Advertisement

Jaipur Murder Case: মা মরলে সরকারি চাকরি, সেই লোভে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করাল মেয়ে, ভয়াবহ ঘটনা

সম্পত্তি ও সরকারি চাকরির লোভে মাকে খুন। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল রাজস্থানে। ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে মেয়েকে।

জয়পুরে মার্ডার কেসজয়পুরে মার্ডার কেস
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 09 Jul 2026,
  • अपडेटेड 9:37 AM IST
  • সম্পত্তি ও সরকারি চাকরির লোভে মাকে খুন
  • এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল রাজস্থানে
  • ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে মেয়েকে

সরকারি চাকরি ও সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্যে মাকে খুন। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল রাজস্থানের জয়পুরে। পুলিশের দাবি, প্রথমে এই ঘটনাকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়। তবে তদন্তের পর বোঝা যায় সম্পত্তি এবং সহনাভূতিমূলক সরকারি চাকরি পাওয়ার লোভেই মা নীরজ শর্মাকে খুনের ছক কষেন তাঁরই মেয়ে আয়ুষী শর্মা।

প্রসঙ্গত, নিহত নীরজ শর্মা জয়পুরের এয়ারপোর্ট কলোনিতে মেয়ে আয়ুষী এবং মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী কিশোর ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। প্রায় আড়াই বছর আগে তাঁর স্বামী বিজয় বশিষ্ঠ ওরফে বিজয় শর্মা, যিনি জয়পুর আদালতের একজন লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক ছিলেন, তিনি বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের একজন সদস্যের সরকারি চাকরি পেতে পারতেন। তখন সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা আয়ুষী সেই চাকরি পেতে চেয়েছিলেন।

প্রথমদিকে নীরজও মেয়েকে চাকরি দিতে রাজি ছিলেন। কিন্তু নীরজের ভাই, যিনি একই আদালতে এলডিসি হিসেবে কর্মরত, তাঁকে বোঝান যে তিনি নিজেই যথেষ্ট শিক্ষিত এবং চাকরিটি করলে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ছেলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। তিনি আরও বলেন, আয়ুষী পরে পড়াশোনা করে নিজের কেরিয়ার গড়তে পারবে।

এরপর নীরজ নিজেই সরকারি চাকরি নিয়ে নেন। পুলিশের দাবি, এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই মা-মেয়ের মধ্যে ঝামেলা বেঁধে যায়। 

এর কিছুদিন পর ২৪ বছরের আয়ুষী পরিবারের পুরনো বাড়িতে চলে যান। সেখানে আইন (এলএলবি) পড়ার সময় তাঁর খুড়তুতো ভাই বলরামকে মাকে খুন করার প্রস্তাব দেন।

তদন্তকারীদের দাবি, বলরামকে আগ্রা রোডের প্রায় ৫ কোটি টাকার পাঁচ বিঘা জমি এবং ভরতপুরের আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার চার বিঘা জমির অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন আয়ুষী। এর বিনিময়ে তিনি জয়পুরের সম্পত্তি নিজের নামে করতে এবং মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি চাকরি পাওয়ার প্ল্যান করেন। পুলিশের অভিযোগ, পরে এই ষড়যন্ত্রে যোগ দেন আয়ুষীর কাকা মোহন শর্মাও।

প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম পরিকল্পনা ছিল গাড়ি চাপা দিয়ে নীরজকে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া। প্রায় এক মাস আগে মোহন শর্মা ভরতপুরের হেমন্ত শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, হেমন্ত একটি থার গাড়ি দিয়ে নীরজকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান।

Advertisement

এরপর থেকেই নীরজ সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তিনি বাড়ির বাইরে কম বেরোতে শুরু করেন এবং নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে জাল লাগান। পাশাপাশি চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসান।

দ্বিতীয় পরিকল্পনা
প্রথম প্ল্যান ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হেমন্ত শর্মা খুনের জন্য ৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন। এরপর তিনি ভরতপুর থেকে ৩৫ হাজার টাকায় হরিয়ানা নম্বরের একটি স্করপিও গাড়ি ভাড়া নেন।

অভিযোগ, আকাশ শর্মা ও অরবিন্দ শর্মাকে গাড়ি চালিয়ে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে রোহিত ও মোহিত নীরজের গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন।

যে দিন খুন
৪ জুলাই নীরজ তাঁর মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ছেলেকে ফিজিওথেরাপি করিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশের দাবি, সেই সময় আয়ুষী ফোন করে জরুরি কাজের অজুহাতে তাঁকে দ্রুত বাড়ি ফিরতে বলেন।

ফেরার পথে ৬০ ফুট চওড়া প্রায় ফাঁকা রাস্তায় হাঁটার সময় মোটরসাইকেলে থাকা রোহিত ও মোহিত স্করপিওতে বসে থাকা আকাশকে সংকেত দেন। এরপর ১০০ কিমি বেশি গতিতে স্করপিওটি নীরজকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় তিনি প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর আয়ুষী কান্নায় ভেঙে পড়ার অভিনয় করে তাঁর মামাকে ফোন করে জানান, তাঁর মা পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। পরে কাকা মোহন শর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ গ্রামে নিয়ে যান।

সিসিটিভিতেই ফাঁস ষড়যন্ত্র
নীরজের ভাই প্রথম থেকেই ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তারপর পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানান।

তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নীরজ রাস্তার একেবারে ধারে হাঁটছিলেন, অথচ প্রায় ফাঁকা রাস্তায় একটি দ্রুতগতির গাড়ি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ধাক্কা দেয়। আরও ফুটেজে দেখা যায়, একটি স্করপিও আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। দু'জন ব্যক্তি আলাদা জায়গায় নজরদারি করছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁরা আহত নীরজের কাছে না গিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে সেখান থেকে চলে যান।

সিসিটিভির সূত্র ধরে পুলিশ স্করপিও গাড়িটি উদ্ধার করে। গাড়ির মালিক জানান, সেটি হেমন্ত শর্মাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বলরাম পলাতক হয়ে যায়।

গ্রেফতার ও পুলিশের দাবি

পুলিশ পরে রূপবাস গ্রামে পৌঁছে আয়ুষীকে আটক করে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে তিনি পুলিশকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে জয়পুরে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশের দাবি, অন্যান্য অভিযুক্তদের মুখোমুখি করার পর আয়ুষী খুনের ষড়যন্ত্রে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের আরও দাবি, জেরার সময় তাঁর মধ্যে কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি। এখনও তিনি অনেক প্রশ্নের এড়িয়ে যাওয়া উত্তর দিচ্ছেন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement