Advertisement

Tollywood Ban Culture: টলিউডে ফের ব্যান কালচার শুরু? বিশ্বাস OUT হতেই অধিকারী-দাপট IN

Tollywood Ban Culture: কলকাতায় চলছে দ্বিভাষিক ছবি 'একা'-র শ্যুটিং। ছবির রূপটানের দায়িত্বে রয়েছেন সোমনাথ কুণ্ডু। বৃহস্পতিবার, খবর ছড়িয়ে পড়ে, এবার ছবি থেকেই তাঁকে ও তাঁর টিমকে 'ব্যান' করা হয়েছে।

সোমনাথ, পাপিয়া সোমনাথ, পাপিয়া
সৌমিতা চৌধুরী
  • কলকাতা ,
  • 03 Jul 2026,
  • अपडेटेड 5:30 PM IST

ফের শিরোনামে স্টুডিওপাড়া। টলিউডের জট যেন কেটেও-কাটছে না। ফেডারেশন বনাম ছোট পর্দার প্রযোজকদের দ্বন্দ্ব, টেকনিশিয়নদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ, বকেয়া পারিশ্রমিক, কলাকুশলীদের অতিরিক্ত সময় কাজ করানো থেকে থ্রেট বা ব্যান কালচার ইত্যাদি নানা সমস্যা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে টলিপাড়া। ইন্ডাস্ট্রির হাল ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রক। তৈরি হয়েছে উপদেষ্টামণ্ডলী। যেখানে রয়েছেন ১৯ জন সদস্য। 

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর জমানা এখন অতীত। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের ইতি, অরূপ বিশ্বাস পুলিশের স্ক্যানারে এবং স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিতে কিছুটা স্বস্তিতে শিল্পী থেকে কলাকুশলীরা। সুদিন ফিরবে বলেই আশাবাদী সকলে। তবে সে গুড়ে বালি। এবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগ উঠছে। শোনা যাচ্ছে, আড়ালে এখনও চলছে 'ব্যান কালচার'! অভিযোগের তির, খোদ টালিগঞ্জের বিধায়ক তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারির দিকে। অভিযোগ, পাপিয়ার ইশারাতেই কাজ বন্ধ করার বা না পাওয়ার হুমকি পাচ্ছেন বহু কলাকুশলী।  

কলকাতায় চলছে দ্বিভাষিক ছবি 'একা'-র শ্যুটিং। এই ছবির পরিচালক সুমন সেন। এই ছবির রূপটানের দায়িত্বে রয়েছেন টলিউডের জনপ্রিয় প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু। বৃহস্পতিবার, খবর ছড়িয়ে পড়ে, এবার ছবি থেকেই তাঁকে 'ব্যান' করার অর্থাৎ বাদ দেওয়ার কথা চলছে। শুধু সোমনাথ নয়, কেশসজ্জা শিল্পী হেমা মুন্সী সহ, আরও কিছু কলাকুশলীদেরও বাদ দেওয়ার নির্দেশ আসে পাপিয়ার 'কনফেডারেশন'-র তরফে। এই ঘটনার সত্যতা যচাই করতে আজতক বাংলার (বাংলা ডট আজতক ডট ইন) তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল সোমনাথের সঙ্গে। ক্ষোভ উগড়ে দিলেন শিল্পী। 

কনফেডারেশন থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ? 

জাতীয় পুরস্কারজয়ী রূপটান শিল্পী সোমনাথ বলেন, "আমি যে ছবিটা করছিলাম 'একা' বলে, সেটা খুব ভাল মাপের হিন্দি -বাংলা ছবি। হঠাৎ কনফেডারেশনের থেকে ওদের জানানো হয়েছে আমাদেরকে বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য, তার পরিবর্তে ওরা লোক দেবে। আসলে সেই স্বরূপবাবুর যে বিষয়টা ছিল, সেটাই আরেক নতুন ভাবে উৎপন্ন হয়েছে। আমরাই তাদেরকে ভোট দিয়ে এনেছি, মানুষ তাদের ভোট দিয়ে এনেছে। মুখে বলছে কনফেডারেশনের নামে ছাতার তলায় আনবে,তারাই আবার বলছে এদেরকে নেবেন না, এই লোকগুলোকে বাদ দিয়ে দিন দিয়ে আমাদের এই লোকগুলোকে নিন। বিষয়টা খুব কনফিউজিং। যদিও এখনও অবধি প্রোডাকশন হাউজ আমায় বাদ দেয়নি। উল্টে আমায় ছাড়া ছবিটা করবে না বলেছে। এটাই আমার কাজের জোর। আমি এই জোরটাতেই বেঁচে আছি।" 

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা

সোমনাথ জানান, তাঁরা ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির কাছে সম্পূর্ণ বিষয়টা জানিয়েছেন। এর পরেই, উপদেষ্টামণ্ডলী তৈরি হয়। তিনি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন। শিল্পী মনে করছেন, ইন্ডাস্ট্রি যাতে ভাল ভাবে চলে, সেই আবেদনেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেটা কিছু মানুষ ভাল চোখে দেখেননি। সোমনাথের কথায়, "এই ছবিতে এই নিয়ে আমার কাজের পাঁচ দিন হল। এখন অবধি আমাকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কারও হয়নি। এরপর যদি ঝামেলা হয়, কিছু হয়, সেটা আপনার প্রোডাকশন এবং প্রশাসন দু'জনেই বিষয়টাকে দেখবে। প্রশাসনের ওপর এবং সরকারের ওপর আমি পুরোপুরি আস্থাশীল।" 

'আমাদের পলিটিক্যাল বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে' 

সোমনাথ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, "আমরা চাই, ফেডারেশনে আগে যে দুর্নীতিগুলো হয়েছে সেগুলো আর না হোক। আমরা তো পলিটিক্যাল নই। আমাদের পলিটিক্যাল বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিগত সরকারের লোক হিসেবে প্রমাণ করানোর একটা চেষ্টা চলছে। এভাবে একটা নোংরামো চলছে। আজকে কি ওনারা ঠিক করে দেবেন, আমি কি কাজ করব, আমি কোথায় করব বা কোন লোক প্রডিউসার নেবে? যেখানে নতুন সরকার বলেছে যে কাউকে ব্যান করা যাবে না, এরা ভেতর থেকে চালিয়ে যাচ্ছে এসব।" 

পাপিয়া অধিকারি প্রসঙ্গে  

পাপিয়া অধিকারিকে সম্পূর্ণ বিষয়টা জানানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ওঁর সঙ্গে আমার সরাসরি কোনও কথা হয়নি। তবে ওনাদের তরফ থেকেই ওখানে বলা হয়েছে যে সোমনাথ কুন্ডুকে সবার আগে বাদ দিয়ে দিন। আমি এখনও কিছু বলছি না। তবে যদি আমার কাজে কোপ পড়ে, তখন আমি নিশ্চয়ই সমগ্র মিডিয়াকে ডেকে জানাবো।" 

টেকনিশিয়ানদের 'ডিম থেরাপি'   

টলিউডের টেকনিশিয়ানদের 'ডিম থেরাপি' প্রসঙ্গে সোমনাথ বলেন, "ডিম ছোঁড়াছুঁড়ি তো শিল্পীদের কাজ নয়, শিল্পীরা তো শিল্প সৃষ্টি করবে। আমরা কিছু বলার জন্য একটা জায়গায় জড়ো হয়েছিলাম বিধায়িকার কাছে। কারণ তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে চারটে মাত্র গিল্ড থাকবে, বাকি আর ফেডারেশন বলে কিছু থাকবে না। ফেডারেশন থাকবে না, তাহলে তো সারা ভারতবর্ষের আইনটাকে চেঞ্জ করে দিতে হবে। আমরা তো লেবার অ্যাক্টে পড়ি এবং আমাদের প্রতিটা গিল্ড হচ্ছে যখন যে গভর্মেন্ট ছিল, সেই গভর্মেন্টে অ্যাফিলিয়েটেড। উনি এখন কনফেডারেশন নিয়ে পড়েছেন, নতুন একটা প্রাইভেট সংস্থা। 'বিশ্বাস ব্রাদার্স' গেছে, এখন আমরা 'অধিকারী সিস্টার' দেখতে পাচ্ছি। মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। আমার মনে হয় না সরকারের এতে মদত আছে। কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের স্ট্যাম্পটাকে ইউজ করে এটাকে করতে চাইছে।" 

তিনি আরও বলেন, "শুধু ই ছবিটা না। বোঝা যাচ্ছে, ব্যান কালচারটাকে আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে গোপনে গোপনে। বলা হবে একে নিও না, ওকে নিও না। মানে যেটা অনির্বাণের সঙ্গে ঘটেছে, সেটা আমাদের সঙ্গেও ঘটানোর চেষ্টা চলছে। আমরা কারও বিরুদ্ধে কিছু বলিনি কখনও। আমরা বলেছি, টালিগঞ্জের কালচার ডিম ছোঁড়া নয়। আমি বামফ্রন্ট আমল থেকে কাজ করছি। তখন বাম গভর্মেন্ট ছিল। তারপরও গভর্মেন্ট চেঞ্জ হয়েছে। কিন্তু কোনও দিন ডিম ছুঁড়ে কোনও টেকনিশিয়ান, অন্য টেকনিশিয়ানকে মারেনি।" 


 

Read more!
Advertisement
Advertisement