
Father Kills Son In Karnataka: কথায় বলে, মানুষের জিভের ধারে প্রাণ চলে যায়। কিন্তু সেই প্রবাদ যে এভাবে মর্মান্তিকভাবে ফলে যাবে, তা না শুনলে বিশ্বাস করা যাবে না। সেই বিষাক্ত বিদ্রুপই এবার প্রাণ কেড়ে নিল এক নিষ্পাপ শিশুর। কর্ণাটকের বিজয়পুরার এই ঘটনায় শিউরে উঠছে সমাজ। গ্রামের মানুষের বাঁকা কথা আর ‘সন্দেহ’-এর জোগান সইতে না পেরে নিজের ৬ বছরের সন্তানকেই খতম করল বাবা। জেদের বশে শান্ত কৃষ্ণা নদীর স্রোতে ছুঁড়ে ফেলে দিল নিজেরই রক্তকে। অপরাধ? ওই একরত্তি ছেলেটি নাকি দেখতে বাবার মতো হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত বিজয়পুরার একটি গ্রামে। অভিযুক্ত বাবার নাম রাঘবেন্দ্র। স্থানীয় সূত্রে খবর, পাড়াপড়শি থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন, অনেকেই মাঝেমধ্যে খোঁচা দিতেন রাঘবেন্দ্রকে। তাঁদের দাবি ছিল, ৬ বছরের ছেলেটি দেখতে মোটেও তাঁর মতো নয়। এই সন্দেহের বীজই ক্রমে মহীরুহ হয়ে ওঠে রাঘবেন্দ্রর মনে। রাগের মাথায় পরিকল্পনা ছকে গত সপ্তাহে একদিন ছেলেকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর জনশূন্য এক জায়গায় নদীর ব্রিজের ওপর থেকে টলমলে শিশুটিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় গভীর জলে।
এদিকে ছেলে নিখোঁজ দেখে পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হলে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং রাঘবেন্দ্রর অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ দানা বাঁধে পুলিশের মনে। শেষমেশ পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে ওই ব্যক্তি। স্বীকার করে নেয়, নিছক ‘ইগো’ আর সন্দেহের বশবর্তী হয়েই সে ছেলেকে খুন করেছে। নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে শিশুটির দেহ। মানুষের বাঁকা কথার উত্তর দিতে গিয়ে যে অপরাধ সে করল, তার কোনও ক্ষমা হয় না। অন্ধ ক্রোধ আর সন্দেহের নেশায় একটা সাজানো সংসার এখন ধ্বংসস্তুপ।