Advertisement

Howrah Student Kidnapped: বিদেশে পড়াশোনা-চাকরির টোপ, কলকাতায় আসতেই 'নিখোঁজ' ছাত্রী, পুলিশ যা করল...

Howrah Student Kidnapped: ইনস্টাগ্রামে পরিচয়। তার পর বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির টোপ। সেই প্রস্তাবে কলকাতায় আসার পরেই বিপাকে পড়েন হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের এক ছাত্রী। অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আন্তরাজ্য সাইবার অপরাধী চক্র। টাকা না দিলে ছাত্রীকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিল অভিযুক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিল অভিযুক্তরা।
প্রীতম ব্যানার্জী
  • হাওড়া,
  • 11 Sep 2026,
  • अपडेटेड 6:01 PM IST
  • বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির টোপ।
  • কলকাতায় আসার পরেই বিপাকে পড়েন হাওড়ার ছাত্রী।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিল অভিযুক্তরা।

Howrah Student Kidnapped: ইনস্টাগ্রামে পরিচয়। তার পর বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির টোপ। সেই প্রস্তাবে কলকাতায় আসার পরেই বিপাকে পড়েন হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের এক ছাত্রী। অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আন্তরাজ্য সাইবার অপরাধী চক্র। টাকা না দিলে ছাত্রীকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ফোনের সূত্র ধরে নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে পৌঁছে যায় পুলিশ। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ওই ছাত্রীকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিল অভিযুক্তরা। বিদেশে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করানো হবে। তারপরে চাকরির ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। এমনই প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

জগৎবল্লভপুরের শংকরহাটি ২ নম্বর এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রী গত ৭ সেপ্টেম্বর কোনও এক ইনস্টিটিউটে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি। কিন্তু তার পর আর বাড়ি ফেরেননি। দীর্ঘ সময় কোনও খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যেরা জগৎবল্লভপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কলকাতায় আসার জন্য স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার করেছিলেন ওই ছাত্রী। বাসে করে তিনি ধর্মতলায় পৌঁছন। সেখান থেকে নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে যান। অভিযোগ, ওই হোটেল আগেই ভাড়া করে রেখেছিল সাইবার অপরাধীরা।

এর পরেই পরিবারের কাছে ফোন আসে। মেয়েকে নিজেদের কব্জায় রাখার কথা জানিয়ে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এই মুক্তিপণের ফোনের যোগ রয়েছে বুঝতে পেরে তদন্তে নামে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ।

সাইবার অপরাধীদের ফোন নম্বর এবং যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। একাধিক নম্বরের গতিবিধির উপর নজর রাখেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রেই পুলিশ জানতে পারে, কলকাতার নিউমার্কেট থানা এলাকার একটি হোটেলে রয়েছেন ওই ছাত্রী।

Advertisement

এর পর দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশের একটি দল। নিউমার্কেট এলাকার ওই হোটেলে পৌঁছে ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলের ঘরে ওই ছাত্রী একাই ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কোনও অপহরণকারী ছিল না।

তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় কোনও ছোট চক্র নয়। একটি আন্তরাজ্য সাইবার অপরাধী দলের যোগ থাকতে পারে। বিহার, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ অথবা হরিয়ানা থেকে ওই চক্র পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ পুলিশের। যদিও ঠিক কোথা থেকে এই চক্র কাজ করছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অভিযুক্তদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। কী ভাবে ইনস্টাগ্রামে ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্র এর আগে আরও কাউকে একই ভাবে ফাঁদে ফেলেছিল কি না, তা-ও দেখা হচ্ছে।

অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং খুনের হুমকির অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা জানিয়েছেন, ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মেয়েকে ফিরে পেয়ে আপাতত স্বস্তিতে পরিবার। উদ্বেগের দিন কাটিয়ে মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছে পরিবার। প্রশাসনের এই ভূমিকায় কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে তারা।

এই ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া প্রলোভনে পা দেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির প্রস্তাব এলেই তা সত্যি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরিচয় যাচাই না করে কাউকে ব্যক্তিগত নথি, ফোনের তথ্য বা টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। 

Read more!
Advertisement
Advertisement