
শুক্রবার সকালেই পশ্চিমবঙ্গে অ্যাকশনে ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এ দিন রাজ্যের একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালায় ইডি। ‘সোনা পাপ্পু’ ও প্রাক্তন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি তোলাবাজি চক্রের তদন্তে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে খবর মিলছে।
কোথায় কোথায় তল্লাশি?
ইডি অধিকারিকরা কলকাতার রয় স্ট্রিটে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও একটি হোটেলে তল্লাশি চালায়। পাশাপাশি আরও এক কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টরের বাড়িতেও অভিযান চলে। ও দিকে আবার একই সময় মুর্শিদাবাদেও অভিযান শুরু করে ইডি-এর আরও একটি দল। সেখানে শান্তনুর বাড়িতেও পৌঁছে যায় তাঁরা। সূত্রের খবর, সকাল ৬টা থেকেই শুরু হয়ে এই অভিযান।
ইডি-এর দাবি, এই তোলাবাজি চক্রটি পলাতক অপরাধী বিশ্বজিৎ পোদ্দারের দ্বারা পরিচালিত হতো। এই বিশ্বজিৎই ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত। এই তোলবাজির ব়্যাকেটে তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়ী জয় কামদারও যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তদন্তকারীদের আরও ধারণা, পুলিশের শান্তনু বিশ্বাস এই চক্রকে পরিচালনায় সহায়তা করেছিলেন। তাই একযোগে একাধিক জায়গায় তল্লাশিতে নেমেছে ইডি।
প্রসঙ্গত, ১৪ মে ইডি শান্তনুকে গ্রেফতার করে। ইডির অভিযোগ ছিল, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তথ্য গোপন করছিলেন শান্তনু। সহযোগিতা করছিলেন না।
এই তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি ১৯ এপ্রিল শান্তনুর বালিগঞ্জের বাড়ি এবং ফার্ন রোডের ফ্ল্যাটেও তল্লাশি চালিয়েছিল। পাশাপাশি ব্যবসায়ী জয় কামদারের বেহালার সম্পত্তিতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি-এর কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
১ এপ্রিলের তল্লাশির সময় ED ১.৪৭ কোটি টাকা নগদ, ৬৭ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনা-রূপা এবং একটি দেশি রিভলভার বাজেয়াপ্ত করে।
মাথায় রাখতে হবে এর আগেও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার নজরে এসেছেন শান্তনু। এর আগে অবৈধ কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দিল্লির ইডি অফিস থেকে তাঁকে তলব করা হয়েছিল। তবে তিনি সেই সময় হাজিরা দেননি।