
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার (Baruipur Encounter Case)। তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া’ বনাম ‘দ্রুত বিচার’; এই দুই চিরাচরিত তর্ক আরও একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে এসবেরই মাঝে ফের একবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে ভারতের বুকে ঘটে যাওয়া একাধিক হাই-প্রোফাইল এবং বিতর্কিত পুলিশি এনকাউন্টারের স্মৃতি।
ভারতের কিছু আলোড়ন ফেলা 'এনকাউন্টার কেস'
বারুইপুরের এই 'অস্ত্র ছিনতাই ও পাল্টা গুলি'র তত্ত্ব নতুন কিছু নয়। ভারতের অপরাধ ও আইনি ইতিহাসে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মূল অভিযুক্তদের একই ধাঁচে খতম করা হয়েছে:
হায়দরাবাদ গ্যাংরেপ এনকাউন্টার (২০১৯): তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে এক পশু চিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ঠিক বারুইপুরের মতোই, মাঝরাতে অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি ছিল, অভিযুক্তরা পাথর ছুঁড়ে এবং অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকেই গুলি করে মারা হয়। দেশজুড়ে সেই ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তৈরি কমিশন ওই এনকাউন্টারকে ‘ভুয়ো’ এবং সাজানো বলে আখ্যা দেয়।
বিকাশ দুবে এনকাউন্টার (২০২০): উত্তরপ্রদেশের কানপুরে আট পুলিশ কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবেকে মধ্যপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করে আনা হচ্ছিল। উজ্জয়িনী থেকে কানপুর ফেরার পথে পুলিশের গাড়ি উল্টে যায় এবং বিকাশ পুলিশ কর্মীর পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে খতম করা হয়। যোগী রাজ্যের এই এনকাউন্টার নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়।
সোহারাবুদ্দিন শেখ মামলা (২০০৫): গুজরাতের এই হাই-প্রোফাইল এনকাউন্টার মামলাটি ভারতের রাজনীতির অন্দরে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল। গুজরাত পুলিশের দাবি ছিল সোহারাবুদ্দিন লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি এবং সে নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ছক কষছিল। পরে সিবিআই তদন্তে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে।