Advertisement

Romance Scam: বাংলায় 'রোম্যান্স স্ক্যাম', এখনও পর্যন্ত ৫০০ মহিলা শিকার, ২ কোটি টাকা লোপাট

ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে প্রেমের ফাঁদ পেতে ৫০০ মহিলার সঙ্গে প্রতারণা। ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দিল্লি থেকে গ্রেফতার উত্তর ২৪ পরগনার যুবক।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • উত্তর ২৪ পরগনা,
  • 16 Apr 2026,
  • अपडेटेड 11:19 AM IST
  • ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে প্রেমের ফাঁদ
  • ৫০০ মহিলার সঙ্গে প্রতারণা
  • ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে প্রেমের ফাঁদ পেতে ৫০০ মহিলার সঙ্গে প্রতারণা। অবশেষে দিল্লির দক্ষিণ পশ্চিম সাইবার থানার জালে কুখ্যাত প্রতারক আনন্দ কুমারকে গ্রেফতার করেছে। বছর ৩৫-এর এই যুবক উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে হানিট্র্যাপিং, রোম্যান্স স্ক্যাম এবং মহিলাদের ব্ল্যাকমেল করার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রেম, বিয়ের প্রস্তাব, জরুরি চিকিৎসায় সাহায্য করা এবং মডেলিং বা নামী প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে একাধিক তরুণীর থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আনন্দ কুমারের কাছে থেকে ৪টি স্মার্টফোন, ৮টি সিম কার্ড, ৩টি ডেবিট কার্ড, ৪টি সোনার রিস্টলেট এবং ৫টি সোনার চেন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রায় ৫০০-র বেশি তরুণীকে টার্গেট করে ২ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। এর আগেও এই ধরনের অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে। 

একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ পশ্চিম সাইবার থানায় একটি E-FIR দায়ের হয়। যেখানে বলা হয়, একটি ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে বৈভব অরোরা নাম ব্যবহার করে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, তিনি প্রথমে একটি ডেটিং অ্যাপে অভিযুক্তের সঙ্গে পরিচিত হন। যেখানে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে সেই কথোপকথন চলতে থাকে ইনস্টাগ্রাম এবং তারপর একাধিক নম্বর থেকে করা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। 

অভিযুক্ত ধীরে ধীরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আবেগপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিশ্বাস আরও বাড়াতে সে আনন্দ নামে আরও একটি ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে। এই আনন্দ প্রোফাইলটিকে অভিযুক্ত নিজের বন্ধুর বলে দাবি করে। পরে সে ভুয়ো চিকিৎসার জরুরি অবস্থা এবং ব্যবসায়িক  ক্ষতির গল্প বানিয়ে অর্থ সাহায্য চায়।

ভুক্তভোগী তার কথায় বিশ্বাস করে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা পাঠান। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে জানায় যে বৈভব মারা গিয়েছে। এরপর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

Advertisement

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ সাইবার ক্রাইম টিম গঠন করা হয়। টিমের সদস্যরা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, IP লগ, মোবাইল নম্বর এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালায়। 

তদন্তে একাধিক সন্দেহজনক মোবাইল নম্বর ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয় এবং নজরদারিতে রাখা হয়। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অভিযুক্তের সঙ্গে যুক্ত দুটি মোবাইল নম্বর উত্তর ২৪ পরগনা এলাকায় সক্রিয়। এরপর পুলিশ ওই এলাকায় একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় এবং অবশেষে অভিযুক্ত আনন্দ কুমারকে গ্রেফতার করা হয়।

তার ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা যায়, সে একসঙ্গে বহু ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। পরিচয় গোপন রাখতে সে বিভিন্ন নামে ইস্যু করা সিম কার্ড এবং বারবার মোবাইল পরিবর্তনের মতো কৌশল ব্যবহার করত। 

পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, মূলত রোমান্স স্ক্যাম, হানিট্র্যাপিং এবং অনলাইন এক্সটরশনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে এই আনন্দ। বৈভব আরোরা, ড. রোহিত বেহল, আনন্দ শর্মা, শিখা, তরুণ নামগুলি ব্যবহার করে একাধিক ফেক প্রোফাইল চালাত সে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও স্ন্যাপচ্যাট এবং বিভিন্ন ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল অ্যাপে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করত। ডাক্তার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী বা ফিল্ম প্রযোজকের মতো পরিচয় দিয়ে কথোপকথন শুরু করত। আবেগপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর সে ভুয়ো আর্থিক সমস্যা, চিকিৎসা জরুরি অবস্থা, ব্যবসায়িক ক্ষতি বা পারিবারিক প্রয়োজনে টাকা চাইত। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় ৫০০-র বেশি ভুক্তভোগীকে টার্গেট করে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়েছে। অভিযুক্ত ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে পরে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করত। দিল্লি এবং গাজিয়াবাদেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement