
Nagpur Forced Conversion Video: নাগপুরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে একজন মহিলাকে কাঁদতে এবং সাহায্যের জন্য আকুতি করতে দেখা যায়, তিনি বারবার বলছেন, 'আমাকে ছেড়ে দাও।' অন্যদিকে, এক যুবককে তাঁর হাত ধরে জোর করে ধর্মীয় মন্ত্র পাঠ করতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মহিলাটিকে প্রথমে মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করা হয়, তারপর ধর্ষণ করা হয় এবং পরে অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নির্যাতিতা মহিল একজন এয়ার ফোর্স আধিকারিকের স্ত্রী বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি গুরুতর বিবেচনা করে পুলিশ ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ব্ল্যাক ম্যাজিক আইনে মামলা দায়ের করেছে। ভাইরাল ভিডিওটি এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বামী ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কর্মরত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী নির্যাতিতার স্বামী ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কর্মরত এবং বর্তমানে অন্য একটি শহরে নিযুক্ত আছেন। নির্যাতিতা প্রপার্টি ডিলিংয়ের কাজ করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তার সহপাঠী আইয়াজ একটি প্লট কেনার অজুহাতে তার কাছে আসে এবং তাঁকে ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে যে, সে তাঁকে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করে এবং এরপর সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি তোলে।
পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্যাতিতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে বারবার যৌন শোষণ করেছে এবং তাঁর কাছ থেকে ৩.০৯ লক্ষ টাকা আদায় করেছে। ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধ্য করা হয়েছিল। এরই মধ্যে, ওই মহিলার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তকে কলমা পাঠ করতে এবং তাঁর উপর ক্রমাগত ফুঁ দিতে দেখা যাচ্ছে।
এছাড়াও, ৩১ মে অভিযুক্তরা তাঁকে নাগপুরের কালমেশ্বরে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁর সঙ্গে আমিন শেখ এবং হযরত মওলানার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়, ঐ তিনজন পুরুষ তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে তাকে ধর্মান্তরিত করার দাবি করে। এরপর তারা তাঁকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করে।
স্বামীকে পুরো ঘটনাটা বলেন
নির্যাতিতার স্বামী কাজ থেকে বাড়ি ফিরলে তিনি পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেন, যার পর সোনেগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ধর্ষণ, তোলাবাজি, ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা এবং মহারাষ্ট্র কুসংস্কার ও কালো জাদু নিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে এবং উভয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। আদালত অভিযুক্তদের পাঁচ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্ত চলছে।
এই পুরো ঘটনাটি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের ছলে কি মহিলাটিকে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল? ধর্ম পরিবর্তনের নামে কি সংগঠিত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল? পুলিশের তদন্তে জানা গেছে যে মূল অভিযুক্ত আইয়াজ তাজ মাদারে অভিযুক্তের প্রাক্তন সহপাঠী ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দুজনের পুনরায় যোগাযোগ হয়। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি প্লট কেনার অজুহাতে মহিলাটিকে একটি হোটেলে নিয়ে যায় এবং তারপর পুরো ষড়যন্ত্রটি কার্যকর হয়। মহিলা দাবি করেছেন যে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে। এখন, পলাতক ধর্মগুরুর খোঁজে পুলিশ মধ্যপ্রদেশে পৌঁছেছে।