
এ যেন একবারে ফিল্মি সিক্যুয়েন্স। বাড়ির নীচতলায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। একটু খুঁজতেই সামনে এল কাঠের পাটাতন। আর সেটা সরাতেই বেরিয়ে এল সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি দিয়ে বেসমেন্টে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশের। এ যেন রাজপ্রাসাদ! সেখানে দামি আসবাবপত্র ও বিলাসবহুল জিনিসপত্রের সমাহার। হাওড়ার শিবপুর চরবস্তি এলাকায় বোমাবাজির ঘটনার তদন্তে অভিযুক্ত শামিম আহমেদের বাড়িতে গিয়ে এমন ঘটনার সাক্ষ্মী থাকল পুলিশ।
এখানেই শেষ নয়, সামাজিক মাধ্যমে বাড়ির অভ্যন্তরের কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দাবি করা হচ্ছে, গোপন একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে ওই বাড়িতেই। সেখান থেকেই প্রয়োজনে শামিম যাতায়াত করত। আর এই সব ছবি এবং পুলিশের বয়ান সামনে আসার পরই শামিমকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। এখন প্রশ্ন হল, কে এই ব্যক্তি?
শামিম কে?
পুলিশ সূত্রে খবর, শামিম আহমেদ ওরফে 'বোর' এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। আর সম্প্রতি সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে শামিম।
আসলে নির্বাচনের পরই হাওড়ার শিবপুর চরবস্তি এলাকায় হিংসা ও বোমাবাজির ঘটনা সামনে আসে। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের পর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা। তারাই এই হামলা চালায়। তাদের দাবি, স্থানীয় বিজেপির সংখ্যালঘু কর্মীদের লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ করা হয়েছিল।
আর এমন অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। তখনই নাম উঠে আসে শামিমের। এরপর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আর সেই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবাক হয়ে যায় পুলিশ। বাড়ির একবারে নিচু তলায় বেসমেন্টের খোঁজ পায় তারা। সিঁড়ি দিয়ে নেমে সেখানে পৌঁছতেই হাঁ হয়ে যায় পুলিশ। সেই জায়গায় দামি আসবাবপত্র ও বিলাসবহুল জিনিসপত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, এমন পরিস্থিতিতে শামিমের বাড়ির অভ্যন্তরের কিছু ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে গোপন সুড়ঙ্গ থাকার দাবি করা হয়।
তবে হাওড়া সিটি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইরাল ছবিগুলি সত্য হলেও বাড়ির ভেতরে কোনও গোপন সুড়ঙ্গ পাওয়া যায়নি। পুলিশের মতে, এটি এক তলা থেকে অন্য তলায় যাওয়ার জন্য তৈরি একটি সাধারণ সিঁড়ি। এর থেকে বেশি কিছু নয়।
পুলিশ সূত্র আরও জানিয়েছে, এই তল্লাশিতে একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সেখানে কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক কিছু উদ্ধার হয়নি।
অন্যদিকে শামিমের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে পলাতক বলে জানা গিছে। তাদের খোঁজ চলছে। চালানো হচ্ছে তল্লাশি। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে বাড়ির ছবি ভাইরাল করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ।