
ভোপালে রহস্যমৃত্যু ত্বিষা শর্মার। মৃত্যুর সময় ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। তবে মৃত্যুর আগে বন্ধুকে ইনস্টাগ্রামে লেখেন, 'আমি ফেঁসে গিয়েছি। তুইও যেন একই ফাঁদে পড়িস না।'
ঘটনা মধ্যপ্রদেশের ভোপালের। সেখানেই রহস্যজনকভাবে মারা যান ৩১ বছরের ত্বিষা শর্মা। নিজের ঘর থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তবে তার আগের রাতে নিজের এক বন্ধুকে মেসেজ করেছিলেন তিনি। তাঁকে লিখেছিলেন, 'আমি ফেঁসে গিয়েছি ভাই। তুই শুধু ফাঁসিস না। এখন বেশি কথা বলতে পারছি না, ঠিক সময়ে ফোন করব।'
ত্বিষার বন্ধু মীনাক্ষী উত্তরে লিখেছিলেন, 'আমি তোকে নিয়ে চিন্তায় আছি, টুকটুক। আমি তোকে খুব ভালোবাসি, আমি তোর সঙ্গে আছি।' এই চ্যাট প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
ত্বিষার নয়ডার বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভোপালের আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই ত্বিষার উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হত। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, টুইশার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
রবিবার ত্বিষার পরিবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। পরিবারের দাবি, দিল্লির AIIMS-এ নতুন করে ময়নাতদন্ত করতে হবে। সত্য সামনে না আসা পর্যন্ত তাঁরা শেষকৃত্যও করবেন না বলে জানিয়েছেন।
ত্বিষার বাবা নবনিধি শর্মার অভিযোগ, পুলিশের তদন্তে একাধিক গাফিলতি রয়েছে। তাঁর দাবি, মৃত্যুর দু’দিন পর FIR দায়ের করা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরিবারের আরও অভিযোগ, ত্বিষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, অথচ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
পরিবার জানিয়েছে, ত্বিষার বিয়ের পর ভোপাল ছেড়ে নয়ডায় ফিরে যেতে চাইছিলেন। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। টুইশার ভাই হর্ষিত শর্মা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত।
পুলিশ জানিয়েছে, পণপ্রথা, নির্যাতন এবং প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে টুইশার স্বামী সমর্থ সিং ও তাঁর মা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে SIT গঠন করা হয়েছে। গিরিবালা সিং আগাম জামিন পেয়েছেন। সমর্থ সিংয়ের আগাম জামিনের শুনানি ১৮ মে হওয়ার কথা।