Advertisement

প্রি-ওয়েডিং ফটোশ্যুটে খুন, যুবককে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলল হবু স্ত্রী ও প্রেমিক

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৯ জুন সিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে যান কেতন। সেখানে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটেরও পরিকল্পনা ছিল। দুর্গের এক নির্জন এলাকায় সুযোগ বুঝে কেতনকে পিছন থেকে ধাক্কা দেন সিয়া ও চেতন। প্রায় ৩৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 23 Jun 2026,
  • अपडेटेड 3:27 PM IST
  • বিয়ের আর মাত্র এক মাস বাকি ছিল।
  • হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট, জন্মদিন উদযাপন, বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা, সব মিলিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন ২৪ বছরের কেতন বিশাল আগরওয়াল।

বিয়ের আর মাত্র এক মাস বাকি ছিল। হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট, জন্মদিন উদযাপন, বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা, সব মিলিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন ২৪ বছরের কেতন বিশাল আগরওয়াল। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত পরিণত হল দুঃস্বপ্নে। মহারাষ্ট্রের পুণের ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে ৩৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। তবে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, কেতনকে পরিকল্পনা করে খুন করেছেন তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল এবং সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরী।

তদন্তে জানা গিয়েছে, পরিবারের ইচ্ছায় কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় থেকেই সিয়ার সঙ্গে চেতন চৌধুরীর প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। অভিযোগ, বিয়েতে রাজি হলেও অন্তরালে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষছিলেন সিয়া ও তাঁর প্রেমিক।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৯ জুন সিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে যান কেতন। সেখানে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটেরও পরিকল্পনা ছিল। দুর্গের এক নির্জন এলাকায় সুযোগ বুঝে কেতনকে পিছন থেকে ধাক্কা দেন সিয়া ও চেতন। প্রায় ৩৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

তদন্তকারীদের দাবি, এটি ছিল না প্রথম চেষ্টা। এর কয়েকদিন আগে, ১৪ জুনও কেতনকে একই দুর্গ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে সাপের ভয় দেখিয়ে তাঁকে খাদে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। কেতন তখনও বুঝতে পারেননি যে তাঁকে ঘিরে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র চলছে।

কেতনের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, বিয়ের আগে যুগলের বালি সফরের পরিকল্পনা ছিল। সমস্ত প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু যাত্রাপথে সিয়া দাবি করেন যে তাঁর পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়েছে, ফলে সেই সফর বাতিল করতে হয়। শুধু তাই নয়, সিয়ার জন্মদিন উদযাপনের জন্য কেতন মহাবালেশ্বরের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট বুক করেছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য জয়পুরের একটি প্রাসাদও ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তাই এমন মর্মান্তিক পরিণতি এখনও মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তদন্তকারীরা তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেন। সেখান থেকেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। বর্তমানে পুলিশ আরও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।

একটি প্রেমের সম্পর্ক, আসন্ন বিয়ে এবং ভবিষ্যতের অসংখ্য পরিকল্পনার আড়ালে যে এত ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে, সেই ঘটনাই এখন আলোড়ন ফেলেছে মহারাষ্ট্রজুড়ে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement