
প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রী-কে খুন। সেই খবর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে দিয়ে বোনকে খুন করে আত্মঘাতী নিজেও। এক ব্যাঙ্ক অফিসারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য লখনউয়ের গোমতীনগরে।
মানস নামে সেই ব্যক্তি প্রথমে স্ত্রী দিব্যা মিশ্রকে খুন করে। দিব্যা মানসের মতোই এক ব্যাঙ্কে কর্মরত। অভিযোগ স্ত্রী-কে ব্যাঙ্ক থেকে ডেকে এনে রাস্তায় প্রকাশ্যে খুন করে মানস। তারপর সেখান থেকে নিজের বাড়িতে যায়। তারপরই স্টেটাস দেয় হোয়াটসঅ্য়াপে।
সেই স্টেটাসে লেখা ছিল, 'Today I killed my wife as she cheated on me... now I have to kill myself and my sister... her sister Pragya and Bharat knows everything.' অর্থাৎ মানস দাবি করেছিল, স্ত্রী তার সঙ্গে প্রতারণা করছিল। তাই সে খুন করেছে। এবার নিজের বোনকে খুন করবে। তারপর শেষ করবে নিজেকে। সেখানে মানস এও দাবি করেছিল, দিব্যার বোন প্রজ্ঞা এবং ভারত এই বিষয়ে সবকিছু জানে।
পুলিশের দাবি, এই স্টেটাস দেওয়ার পরই মানস প্রথমে তার বোন সীমাকে গুলি করে খুন করে। পরে আত্মঘাতী হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মানসের স্ত্রী দিব্যা লখনউয়ের আলমবাগের সিঙ্গারনগরের বাসিন্দা ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। ফ্যামিলি কোর্টেও মামলা চলছিল। অভিযোগ, ওই পারিবারিক বিবাদের জেরেই স্ত্রীকে খুন করে মানস।
তবে মানস আগে থেকেই স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল, নাকি কোনও বিবাদের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি মোবাইল স্টেটাসে করা দাবিগুলি এবং সেখানে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।
বাড়ি থেকে উদ্ধার দুই দেহ
এদিকে মানসের হোয়াটসঅ্য়াপ স্টেটাস দেখে, প্রতিবেশী অঙ্কুরের সন্দেহ হয়। তিনি মানসকে ফোন করেন। ফোন রিসিভ না করায় সন্দেহ বাড়ে। তখন কয়েকজন এসে দরজা ভাঙেন। দেখেন, মানস এবং তাঁর বোন দু’জনেই মৃত অবস্থায় পড়ে। এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ঘরে ঢুকে দেখা যায় দুজনেই মৃত। টিভিতে জোরে জোরে হনুমান চালিসা চলছে।
পুলিশকে অঙ্কুর জানিয়েছেন, মানসের মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তার চিকিৎসা চলছিল। SBI-এর সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত ছিল সে। বাড়িতে ছিল এক অসুস্থ বোন। স্ত্রী আগে থাকতেন। বাবা-মা আগেই মারা গিয়েছিলেন।