Advertisement

'হাত ধরে টেনে চুমু, শারীরিক সম্পর্ক...', নাসিক TCS BPO তে প্রথম নির্যাতিতার বয়ান

নির্যাতিতার দাবি, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তাঁর সঙ্গে দানিশ শেখের পরিচয় হয়। দু’জনেই একই কলেজে পড়তেন। দানিশ কাজের অজুহাতে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা করত। এভাবে তাঁদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে।

নাসিক কাণ্ডে দেশে তোলপাড় নাসিক কাণ্ডে দেশে তোলপাড়
Aajtak Bangla
  • নাসিক ,
  • 15 Apr 2026,
  • अपडेटेड 7:11 PM IST
  • নাসিকের TCS-এর BPO-তে ধর্মান্তরণ ও যৌন হেনস্থার মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল
  • আজ তক/ইন্ডিয়া টুডেকে ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম বিস্তারিতভাবে জানালেন প্রথম অভিযোগকারিণী

নাসিকের TCS-এর BPO-তে ধর্মান্তরণ ও যৌন হেনস্থার মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। আজ তক/ইন্ডিয়া টুডেকে ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম বিস্তারিতভাবে জানালেন প্রথম অভিযোগকারিণী। তাঁর অভিযোগ, চাকরির লোভ ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। ধর্ম পরিবর্তনের চাপ দেওয়ার পর করা হয়েছে ব্ল্যাকমেলিংও। 

নির্যাতিতার দাবি, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তাঁর সঙ্গে দানিশ শেখের পরিচয় হয়। দু’জনেই একই কলেজে পড়তেন। দানিশ কাজের অজুহাতে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা করত। এভাবে তাঁদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এই সময় দানিশ নিজেকে একটি কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। সেই ভরসায় অভিযোগকারিণী তাঁর উপর বিশ্বাস করতে শুরু করেন এবং তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

তিনি জানান, ২০২২ সালের জুলাই মাসে একদিন দেখা করার সময় দানিশ হঠাৎ শারীরিক সম্পর্কের দাবি করে। জোর করে তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে কিস করে। বাধা দিলে দানিশ বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তবে তিনি তখন উত্তর দেননি। 

এরপর দানিশ নিয়মিত তাঁর সঙ্গে দেখা করতে থাকে। পড়াশোনা শেষ করার পর দানিশের পরামর্শে অভিযোগকারিণী একটি বহুজাতিক সংস্থায় ইন্টারভিউ দেন এবং নির্বাচিত হন। দানিশও একই সংস্থায় কাজ করায় দুজনের যোগাযোগ  বাড়তে থাকে। এই সময় দানিশের বন্ধু তোসিফ আখতার এবং নিদা খানও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা সময়ও কাটাতে থাকেন। 

অভিযোগকারিণী জানান, সেই থেকেই ধর্ম নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তাঁদের মধ্যে। দানিশ ও তোসিফ হিন্দু ও মুসলিম ধর্মের মধ্যে পার্থক্য করতে থাকে। ইসলামকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে প্রমাণের চেষ্টা করত সে। ইসলাম গ্রহণ করার জন্য চাপ দেওয়া শুরু সেই থেকেই।  

যুবতীর আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের অগাস্টে দানিশ তাঁকে বাইকে ঘোরানোর অজুহাতে একটি হোটেলে নিয়ে যায়, যেখানে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এই ঘটনার পর গোটা বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ দানিশের বন্ধু তোসিফও সবটা জেনে যায়। আর এই সুযোগ নিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে এবং শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে।

Advertisement

অভিযোগকারিণীর দাবি, তিনি তোসিফের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে সেজন্য তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। তৌসিফ অফিসেও তাঁর সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করতে শুরু করে। শরীরের বিভিন্ন অংশে স্পর্শ করত সুযোগ পেলেই। 

তিনি আরও জানান, দানিশ ও তোসিফ ক্রমাগত তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। তাঁরা হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলত। এমন কী হুমকি দেওয়া হয় এই বলে যে, যদি ধর্ম পরিবর্তন না করেন তাহলে তাঁর  ব্যক্তিগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। 

এই মামলায় বড় মোড় আসে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন এক মহিলা তাঁকে মেসেজ করেন। পরে জানা যায়, তিনি দানিশ শেখের স্ত্রী এবং তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। তখন আর কিছু বুঝতে বাকি থাকেনি যুবতীর। দানিশ যে তাঁকে ফাঁসিয়েছে, সেটা বুঝে যান। 

অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে প্রতারণার মধ্যে রাখা হয়। দানিশ তার বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ফাঁসায় এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

পুলিশকে তিনি এও জানিয়েছেন, চাকরি, বিয়ে এবং ধর্মের নামে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়। ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয় এবং ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। 
  

Read more!
Advertisement
Advertisement