
উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের ঘন্টাঘরের সোফিয়া মার্কেটে অবস্থিত পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টে অগাস্ট মাসে অডিটের সময় ৭.৪০ কোটি টাকার জাল নোট পাওয়া গেছে। এর আগে, অগাস্টের ১০-১১ তারিখের দিকে ব্যাঙ্ক থেকে RBI-কে পাঠানো টাকায় ৪.৩৬ লক্ষ টাকার ঘাটতি ধরা পড়েছিল। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারা গঠিত তদন্তকারী দলের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি RIR দায়ের করেছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নোডাল অফিসার অরুণ কুমার চৌবের অভিযোগের পর পুলিশ এবং ব্যাঙ্ক যৌথভাবে পুরো ঘটনাপ্রবাহ এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
কীভাবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো
RBI-কে পাঠানো কারেন্সির হিসেব মেলানোর মধ্য দিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। PNB-র চিফ ম্যানেজার নিশা সিং-এর ভাষ্যমতে, অগাস্টের ১০-১১ তারিখের দিকে RBI-কে পাঠানো অর্থে ৪.৩৬ লক্ষ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাঙ্ক পর্যায়ে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। তদন্ত চলাকালে বড় তথ্য সামনে আসে, একটি বাক্সের মধ্যে প্রায় ৭.৪০ কোটি টাকার জাল নোট পাওয়া যায়।
পুলিশ ও ব্যাঙ্কের পদক্ষেপ
নোডাল অফিসার অরুণ কুমার চৌবের অভিযোগের ভিত্তিতে, সিনিয়র ম্যানেজার রবি কুমার, কারেন্সি চেস্ট ম্যানেজার সুশীল শর্মা এবং হরিয়ানার জাগাধরিতে বিভাগীয় অফিসের কারেন্সি চেস্ট ম্যানেজার অমিত কুমারের বিরুদ্ধে জাল নোট রাখার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। নগদ টাকার ঘাটতির জন্য হাউসকিপার বিশাল কুমারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্যাঙ্কটি এই ঘটনায় জড়িত চার ব্যক্তিকে বরখাস্ত করেছে।
সিসিটিভি এবং রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে
এসএসপি অভিনন্দন জানিয়েছেন যে, ব্যাঙ্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ও ব্যাঙ্ক এখন বিভিন্ন শাখা থেকে চেস্টে স্থানান্তরিত টাকার পরিমাণ, নগদ টাকার রেকর্ড, নোট প্যাকিং, গণনা এবং সমন্বয়ের প্রক্রিয়া তদন্ত করছে। এছাড়াও, চেস্টের সিসিটিভি ফুটেজও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যা জানা যাচ্ছে
চিফ ম্যানেজার নিশা সিংয়ের মতে, এই জাল নোটগুলো বাক্সে রাখা ছিল এবং কোনও শাখায় তা লেনদেন বা বিতরণ করা হয়নি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই পুরো পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। বর্তমানে, ব্যাঙ্ক তার নিজস্ব নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মামলাটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
যে প্রশ্নগুলি উঠছে
এদিকে এই বিরুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধারের ঘটনা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। ব্যাঙ্ক গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন, যদি তাদের টাকা খোদ ব্যাঙ্কের মধ্যেই নিরাপদ না থাকে, তাহলে তারা কাকে বিশ্বাস করবেন?
প্রথম প্রশ্ন হলো, এত বিপুল পরিমাণ জাল নোটের চালান কীভাবে কারেন্সি চেস্টে পৌঁছাল? ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার এবং দুজন কারেন্সি চেস্ট ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে। এত বিপুল সংখ্যক জাল নোট উদ্ধারের ফলে অন্যান্য ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টগুলোও তদন্তের আওতায় এসেছে। জাল নোট উদ্ধারের ঘটনাটি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার তদারকি এবং মুদ্রার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। কারেন্সি চেস্টে এত বিপুল পরিমাণ জাল নোটের আগমনকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে না। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই নোটগুলো ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় কোথা থেকে প্রবেশ করেছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এত বিপুল সংখ্যক জাল নোট কীভাবে মুদ্রা ভান্ডারে পৌঁছ লো। এই নোটগুলো কি অন্য কোনও ব্যাঙ্কের মুদ্রা ভান্ডার থেকে এসেছিল, কোনও শাখার মাধ্যমে জমা করা হয়েছিল, নাকি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মুদ্রা স্থানান্তরের সময় কোনও সমস্যা হয়েছিল? এই সমস্ত বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।