
TCS-এর নাসিক বিপিওতে মহিলাদের যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরণের ঘটনায় ফের চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই সংস্থার এইচ আর ম্যানেজার মহিলাদের অভিযোগ জানাতে বারণ করেছিলেন। বলেছিলেন, 'এমন ঘটনা তো ঘটেই থাকে।' শুধু তাই নয়, ম্যানেজার অভিযুক্তদের পক্ষও নিয়েছিলেন।
নাসিক পুলিশের কমিশনার সন্দীপ কর্নিক জানান, ইউনিটের অপারেশনস ও HR ম্যানেজাররা নাকি এক ভুক্তভোগীকে অভিযোগ না করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। সংবাদ সংস্থা PTI সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, সাতজন পুরুষ পরিকল্পিতভাবে মহিলা কর্মীদের টার্গেট করত। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৮ জনকে (৭ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা) গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও এক মহিলা পলাতক। অভিযুক্ত মহিলা অপারেশনস ম্যানেজারকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
মহিলাদের ধর্মান্তরণের বিষয়টি সামনে আসার পর মনে করা হয়েছিল, গোটা চক্রটি কোনও চরমপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। বিদেশ থেকে টাকাও আসত। তবে নাসিক পুলিশের কমিশনার জানান, ATS ও NIA-সহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় তদন্ত চলছে। প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দায়ের হওয়া ৯ মামলার মধ্যে একটি মামলায় এক পুরুষ কর্মী ধর্মান্তরণের চেষ্টা ও কর্মক্ষেত্রে হেনস্থার অভিযোগ করেছেন। এর আগে ৮ জন মহিলা কর্মী মানসিক ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। HR তাঁদের অভিযোগে কর্ণপাত করতেন না বলেও অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহকর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করত। অধিকাংশ মামলায় পুরুষ অভিযুক্তরা সহ-অভিযুক্ত। তার থেকে পরিষ্কার, একটি টিম হয়ে কাজ করত অভিযুক্তরা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এক মহিলা ডেপুটি কমিশনারসহ মহিলা পুলিশ কর্মীদের দিয়ে অফিসে তদন্ত চালানো হয়। কাউন্সেলিংয়ের পর আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী সামনে আসেন। তাঁরাও একই অভিযোগ করেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।