
Fake Doctor Scam: যৌনক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ। অশ্লীল ভিডিয়ো দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়। গুজরাতের রাজকোটে এমনই তিনটি অবৈধ কল সেন্টারের হদিস পেয়েছে পুলিশ। ২২ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও পাঁচ জনের খোঁজ চলছে। এই চক্রের ফাঁদে প্রায় ২,০০০ মানুষ পড়েছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে সেই সংখ্যা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
কীভাবে প্রতারণা?
পুলিশের অভিযোগ, ধৃতেরা ভুয়ো পরিচয়ে নিজেদের চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন। যৌনক্ষমতা বাড়ানোর আয়ুর্বেদিক ওষুধ এবং ভিটামিন বি১২ বিক্রির নামে অনলাইনে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তাঁরা। তার পর অশ্লীল ছবি বা ভিডিয়ো পাঠিয়ে ওষুধ কিনতে চাপ দেওয়া হত। কেউ কিনতে না চাইলে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হত। অভিযোগ, এ ভাবেই টাকা আদায় করত চক্রটি।
প্রথম চক্রটির মূল অভিযুক্ত খোডিদাস মাকড়িয়া। নিজের বাড়িতেই কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে এই কাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় চক্রটি চালাতেন আহমেদ রজা মুলতানি। অভিযোগ, অর্ডার বাতিল করতে চাইলেও ক্রেতাদের আইনি পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হত।
তৃতীয় চক্রের মাথা বলে অভিযোগ হার্দিক খামভলার বিরুদ্ধে। ‘নিউরো শক্তি প্লাস’ নামে ওষুধ বিক্রির আড়ালে প্রতারণা চলত বলে পুলিশের দাবি। অভিযানের আগেই এই চক্রের কয়েক জন পালিয়ে যান।
সরকারি লোগো ব্যবহার!
তদন্তকারীদের দাবি, ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করতে ওয়েবসাইটে আয়ুষ মন্ত্রক, ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি এবং প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার লোগো ব্যবহার করা হত। দেখানো হত ভুয়ো সংবাদপত্রের কাটিং ও কাল্পনিক ক্রেতাদের ইতিবাচক পর্যালোচনাও। কোনও কোনও ওষুধে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া হত।
পুলিশ তিনটি জায়গা থেকে ১৮টি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ, ২৩টি মোবাইল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৭০০ টাকা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং গুজরাত মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই চক্র কত দিন ধরে সক্রিয় এবং কত জন প্রতারণার শিকার, তা জানার চেষ্টা চলছে।