইমপার সদস্য তাঁরা সকলেই ভোট করবেন আর অন্য পক্ষের দাবি যাঁরা অনেকদিন ধরে সদস্য হওয়ার সত্ত্বেও বেশকিছুদিন তাঁরা ছবি প্রযোজনা বা পরিবেশনার কাজ করছেন না, তাঁরা যেন এই ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না থাকে। এর মধ্যেই এই বিষয়টি পরিস্কার করা হবে। তবে পুজোর পর নভেম্বরেই ভোট হবে তা পরিস্কার। দীর্ঘদিনের এই টানাপোড়েন অবশেষে শেষ হবে। বাংলা ছবির সুদিন ফেরাতে এটাই কী প্রথম পদক্ষেপ তা বলবে সময়।
কিছুমাস আগেও রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ইমপার অফিস। বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই ইমপা অফিসে দফায় দফায় সমস্যা তৈরি হতে থাকে। পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তাঁকে সভাপতির চেয়ার ছাড়তে বলা হয়। রীতিমতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ইমপার অফিস। এমনকী জল গড়ায় থানা পর্যন্ত। এরপর ধ্বনি ভোটে রতন সাহাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেখানেও ভোট নিয়ে একাংশের তরফে নানাবিধ অভিযোগ ওঠে। নিত্যদিনের কাজের ক্ষেত্রে কার কাছে যেতে হবে তা নিয়েও বিবিধ সমস্যা তৈরি হতে থাকে। এর পরই অকশন ভোটে জিতে আসেন কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা। তবে আশা করা যাচ্ছে নভেম্বরে ভোটের পর ইমপায় আবার নতুন করে নিয়ম মেনেই কাজকর্ম হবে।