
Jeevan Pramaan Fraud Calls: নভেম্বর মাস মানেই লাইফ সার্টিফিকেট জমা করতে হবে। তাড়াহুড়ো লেগে যায় পেনশনভোগীদের মধ্যে। কারণ, সার্টিফিকেট জমা করতে ব্যাঙ্ক-পোস্ট অফিসে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা। এই দুর্ভোগ এড়াতে ৮০ ঊর্ধ্বদের অক্টোবরে লাইফ সার্টিফিকেট (Jeevan Pramaan / Life Certificate) জমা করার সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনলাইনেও লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রবীণই তাতে সরগর নন। স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করে ঘরে বসেও লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থায় পোস্ট অফিসের কর্মী বাড়িতে এসে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কাজে প্রবীণদের সাহায্য করেন।
কিন্তু এত কিছুর পরেও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে লাইফ সার্টিফিকেট (Jeevan Pramaan / Life Certificate) জমা করার সুযোগে প্রবীণদের পেনশনের জমা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা! কারণ, লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নামে প্রবীণদের সঞ্চয় হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়েছে একদল প্রতারক।
জানা গিয়েছে, প্রবীণদের ফোন করে প্রবীণদের আস্থা অর্জন করতে তাঁর পেনশন সংক্রান্ত চূড়ান্ত গোপনীয় কিছু তথ্য যেমন, চাকরিতে যোগদানের এবং অবসরের তারিখ, পিপিও নম্বর, আধার নম্বর, মাসিক পেনশনের অঙ্ক বলে দিচ্ছে প্রতারকরা। এর ফলে সহজেই প্রতারকদের পেনশন দফতরের কর্মী বলে বিশ্বাস করে নিচ্ছেন পেনশনভোগীরা। এর পরই ‘ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড’ বা ওটিপি ভেরিফিকেশনের নামে প্রবীণদের ফোনে ওটিপি পাঠিয়ে ওই নম্বর জেনে নিয়ে তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয়, পেনশন ফান্ডের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা।
‘জীবন প্রমাণ’ বা লাইফ সার্টিফিকেটের নামে দেশজুড়ে এই ধরনের প্রতারণাচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অর্থমন্ত্রকের। গত বছরের নভেম্বর থেকেই এই ধরনের বেশ কয়েকটি প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন করে অজ্ঞাতপরিচয় কোনও ব্যক্তি ওটিপি চাওয়া মানেই সতর্ক হতে হবে। এই ওটিপি জানিয়ে দেওয়ার অর্থ হল, ওই অচেনা ব্যক্তিকে আপনার অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস দিয়ে দেওয়া। তাই ফোনে কাউকেই ওটিপি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। চিন্তার বিষয় হল, যে সব তথ্য শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকার এবং পেনশনভোগীর কাছে থাকার কথা, সেগুলি প্রতারকরা কীভাবে জানতে পারছে তা এখনও জানা যায়নি। সুরতাং, সতর্ক হতে হবে পেনশনভোগীদেরই।