Advertisement

৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে বৃদ্ধকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নাসরাপুরে বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পুনের বিভিন্ন এলাকাতেও অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ হয়।

বৃদ্ধকে ফাঁসির নির্দেশ বৃদ্ধকে ফাঁসির নির্দেশ
Aajtak Bangla
  • পুনে ,
  • 29 Jun 2026,
  • अपडेटेड 5:52 PM IST
  • অতিরিক্ত বিচারক এস. আর. সালুঙ্খে এই মামলাকে 'রেয়ারেস্ট অব দ্য রেয়ার' বা বিরলতম অপরাধের শ্রেণিতে ফেলেন
  • য়সের কারণে শাস্তি লঘু করার আবেদন খারিজ করেন

মহারাষ্ট্রের পুনেতে ৩ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের অপরাধে ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে ফাঁসির নির্দেশ বিশেষ আদালতের। অপরাধের মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আদালত 'লাস্ট সিন টুগেদার' (শেষবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল) তত্ত্বের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে।

ঘটনাটি ১ মে, ২০২৬-এ পুনে জেলার নাসরাপুর গ্রামের। মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল শিশুটি। অভিযুক্ত ভীমরাও কাম্বলে শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর খুন করে। এদিকে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গোয়ালঘরের ভিতর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়।

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নাসরাপুরে বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পুনের বিভিন্ন এলাকাতেও অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ হয়।

মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। ঘটনার দিনই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং ১৬ দিনের মধ্যে ১,২০০ পাতার চার্জশিট জমা দেয়। ২৮ মে আদালতে শুনানি পর্ব শুরু হয়। ২০ জুন চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। ২৫ জুন আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করে।

রায়ে আদালত জানায়, 'লাস্ট সিন টুগেদার' তত্ত্ব এবং শক্তিশালী পরিস্থিতিগত প্রমাণের মাধ্যমে প্রসিকিউশন সফলভাবে অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছে।

অতিরিক্ত বিচারক এস. আর. সালুঙ্খে এই মামলাকে 'রেয়ারেস্ট অব দ্য রেয়ার' বা বিরলতম অপরাধের শ্রেণিতে ফেলেন। বয়সের কারণে শাস্তি লঘু করার আবেদন খারিজ করে তিনি বলেন, 'অভিযুক্তের হিংস্র মানসিকতা বিচারব্যবস্থা ও সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।' 

আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, 'অভিযুক্ত সমাজের জন্য এখনও বিপজ্জনক। তার মধ্যে অনুশোচনা বা সংশোধনের কোনও লক্ষণ নেই। তাকে আর সংশোধন করা সম্ভব নয়।'

অভিযুক্তের আইনজীবী হিম্মতরাও সূর্যবংশী দাবি করেন, 'লাস্ট সিন টুগেদার' তত্ত্ব প্রমাণ করার মতো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। তিনি অভিযুক্তের বয়স, পরিবারের ও গ্রামের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

Advertisement

প্রতিরক্ষা পক্ষ আদালতের কাছে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানায়।

অন্যদিকে, সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট অজয় মিসার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করে অপরাধের নৃশংসতা এবং নির্যাতিতার অতি অল্প বয়সের কথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।

আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী)-এর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

 এক পোস্টে সুপ্রিয়া সুলে লেখেন, 'অবশেষে ছোট্ট নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পেল, আমরা সবাই এই রায়কে স্বাগত জানাই। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড হওয়াই প্রত্যাশিত ছিল। আমরা বরাবরই দাবি জানিয়ে এসেছি, এ ধরনের মামলার শুনানি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে হওয়া উচিত, যাতে দোষীরা দ্রুত শাস্তি পায়। তদন্তকারী আধিকারিকরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত গোটা তদন্তকারী দলকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।' 

Read more!
Advertisement
Advertisement