
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজো আর প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই। নানা প্ল্যানের সঙ্গে পুজোয় ছবি মুক্তি গত কয়েক বছরের একটা চল। ট্রেন্ড অনুযায়ী ফেস্টিভ মুডে বাঙালিকে হলমুখী করতে ভিড়ে সামিল হন একাধিক নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থা। পুজোর সময় প্রেক্ষাগৃহের বাইরে 'হাউজফুল' বোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। এবারও উৎসবের মরসুমে মুক্তি পাবে একাধিক ছবি। সবটা প্রকাশ্যে না এলেও, ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে ২০২৬-র পুজোয় কোন কোন ছবি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে যোগ হল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবির নাম। এই পুজোয় মুক্তি পাবে 'এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'।
এক সময় বাংলা ইতিহাস বা সাহিত্য নির্ভর বহু ছবি হত টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। মাঝে বেশ কিছু বছর, তা প্রায় উধাও হয়েছিল। তবে বর্তমান সময় ধীরে ধীরে ফিরে আসতে সাহিত্য নির্ভর ছবি। বাংলা সাহিত্যকে আশ্রয় করে টলিউডের বাইরে বলিউডেও তৈরি হয় ছবি। অবশেষে সামনে এল সৃজিতের বহু প্রতীক্ষিত ছবি 'এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'-র প্রথম ঝলক। ট্রি-টিজারে স্পষ্ট, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বনাম এক অদম্য বাঙালি সাহিত্যিকের কলমের সেই ঐতিহাসিক লড়াই, এবার সেলুলয়েডে বড় ধামাকা করতে চলেছে।
নন্দী মুভিজের ব্যানারে এবং প্রদীপ কুমার নন্দীর প্রযোজনায় মুক্তি পাবে এই ছবি। কাস্টিংয়ে রয়েছে বড় চমক। এই পিরিয়ড ড্রামায় একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে একঝাঁক তারকাকে। শরৎচন্দ্রের ভূমিকায় থাকছেন টোটা রায়চৌধুরী এবং সব্যসাচী মল্লিক আবির চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে মিমি চক্রবর্তী, দিব্যানী মণ্ডল এবং রিক চট্টোপাধ্যায়কে। শরৎচন্দ্রের লুকের জন্য প্রস্থেটিক মেকআপের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। গল্পের মূল প্রেক্ষাপট বাংলা সাহিত্যের এক স্বর্ণযুগ এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উত্তাল অধ্যায়। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'পথের দাবী' এবং ব্রিটিশ রাজের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের বাস্তব ইতিহাসকেই পর্দায় বুনতে চলেছেন পরিচালক।
শতবর্ষের দোরগোড়ায় 'পথের দাবী'
১০০ বছর আগে শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি যেভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত, তা আজও ইতিহাস। এই উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে ছিল বিপ্লবের বারুদ, যা তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করতে বাধ্য হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে, 'পথের দাবী' প্রকাশের শতবর্ষের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে সৃজিতের এই ছবি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বনাম শব্দের লড়াইকে নতুন করে ফিরিয়ে আনবে রূপোলি পর্দায়। একই সঙ্গে পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠবেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রহস্যময় এবং শক্তিশালী বিপ্লবী চরিত্র- সব্যসাচী মল্লিক। মানুষ থেকে যিনি হয়ে উঠেছিলেন এক মিথ, এক পরম বিদ্রোহী।
সুরের দুনিয়ায় সৃজিতের হাতেখড়ি
অভিনয় ও কাস্টিংয়ের পাশাপাশি এই ছবির সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে নেপথ্যে। এই প্রথম কোনও ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন সৃজিত। ছবির গান থেকে শুরু করে আবহ সঙ্গীত সবটাই তৈরি হচ্ছে তাঁর নিজস্ব ভাবনায়। বলাই বাহুল্য, এই ছবিতে সৃজিতকে একেবারে নতুনভাবে পেতে চলেছেন দর্শক।
রাজনীতি, ইতিহাস, সাহিত্য আর প্রতিবাদের চড়া মশলায় ঠাসা 'এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র' এই দুর্গাপুজোয় টলিউডের বক্স অফিসে বাকি ছবিগুলিকে বিরাট টক্কর দিতে চলছে। এখন দেখার, বড় পর্দায় শরৎচন্দ্রের সেই ‘নিষিদ্ধ’ কলম কতটা আগুন জ্বালাতে পারে।