
TCS Nashik Controversy: 'বাচ্চা হচ্ছে না? তোর বউকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দে,' এভাবেই টিম লিডের কাছে অপমানের শিকার হতেন। এমনই অভিযোগ তুললেন TCS নাসিকের এক কর্মী। এমনিতেই গত কয়েকদিনে TCS-এর এই শাখায় বলপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগে তোলপাড় হয়েছে। তারই মধ্যে এমন বিস্ফোরক দাবি তুললেন এক কর্মী। তাঁর দাবি, ২০২২ সালে তিনি টিসিএস-এর নাসিক শাখায় যোগ দেন। অভিযোগ, যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সহকর্মী ও টিম লিডরা তাঁকে টার্গেট করতে শুরু করেন। টিম লিডার তৌসিফ আত্তার এবং সহকর্মী দানিশ শেখের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, জোর করে মাথায় টুপি পরানো, নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং কালমা পাঠ করানো হত। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য করা হত। ওই কর্মীর দাবি, তাঁকে বলা হয়েছিল, সন্তান না হলে তাঁর স্ত্রীকে তাদের কাছে পাঠাতে।
উল্লেখ্য, টিসিএস নাসিক শাখার বিরুদ্ধেই এর আগে এক মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগে দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। ইতিমধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
ওই মহিলা কর্মীর অভিযোগ, তাঁকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরই আরও একাধিক কর্মী সাহস পান। পুলিশের কাছে নিজেদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন। আর সেই তালিকায় রয়েছেন এক পুরুষ কর্মীও। তাঁর অভিযোগ, বারবার তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অপমান করা হত। এমনকি রূদ্রাক্ষ পরতেন বলেও চরম অপমানের শিকার হন বলে দাবি ওই কর্মীর।
তিনি আরও দাবি করেন, তিনি নিরামিষ খান। সেটা তাঁর টিম লিডদের পছন্দ ছিল না। তাই নাইট শিফটের পর তাঁকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোর করে আমিষ খেতে বাধ্য করা হত। ২০২৩ সালে ঈদের সময় তাঁকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নামাজ পড়ানো হয় এবং সেই ছবি অফিসের গ্রুপে শেয়ার করে অপদস্থ করা হয়।
দিনের পর দিন এমন হেনস্থার শিকার হওয়ার পর তিনি প্রতিবাদ করেন। তবে তাতে হিতে বিপরীত হয়। তাঁর অভিযোগ, শারীরিক আক্রমণও করা হয়। এমনকি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
আরও একাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য, ধর্মান্তরের চাপ এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মোট ৯টি মামলা রুজু করেছে।
দেশের বৃহত্তম আইটি সংস্থার একটি শাখায় দিনের পর দিন এমন জুলুম কীভাবে চলল? HR কী করছিলেন? উঠছে প্রশ্ন। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কিনা, তার খোঁজ করা হচ্ছে।