
আমেরিকার বহুজাতিক আর্থিক সংস্থা জেপি মর্গ্যানকে ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মী তাঁর এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে আলোড়ন তুলেছে।
অভিযোগকারী ওই যুবকের দাবি, তিনি সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীন তাঁর মহিলা বস, লরনা হাজদিনি, তাঁকে জোর করে যৌন উত্তেজনা বর্ধক ওষুধ খাওয়াতেন এবং নানা ভাবে যৌন নির্যাতন করতেন। তাঁর অভিযোগ, এই নির্দেশ না মানলে বেতন বৃদ্ধি আটকে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হত। ২০২৪ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন বলেই তিনি দাবি করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রথমে সংস্থার অভ্যন্তরীণ স্তরে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পরে বিষয়টি আইনি পথে নিয়ে যান। অভিযোগকারীর পরিচয় প্রকাশ্যে না এলেও জানা গিয়েছে, তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত। ভারতীয় বা নেপালি হতে পারেন।
তবে সংস্থার তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, অভ্যন্তরীণ তদন্তে ফোন রেকর্ড, ইমেলসহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখেও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। আরও জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত আধিকারিকের হাতে অভিযোগকারীর বেতন বা পদোন্নতির ওপর সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এমনকি তাঁদের কাজের ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল না বলেই দাবি।
অন্যদিকে, লরনা হাজদিনিও তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৫ বছর ধরে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত লরনা ২০১১ সালে ডেটা অ্যানালিস্ট হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে এক্সিকিউটিভ পদে উন্নীত হন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। এতদিন পর্যন্ত কর্মজীবনে বড় কোনও বিতর্কে জড়াননি তিনি। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগের পর তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতি সরিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।