Advertisement

Fake Sim Card: অপরাধীদের অস্ত্র আধার কার্ড, এটি ব্যবহার করেই গোপনে সক্রিয় ভুয়ো সিম কার্ড

ছত্তিশগড়ে সাইবার জালিয়াতির একটি তদন্তে এমন কিছু বেরিয়ে এসেছে যা আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের মতে, কিছু অনুমোদিত সিম বিক্রেতা গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের আধার এবং বায়োমেট্রিক তথ্যের অপব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম কার্ড চালু করছিল। এই নম্বরগুলো পরে দেশজুড়ে সাইবার অপরাধী চক্রগুলো ব্যবহার করত।

সিম কার্ডসিম কার্ড
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 09 Jul 2026,
  • अपडेटेड 4:40 PM IST

যদি কখনও নতুন সিম কার্ড পেতে আধার কার্ড এবং আঙুলের ছাপ দিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই এই খবরটি পড়া উচিত। ছত্তিশগড়ে সাইবার জালিয়াতির একটি তদন্তে এমন কিছু বেরিয়ে এসেছে যা আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের মতে, কিছু অনুমোদিত সিম বিক্রেতা গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের আধার এবং বায়োমেট্রিক তথ্যের অপব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম কার্ড চালু করছিল। এই নম্বরগুলো পরে দেশজুড়ে সাইবার অপরাধী চক্রগুলো ব্যবহার করত।

‘অপারেশন সাইবার শিল্ড’ নামক একটি পুলিশি অভিযানে দু'জন অনুমোদিত সিম বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সিম ইস্যু করার সময় আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করত। গ্রাহকদের একটি নির্দিষ্ট সিম কার্ড দেওয়া হলেও, ভুক্তভোগীর অজান্তেই তাদের আঙুলের ছাপ এবং চোখের যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের নামে এক বা একাধিক সিম কার্ড পুনরায় সক্রিয় করা হতো।

পুলিশের মতে, এই অবৈধভাবে সক্রিয় করা সিম কার্ডগুলো পরে সাইবার অপরাধীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। এই নম্বরগুলো ব্যবহার করে ভুয়া ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি) লটারি কেলেঙ্কারি, হোয়াটসঅ্যাপ জালিয়াতি, সেক্সটরশন, অনলাইন বিনিয়োগ জালিয়াতি এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধ সংঘটিত করা হত। যেহেতু মোবাইল নম্বরগুলো সাধারণ নাগরিকদের নামে রেজিস্টার ছিল, তাই তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে আসল অপরাধীদের কাছে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

দুটি পৃথক সাইবার অপরাধের তদন্তকালে এই পুরো চক্রটি উন্মোচিত হয়। একটি প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্রকল্পের আড়ালে গড়িয়াবন্দ জেলার এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৭.৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ঘটনায়, কেবিসি লটারির প্রতিনিধি সেজে প্রতারকরা এক ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকায় এবং পুরস্কার ছাড়ানোর জন্য একটি প্রসেসিং ফি দাবি করে। এই মামলাগুলোর তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ সন্দেহজনক সিম কার্ডের একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পায়।

তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, অভিযুক্তরা ই-কেওয়াইসি করার অজুহাতে গ্রাহকদের বারবার বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের জন্য বাধ্য করত। যেসব ক্ষেত্রে গ্রাহকরা তাদের আধার কার্ডের মুদ্রিত কপি জমা দিতেন, সেখানে অভিযুক্তরা নিজ হাতে ডিজিটাল যাচাইকরণ সম্পন্ন করে অতিরিক্ত সিম কার্ডগুলো সক্রিয় করে দিত। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, গ্রাহকদের কখনওই জানানো হত না যে তাদের নামে একাধিক মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশ টেলিকম কোম্পানিগুলোর সিম অ্যাক্টিভেশনের রেকর্ড, গ্রাহকের বিবরণ, প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি খতিয়ে দেখে। তদন্তকালে উদ্ঘাটিত ডিজিটাল প্রমাণ পুরো নেটওয়ার্কটির পর্দা উন্মোচন করে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া দুই পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস) এজেন্ট মানুষের নামে অননুমোদিত সিম কার্ড ইস্যু করার জন্য আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন সেই সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য কাজ করছে, যারা এই অবৈধ সিম কার্ডগুলো কিনেছিল। পুলিশ সন্দেহ করছে, একই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও বিপুল সংখ্যক জাল সিম কার্ড তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তাই, এই চক্রে আর কারা জড়িত ছিল এবং এর নেটওয়ার্কটি কতগুলো রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত, তা নির্ধারণ করতে তদন্তটি পুরো নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রসারিত করা হয়েছে।

নতুন সিম কার্ড কেনার সময় সম্পূর্ণ ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং শুধুমাত্র একটি সিম কার্ড সক্রিয় করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পুলিশ জনগণকে অনুরোধ করেছে। এছাড়াও, আধার নম্বরের সঙ্গে কতগুলি মোবাইল সংযোগ সংযুক্ত আছে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করুন। সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলে তা অপরাধীদের দ্বারা পরিচয় অপব্যবহার হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং বড় ধরনের সাইবার জালিয়াতির শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement