
ডায়েটিশিয়ান স্ত্রীকে হত্যা। তারপর দেহ লুকিয়ে রাখা হল কাঠের বাক্সে। যাতে কেউ বুঝতে না পারে সেজন্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করল অভিযুক্ত স্বামী। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য গুজরাতের সুরাতে।
বিশাল সালভি। থানায় গিয়ে জানায়, তার স্ত্রী শিল্পা সালভি নিখোঁজ। চারদিন আগে তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল। তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরি নিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
তবে বেশ কয়েকদিন ধরে খোঁজ চালানোর পরও শিল্পার সন্ধান পাননি তদন্তকারীরা। এরইমধ্যে ওই দম্পতির বাড়ি থেকে একটা হাতে লেখা নোট উদ্ধার হয়। সেই নোটটি বিশাল নিজেই লিখেছিল। সেখানে লেখা ছিল, 'আমিই খুন করেছি। শিল্পা আর বেঁচে নেই।' এই চিঠিটি দম্পতির নাবালক সন্তান পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এবার মামলার মোড় ঘুরে যায়। এবার খুনের তদন্ত শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। প্রথমে তাঁরা একটা সালাবাতপুরা থানা এলাকায় একটি বাড়ির সন্ধান পান। সেই বাড়িটি বিশালেরই। পরিত্যক্ত সেই বাড়ির তালা ভাঙার পর ঘরের একটি কোণে রাখা কাঠের বাক্স থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে।
বাক্স খুলে দেখা যায় শিল্পার পচে যাওয়া দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, সেই দেহটি কাচা সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের চার থেকে পাঁচ দিন আগে শিল্পাকে খুন করা হয়েছিল।
এক পুলিশ কর্তা জানান, নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছিল। তবে গোটা ঘটনা খুনের দিকে মোড় নেয় সেই নোটটি উদ্ধারের পর। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। ফরেন্সিক রিপোর্ট সামনে আসার পরই জানা যাবে।
প্রাথমিক তদন্ত এবং পরিচিতদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ওই দম্পতির মধ্যে অশান্তি হোতো। স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করত স্ত্রী। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে খুঁজে বের করতে একাধিক পুলিশ দলকে কাজে লাগানো হয়েছে।